কার্শিয়াং বনবিভাগের ডাউহিলের সবুজ পাইন জঙ্গলে ফের দেখা মিলল কুচকুচে কালো হরিণের। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শুরুতে প্রথম ওই প্রাণীর দেখা মিলেছিল। কার্শিয়াং বনবিভাগের ডিএফও দেবেশ পাণ্ডে সেটি ক্যামেরা বন্দি করেছিলেন। এবার ট্রেকিং করার সময় ডাউহিলের জঙ্গলে কালো হরিণের দেখা পেলেন এক পর্যটক। ১৬ বছর আগে দার্জিলিংয়ের সিঞ্চল জঙ্গলে ওই বিরল প্রাণীর দেখা মিলেছিল। কয়েকমাসের ব্যবধানে ফের কালো হরিণের দেখা পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত বন আধিকারিকরা।
বনদপ্তরের কর্তারা জানান, মেলানিজম নামে জিনগত পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত কালো পিগমেন্টেশনের ফলে এদের গায়ের রং কুচকুচে কালো হয়। এদের মেলানিস্টিক হরিণ বলা হয়ে থাকে। প্রায় দশ লক্ষ স্বাভাবিক হরিণের মধ্যে মাত্র একটি হরিণের দেহে এমন বিরল পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যায়।
বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন কয়েক আগে বাঘিরা ট্রেইল জয়রাইড শেষ করে ডাউহিলের গভীর জঙ্গলে ট্রেকিং করার সময় একটি কালো রঙের হরিণকে ঘুরে বেড়াতে দেখে অবাক হয়ে যান এক পর্যটক। প্রাণীটিকে ক্যামেরা বন্দি করেন তিনি। একাধিক ছবি তোলেন। এরপর সেই ছবি ভাইরাল হতে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে সেখানে। কার্শিয়াং বনবিভাগের ডিএফও দেবেশ পাণ্ডে বলেন, “এটি অত্যন্ত খুশির খবর। এর আগে পাহাড়ি জঙ্গলে একাধিকবার বিরল কালো চিতাবাঘের দেখা মিললেও কালো হরিণের দেখা মেলা ঐতিহাসিক ঘটনা। পরপর দু’বার এই হরিণের দেখা মেলার ঘটনা প্রমাণ করছে কার্শিয়াং জঙ্গলের পরিবেশ ওদের প্রজননের জন্য অনুকূল।”
বনদপ্তরের কর্তারা জানান, মেলানিজম নামে জিনগত পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত কালো পিগমেন্টেশনের ফলে এদের গায়ের রং কুচকুচে কালো হয়। এদের মেলানিস্টিক হরিণ বলা হয়ে থাকে। প্রায় দশ লক্ষ স্বাভাবিক হরিণের মধ্যে মাত্র একটি হরিণের দেহে এমন বিরল পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যায়। এই প্রাণীগুলো মূলত সাধারণ বার্কিং ডিয়ার অথবা মায়া হরিণ। ২০১০ সালে দার্জিলিংয়ের সিঞ্চল জঙ্গলে মেলানিস্টিক হরিণ দেখা গিয়েছিল। কিন্তু রাজ্য বন দপ্তরের ইতিহাসে এভাবে প্রকাশ্যে কালো হরিণ ঘুরে বেড়ানোর ঘটনা এর আগে কখনও রেকর্ড করা হয়নি। একই এলাকায় পরপর মেলানিস্টিক বার্কিং ডিয়ারের উপস্থিতিতে একদিকে যেমন খুশি অন্যদিকে উদ্বেগ বেড়েছে বনকর্তা মহলে। কারণ, এই ধরনের বিরল হরিণ আন্তর্জাতিক চোরাশিকারিদের লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে। এজন্য ডাউহিল ও সংলগ্ন জঙ্গল এলাকায় নজরদারি বাড়াতে গঠন করা হয়েছে বিশেষ টহলদারি দল। জঙ্গল এলাকায় বাড়তি সতর্কতা জারির পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত বনকর্মী।
