ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রত্যাশা মতোই নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি প্রথম একাদশে জায়গা পেল বৈভব সূর্যবংশী। এশিয়ান গেমস ফাইনালের পর আবার জাতীয় দলের জার্সি পরে মাঠে নামার সুযোগ পেল ১৫ বছরের ব্যাটার। চোট পাওয়ায় শনিবারের ম্যাচ থেকে ছিটকে গিয়েছেন ঈশান কিশন। তাঁর জায়গাতেই ভারতের প্রথম একাদশে এসেছে বৈভব।
১৫ বছরের ব্যাটার খেলার সুযোগ পাবে কিনা, তা নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। তার আগ্রাসী ব্যাটিং দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছে ক্রিকেটজনতা। এই উন্মাদনা বৈভবের ক্ষতি করতে পারে বলে আশঙ্কা ভারতীয় দলের ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাকের। ভারতীয় দলের অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার জানিয়েছেন, তিন নম্বরে ব্যাট করবে বৈভব। অর্থাৎ, ঈশানের জায়গাতেই খেলানো হবে তাঁকে।
বৈভবকে আগলে রাখার চেষ্টা করে ভারতীয় শিবির। কোচ, সাপোর্ট স্টাফ, সিনিয়র ক্রিকেটার সকলে মিলে বৈভবকে সম্পূর্ণ চাপ মুক্ত রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু বৈভবকে নিয়ে সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীদের উন্মাদনা, প্রত্যাশা তাঁদের নিয়ন্ত্রণে নেই। তা নিয়েই আশঙ্কায় রয়েছেন কোটাক। নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির আগে সংবাদমাধ্যমকে ভারতীয় দলের ব্যাটিং কোচ বলেছেন, ‘‘বৈভবের বয়স খুব কম। আমাদের দলের সকলে ওকে আগলে রাখে। আমি নিরপেক্ষ ভাবে পর্যবেক্ষণ করার চেষ্টা করি। দুর্দান্ত প্রতিভা। এ জন্যই সাধারণ মানুষ ওকে ভালবাসে। সমাজমাধ্যমেও বৈভবকে নিয়ে প্রচুর আগ্রহ। আমরাও ওকে ভালবাসি। কিন্তু ক্রিকেটপ্রেমীরা একজনকে ভালবাসে বলেই প্রথম একাদশে পরিবর্তন করা যায় না। বৈভব অত্যন্ত প্রতিভাবান। ওর সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে। নিয়মিত সুযোগ পেতে শুরু করলে এবং প্রথম একাদশে থিতু হয়ে গেলে আরও অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাবে।’’
এর পরই ১৫ বছরের ব্যাটারকে নিয়ে আশঙ্কার কথা শোনা গিয়েছে কোটাকের মুখে। তিনি বলেছেন, ‘‘শুরুতে মনে হচ্ছিল, ওকে খেলাতে হবে। খেলাতেই হবে— এমন একটা প্রচার চলছিল। তখন আমার মনে হয়েছিল, এত অল্প বয়সের এক জন ক্রিকেটারকে নিয়ে এই রকম প্রচার খুব ভাল নয়। ওর বয়স সবে ১৫। সকলে বলছেন, ওকে খেলাতেই হবে। তার পরও প্রথম একাদশে সুযোগ না পেলে ওর মনে একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিষয়টা খুবই কঠিন হতে পারে। এই ধরনের প্রচার আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। তবুও বলব এটা ঠিক নয়। দুঃখজনক।’’
বৈভবকে খেলানো না নিয়ে তিনি আরও বলেছেন, ‘‘আমাদের যে ওপেনারেরা ভাল পারফর্ম করছে, তাদের হঠাৎ করে বাদ দিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। তাতে ওদের উপর অবিচার করা হবে। কেন ওদের কারও পরিবর্তে খেলানো হচ্ছে না? এমন প্রশ্ন তোলা হয়। যাঁরা ক্রিকেট বোঝেন, তাঁদের অন্তত বোঝা উচিত। এই ধরনের প্রচার কি সত্যিই একজন ক্রিকেটারের উপকার করে? নাকি শুধু লোক দেখানোর জন্য এগুলো করা হয়?’’
বৈভবের প্রশংসা করে কোটাক বলেছেন, ‘‘ও এখন অনেক পরিণত। খেলার গতিপ্রকৃতি বুঝতে পারে। বৈভব নিশ্চই খেলতে চায়। ওর জায়গায় আমি থাকলে, আমিও খেলতে চাইতাম। এটাই স্বাভাবিক। এর মধ্যে কোনও অন্যায় নেই। কিন্তু দলে ১১ জনই থাকতে পারে। সঞ্জু স্যামসন এবং অভিষেক শর্মা কেমন খেলছে, সেটাও সকলে দেখতে পাচ্ছেন। বৈভব খুব সহজ-সরল ছেলে। কখনও কোনও অভিযোগ করে না। মাঠের বাইরেও ওর মানসিকতা দুর্দান্ত। ফিল্ডিং, ব্যাটিং, ফিটনেস নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে। সিনিয়রদের কাছ থেকে সব সময় শেখার চেষ্টা করে।’’
নিউ জ়িল্যান্ডের পিচ এবং আবহাওয়ায় বৈভবের ব্যাট করতে সমস্যা হবে বলে মনে করেন না কোটাক। ব্যাটিং কোচ জানিয়েছেন, ১৫ বছরের কিশোর প্রচুর অনুশীলন করেছে। পিচের বাউন্সের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
