ভৌগোলিক দূরত্ব হাজার হাজার মাইল, কিন্তু শরতের কাশফুলের দোলা আর ঢাকের আওয়াজে দূরত্ব মুছে যায় নিমেষেই। সেই আবেগকে সঙ্গী করেই এ বার এক দশকের মাইলফলক ছুঁতে চলেছে নেদারল্যান্ডসের প্রবাসী বাঙালিদের অন্যতম সেরা ঠিকানা ‘আনন্দধারা’। দশম বর্ষের এই শারদোৎসবকে স্মরণীয় করে রাখতে তাদের এ বারের থিম—"কালস্রোত"। ভারতের প্রাচীন ভাস্কর্যকলাকে ভিত্তি করে গড়ে উঠছে উৎসবের মণ্ডপ। বহমান সময়ের বুকে ভারতীয় ঐতিহ্য ও জীবন্ত ইতিহাসকে তুলে ধরাই এই ভাবনার মূল সুর।
থিমের আধুনিকতা থাকলেও পুজোর আধ্যাত্মিক আবহে কোনও খামতি নেই। বিশুদ্ধ পঞ্জিকা ও শাস্ত্রীয় আচার মেনে মহাসপ্তমীর নবপত্রিকা প্রবেশ, অষ্টমীর সন্ধিপূজা ও পুষ্পাঞ্জলি, নবমীর হোম-যজ্ঞ থেকে দশমীর সিঁদুরখেলা— প্রতিটি পর্বই অনুষ্ঠিত হবে নিষ্ঠায়। উৎসবের দিনগুলিতে প্রবাসের সকাল থেকে রাত মুখরিত থাকবে গান, নাটক ও নানা ধরনের অনুষ্ঠানে। খুদেদের জন্য থাকছে বিশেষ প্রতিযোগিতা।
তবে ভোজনরসিক বাঙালির উৎসব ভূরিভোজ ছাড়া অসম্ভব। আনন্দধারার দশম বর্ষ উপলক্ষে নেদারল্যান্ডসে উড়ে আসছেন বিশেষ বাঙালি শেফ। সকালের ধোঁয়া ওঠা লুচি-ছোলার ডাল থেকে শুরু করে পুজোর ভোগ, আর আড্ডার পাতে বিরিয়ানি থেকে চিংড়ি মালাইকারি—সবই থাকছে মেনুতে। এমনকি কলকাতার রাস্তার স্বাদ ফিরিয়ে আনতে থাকছে গরম মোগলাই পরোটা, রোল আর ফুচকার বিশেষ স্টল।
পরবাসে ঘরের গন্ধ মেখে মাতিয়ে তোলার এমন আনন্দযজ্ঞে সামিল হতে প্রস্তুত গোটা ইউরোপের প্রবাসী বাঙালি।
এই প্রতিবেদনটি আনন্দ উৎসব ফিচারের একটি অংশ।
