কৃষক, ছাদবাগানপ্রেমী ও গাছপ্রেমীদের জন্য কৃষিসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা এক প্ল্যাটফর্মে দেওয়ার লক্ষ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী আদনান শাহ আবির তৈরি এআই-সমন্বিত ডিজিটাল কৃষি হেল্পডেস্ক ‘গাছের ডাক্তার’।
নিজের এই উদ্ভাবন নিয়ে ডেভেলপার আদনান বলেন, “বর্তমানে কৃষি বিষয়ক কয়েকটি অ্যাপ থাকলেও ‘গাছের ডাক্তার’ কিছুটা ব্যতিক্রম।অধিকাংশ প্ল্যাটফর্ম একটি বা দুটি নির্দিষ্ট সেবার ওপর কেন্দ্রিক হলেও আমরা কৃষকের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সেবা এক জায়গায় আনার চেষ্টা করেছি।"
কৃষক, ছাদবাগানপ্রেমী ও সাধারণ গাছপ্রেমীদের কৃষিভিত্তিক সকল সমস্যার নির্ভুল সমাধান দেওয়াই এই প্ল্যাটফর্মটির প্রধান লক্ষ্য।এই অ্যাপটিতে যুক্ত করা হয়েছে ১২টিরও বেশি ডিজিটাল ফিচার।
‘গাছের ডাক্তার’ অ্যাপটিতে রয়েছে ‘স্মার্ট ভিশন এআই রোগ স্ক্যানার’। কৃষকরা কেবল আক্রান্ত পাতার বা ফলের একটি স্পষ্ট ছবি তুললেই মুহূর্তের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আক্রান্ত স্থানের দাগ ও ক্ষতের বিন্যাস বিশ্লেষণ করে রোগের নাম, কারণ ও প্রেসক্রিপশন তৈরি করে দেয়।এই অ্যাপটি ব্যবহার করতে কৃষকদের আলাদা করে লেখা-পড়ার প্রয়োজন নেই। যেসব কৃষক পড়তে বা লিখতে পারেন না, তাদের জন্য রয়েছে ‘লাইভ ভয়েস সহকারী’ ফিচার যেখানে মুখে সমস্যার কথা বললে তাৎক্ষণিক সমাধান দিবে।এমন কি অ্যাপটি কৃষকদের আঞ্চলিক ভাষায় মুখে কথা বলেও তাৎক্ষণিক পরামর্শ পাওয়া যায়।
ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির সেন্টিনেল-২ স্যাটেলাইটের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কৃষকরা ঘরে বসেই ফসলের সবুজতা, আর্দ্রতা ও জমির দুর্বল অংশের আগাম সতর্কবার্তা পান।
সাধারণ প্ল্যাটফর্মের মতো এটি কেবল রোগের নাম জানিয়েই দায়িত্ব শেষ করে না।রোগ প্রতিরোধে জৈব ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিকে প্রাধান্য দেয়। রাসায়নিক ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ওষুধের কমার্শিয়াল নামের পাশাপাশি মূল সক্রিয় উপাদান উল্লেখ করা থাকে, যাতে দোকানিরা কৃষককে বিভ্রান্ত করতে না পারেন। এমনকি ১০ লিটারের ড্রামে ঠিক কত চা-চামচ বা বোতলের ক্যাপ মেপে ওষুধ গুলতে হবে-তার সহজ হিসাবও প্রেসক্রিপশনে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে চাষ হওয়া ৫৯টিরও বেশি ফসলের শত শত রোগবালাইয়ের তথ্য নিয়ে এর বিশাল লোকাল ডেটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। এতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, বারি ও বিনার অনুমোদন ও আপডেট তথ্য যুক্ত রয়েছে। সিন্ডিকেটের হাত থেকে কৃষককে বাঁচাতে এতে যুক্ত রয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ৬৪ জেলার দৈনিক সরকারি বাজারদর। পাশাপাশি, কোনো জটিল সমস্যায় বিনামূল্যে সরাসরি পেশাদার কৃষিবিদদের নিকট থেকে পরামর্শ নেওয়ার জন্য 'ডিজিটাল টোকেন' ও কমিউনিটি ফোরামের সুব্যবস্থাও রয়েছে।
আদনান বলেন,"সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা পেলে 'গাছের ডাক্তার' হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের কৃষিতে সত্যিকারের ডিজিটাল অল-ইন-ওয়ান সমাধান, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকের অর্থনৈতিক মুক্তিতে স্থায়ী ভূমিকা রাখবে।"
