নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী যাত্রা মোহন সেন হলের (জে এম সেন হল) দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি। তাঁর আগমন ঘিরে পূজামণ্ডপে সাজসজ্জা সম্পন্ন হয়েছে। নেওয়া হয়েছে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত আয়োজকেরা।
১৯৯৩ সালে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চট্টগ্রামে এসেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। প্রায় তিন দশক পর মায়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রামের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে আসছেন তারেক রহমান। আয়োজকদের প্রত্যাশা, তাঁর এই সফর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের বার্তা দেবে।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের আন্দরকিল্লা মোড়সংলগ্ন রহমতগঞ্জে জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপের ভেতরে ও বাইরে সাজসজ্জার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রবেশপথে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শুভেচ্ছাবার্তা সংবলিত ফটক নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ। প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে এবং তাঁকে স্বাগত জানাতে সেখানে ভিড় বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের।
বেলা পৌনে ১২টার দিকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা পূজামণ্ডপে পৌঁছান। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। রহমতগঞ্জে পূজামণ্ডপে প্রবেশের সড়কে ডাইভারশন রাখা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা প্রধানমন্ত্রীর। বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে সরাসরি জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তাঁর।
চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি সাংবাদিকদের বলেন, স্বাধীনতার পর চট্টগ্রামের শারদীয় দুর্গোৎসবে কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের আগমন তাঁদের জন্য বিশেষ ঘটনা। তারেক রহমানের আগমনকে তাঁরা গৌরবের বিষয় হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা পূজা কমিটির পাশাপাশি চট্টগ্রামের যারা সনাতনী আছি, সবাই খুব খুশি এবং সবাই এটাকে গৌরবের বিষয় মনে করছি। আমরা সবাই আনন্দিত। প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ সম্মান দেখিয়ে স্বাগত জানাব।’
অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি আরও বলেন, ‘উনার কাছে আমাদের প্রত্যাশা একটাই—আমরা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ চাই, হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই যাতে এ দেশে একপ্রাণ হয়ে থাকতে পারি, মিলেমিশে থাকতে পারি, সেটাই উনার কাছে আমরা চাইব।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জে এম সেন হলে প্রবেশের পর প্রধানমন্ত্রী পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। এরপর মঞ্চের সামনে বসবেন। সেখানে দুটি নৃত্য পরিবেশনা ও গীতাপাঠের আয়োজন রয়েছে। পরে প্রধানমন্ত্রীকে উত্তরীয় ও স্মারক উপহার দিয়ে সম্মাননা জানানো হবে। এ সময় তাঁকে একটি বৃক্ষ উপহার দেওয়ারও কথা রয়েছে। এরপর তিনি বক্তব্য দেবেন।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে নগরের র্যাডিসন ব্লু হোটেলে অনুষ্ঠেয় সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এতে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা অংশ নেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে নগর ও জেলায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসএসএফের পাশাপাশি পুলিশ, এসআরবি, আনসার ও বিজিবির সমন্বয়ে চার স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

