হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে অনেকেই খাবারের তালিকায় পরিবর্তন আনেন, নিয়মিত ব্যায়াম করেন কিংবা কম চর্বি ও চিনিযুক্ত খাবার বেছে নেন। কেউ কেউ ওজন কমাতে খাবার খাওয়া কমিয়ে দেন, আবার কেউ পর্যাপ্ত ঘুমের সময়টুকুও ব্যায়াম বা কাজের পেছনে ব্যয় করেন। এসব অভ্যাসকে স্বাস্থ্যকর মনে হলেও কিছু ক্ষেত্রে তা হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।
১. ফলের রস ও স্মুদি পান করা
ফল হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী হলেও গোটা ফল খাওয়া আর ফলের রস পান করা এক বিষয় নয়। ফলের রস তৈরির সময় আঁশের বড় অংশ বাদ পড়ে যায়। ফলে এতে থাকা চিনি দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে ওজন বৃদ্ধি, প্রদাহ এবং ট্রাইগ্লিসারাইড বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
চিকিৎসকদের মতে, বাজারে বোতলজাত কিছু স্মুদিতে সাধারণ কোমল পানীয়ের মতোই বেশি চিনি থাকতে পারে। তাই ফলের রসের বদলে গোটা ফল খাওয়া ভালো। স্মুদি তৈরি করতে চাইলে বাড়িতে ফলের সঙ্গে সবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ উপাদান ব্যবহার করা যেতে পারে।
২. কম চর্বি ও চিনিমুক্ত খাবারের ওপর নির্ভরতা
খাবারের প্যাকেটে ‘লো-ফ্যাট’ বা কম চর্বি এবং ‘সুগার-ফ্রি’ বা চিনিমুক্ত লেখা থাকলেই সেটি স্বাস্থ্যকর, এমন ধারণা ঠিক নয়। কম চর্বিযুক্ত খাবারের স্বাদ বজায় রাখতে উৎপাদকেরা অতিরিক্ত চিনি, সোডিয়াম কিংবা পরিশোধিত শ্বেতসার যোগ করতে পারেন। আবার চিনিমুক্ত লেখা থাকলেও কোনো খাবার অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত হতে পারে, যা বারবার খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাড়াতে পারে।
তাই প্যাকেটের সামনের বিজ্ঞাপননির্ভর দাবি দেখে খাবার কেনা উচিত নয়। উপাদানের তালিকা ও পুষ্টিগুণের তথ্য ভালোভাবে পড়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
৩. বিশ্রাম ছাড়াই অতিরিক্ত ব্যায়াম
হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে নিয়মিত ব্যায়ামের বিকল্প নেই। তবে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়া অতিরিক্ত কষ্টসাধ্য ব্যায়াম করলে হৃদযন্ত্র ও রক্তসঞ্চালন ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়তে পারে। এতে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি হৃদস্পন্দনের ছন্দে অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকরা সপ্তাহে প্রায় ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রমের লক্ষ্য নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি বিশ্রামের দিন রাখা এবং বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট কিংবা মাথা ঘোরার মতো লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
৪. ক্যালরি কমাতে খাবার বাদ দেওয়া
ওজন কমানোর জন্য অনেকেই সকালের নাশতা বা অন্য কোনো বেলার খাবার বাদ দেন। কিন্তু এতে উলটো ক্ষুধা বেড়ে গিয়ে পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলতে পারে। রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত ও সুষম খাবার খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
৫. খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামকে গুরুত্ব দিয়ে ঘুম উপেক্ষা করা
স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুমও হৃদযন্ত্রের সুস্থতার জন্য জরুরি। চিকিৎসকদের মতে, রাতে সাত ঘণ্টার কম ঘুম উচ্চ রক্তচাপ, ওজন বৃদ্ধি এবং হৃদরোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের কারণে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো হরমোনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে অতিরিক্ত খাওয়া কিংবা ব্যায়াম এড়িয়ে চলার মতো ক্ষতিকর অভ্যাস তৈরি হতে পারে।
হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে চিকিৎসকরা নিয়মিত ব্যায়াম ও সুষম খাবারের পাশাপাশি রাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দিয়েছেন। মানসিক চাপ কমাতে স্বস্তিদায়ক পরিবেশে হাঁটা, গভীর শ্বাস নেওয়া এবং বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোও সহায়ক হতে পারে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস