পাইকগাছায় সাদা সোনায় পথ দেখাচ্ছেন “জিকে রিপন” : সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় কর্মসংস্থান

খুলনার শহরতলি রায়ের মহলের সন্তান গোলাম কিবরিয়া রিপন। সাধারণ চাকরির পেছনে না ছুটে শুরুতেই ভেবেছিলেন ব্যতিক্রম কিছু করার।
২০০১ সালে ঐতিহ্যবাহী সরকারি ব্রজলাল (বিএল) কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেই নেমে পড়েন পারিবারিক ব্যবসার ধারা ধরে রাখতে। তবে গণ্ডি শুধু শহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি; ব্যবসায়িক সম্ভাবনার খোঁজে পা বাড়ান উপকূলীয় এলাকা পাইকগাছা ও কয়রায়। সূক্ষ্ম সূতার মতো চিংড়ি পোনা দিয়ে যে যাত্রার শুরু, আজ তা রূপ নিয়েছে এক বিশাল সাফল্য গাথায়।
পাইকগাছা পৌর সদরে ‘রয়্যাল ফিশ ট্রেডিং’ নামে বাগদা চিংড়ির পোনা বিক্রির প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন রিপন। মানসম্মত পোনা সরবরাহের গুণে দ্রুতই প্রতিষ্ঠানটি ওই অঞ্চলে আস্থা অর্জন করে। এরপর ২০০৮ সালে চাষে সরাসরি যুক্ত হতে লিজ নেন ১৫০ বিঘা জমি। শুরু হয় ‘সাদা সোনা’ খ্যাত চিংড়ি চাষের স্বপ্নবুনন।
ধীরে ধীরে বাড়ে ব্যবসার পরিধি। বর্তমানে পাইকগাছা উপজেলায় তার এক হাজার ৮’শ বিঘার ৬টি ঘেরে শুধু বাগদা নয়, উৎপাদিত হচ্ছে গলদা, হরিণা, চাকা চিংড়ির পাশাপাশি পারশে ও ভেটকি মাছ। বিশাল এই মৎস্য খামারে প্রতিদিন কাজ করছেন স্থায়ী-অস্থায়ী মিলে প্রায় ৩’শ শ্রমিক-কর্মচারী। ফলে সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় কর্মসংস্থান, সুযোগ তৈরি হয়েছে নারীদেরও।
উৎপাদনে ধারাবাহিক সাফল্য এনে দেয়া এই উদ্যোক্তা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় পাঁচ কোটি ২০ লাখ টাকার চিংড়ি উৎপাদন করেছেন। খুলনা অঞ্চলের মৎস্য খাতে তার এই উদ্ভাবনী অগ্রগতি দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে আজ অসংখ্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা আধুনিক মাছ চাষে ঝুঁকছেন। প্রতিকূল জলবায়ু ও নানান প্রতিকূলতাকে পাশ কাটিয়ে জিকে রিপন আজ উপকূলের অন্য চাষিদের জন্য এক অনুকরণীয় মডেল। তার এই প্রচেষ্টা দেশের রফতানি আয় বাড়াতে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বদলে দিচ্ছে স্থানীয় অর্থনীতির চিত্রও।
কাজের স্বীকৃতি হিসেবে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্বের সম্মান কুড়িয়েছেন তিনি। চিংড়ি উৎপাদনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় মৎস্য সপ্তাহে পেয়েছেন স্বর্ণপদক, যা দেশের উপকূলীয় মৎস্য খাতে এক নতুন প্রেরণা জুগিয়েছে।
জিকে রিপন বলেন, চিংড়ি চাষের মূল অনুষঙ্গ মানসম্মত রেনু-পোনা। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই এগোতে হয়। এক্ষেত্রে মৎস্য বিভাগের আধুনিক দিকনির্দেশনা বড় ভূমিকা রাখে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে আমাদের চিংড়ি শিল্পকে বিশ্বমানের পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া সম্ভব।
এই বিভাগের আরো খবর






