মো. জাকির হোসাইন, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ২নং চরবংশী আলতাফ মাষ্টার ঘাট ছিল মানুষের বিনোদনের একমাত্র স্থান। ঈদ-পূজা কিংবা ছুটির দিনে ভিড় জমতো শত শত মানুষ। শিশুদের খেলাধুলা, তরুণদের আড্ডা আর বড়দের হাঁটার জন্য এটি ছিল স্বস্তির জায়গা। আশপাশে জমজমাট ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে উঠেছিল ঘাটকে কেন্দ্র করে।
বিগত কয়েক বছর ধরে তীব্র নদী ভাঙনে ঘাটটি ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। একসময়কার জমজমাট পর্যটন কেন্দ্র এখন শুধুই স্মৃতি। মাঝেমধ্যে জিওব্যাগ ফেলা হলেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ঘাট রক্ষা করা যায়নি।
আল আমিন নামে স্হানীয় এক শিক্ষক বলেন,“আমাদের শৈশব-যৌবনের স্মৃতি এই ঘাট। এখন শুধু নদীর ভাঙন আর দীর্ঘশ্বাস।”
হোটেল ব্যবসায়ী মফিজ খাঁ জানান,“ঘাট থাকার কারণে দোকানপাট জমজমাট ছিল। এখন ভাঙনের কারণে ব্যবসা প্রায় বন্ধ।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বহুবার দাবি করা হলেও প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেয়নি। উন্নয়ন প্রকল্পের কাগজপত্রে কাজ হলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো বাস্তবায়ন দেখা যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি আলতাফ মাষ্টার ঘাটকে সরকারি পর্যটন কেন্দ্র ঘোষণা।এবং স্থায়ী নদীভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে উন্নয়ন করলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে ।
আলতাফ মাষ্টার ঘাটের অস্তিত্ব এখন স্মৃতির পাতায় সীমাবদ্ধ। দ্রুত উদ্যোগ না নিলে রায়পুরের একমাত্র পর্যটন কেন্দ্র চিরতরে হারিয়ে যাবে। প্রশ্ন থেকেই যায়—কবে সচেতন হবে কর্তৃপক্ষ?
ছবির ক্যাপশনঃ রায়পুরের ঐতিহ্যবাহী আলতাফ মাষ্টার ঘাটের জায়গায় এখন শুধু মেঘনার ভাঙন—স্থানীয়দের বুকভরা হাহাকার।
