আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুড়িগঙ্গা নদীতে বড়সড় দুর্ঘটনা! নদীতে জল কম থাকায় চড়ায় ধাক্কা লেগে উল্টে ডুবে গেল মালপত্র বোঝাই পণ্যবাহী নৌকা। শনিবার সকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায় নদীপথে। নৌকায় থাকা মাঝি-সহ পাঁচজন কর্মী নদীতে পড়ে গেলেও দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হওয়ায় প্রাণে রক্ষা পান সকলেই। নদীতে থাকা অন্যান্য নৌকার কর্মীদের তৎপরতা এবং সাগর থানার পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে বড়সড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ কাকদ্বীপ থেকে মালপত্র বোঝাই করে কচুবেড়িয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল ‘সাগর সম্রাট’ নামে পণ্যবাহী নৌকাটি। গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় মুড়িগঙ্গা নদীর মাঝামাঝি এলাকায় বিপত্তি ঘটে। নদীতে জল কম থাকায় নৌকাটি চড়ায় ধাক্কা খায়। এরপর ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে নদীর জলে ডুবে যায় সেটি। আচমকা এই দুর্ঘটনায় বিপদের মুখে পড়েন নৌকায় থাকা কর্মীরা।
ঘটনাটি নজরে আসতেই দ্রুত উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন আশপাশে থাকা অন্যান্য নৌকার কর্মীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সাগর থানার পুলিশও। সকলের সম্মিলিত তৎপরতায় নৌকায় থাকা মাঝি-সহ পাঁচজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হওয়ায় বড়সড় প্রাণহানি এড়ানো গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর দ্রুত পদক্ষেপ করে সাগর থানার পুলিশ প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, খবর পাওয়ার মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে নামে পুলিশ। সাগর থানার এসআই বিল্লমঙ্গল নস্কর-সহ অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকেরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। নদীতে থাকা অন্যান্য নৌকার কর্মীদের সহযোগিতায় বিপন্ন পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশের এই তৎপরতায় স্বস্তি ফেরে দুর্ঘটনাস্থলে।
জানা গিয়েছে, ‘সাগর সম্রাট’ নামে ওই পণ্যবাহী নৌকাটির মালিক সাগরের শিবপুর এলাকার বাসিন্দা শ্যামল মণ্ডল। নৌকার মাঝি ছিলেন ঝন্টু চরণ দাস। নৌকাটিতে বিভিন্ন ধরনের মালপত্র বোঝাই ছিল। দুর্ঘটনার পর নৌকাটি নদীতে ডুবে যাওয়ায় তার মধ্যে থাকা মালপত্র জলে ভেসে যেতে দেখা যায়।
কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাপ্রাথমিক অনুমান, নৌকাডুবির জেরে কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে। তবে ঠিক কত টাকার মালপত্র নষ্ট হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ডুবে যাওয়া নৌকাটি উদ্ধার করা সম্ভব হবে কি না, পাশাপাশি নদীতে ভেসে যাওয়া মালপত্রের কতটা উদ্ধার করা যাবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। মুড়িগঙ্গা নদী সুন্দরবন ও গঙ্গাসাগরের যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন এই নদীপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণ চলে। ফলে জলস্তর কম থাকলে চড়ায় ধাক্কা লাগার মতো দুর্ঘটনা এড়াতে নৌযান চলাচলে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।
এদিনের দুর্ঘটনার পর পণ্যবাহী নৌকার নিরাপত্তা এবং নদীপথে চলাচলের সতর্কতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে মাঝি-সহ পাঁচজন কর্মীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে। দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া অন্যান্য নৌকার কর্মী এবং সাগর থানার পুলিশের তৎপরতায় বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো গিয়েছে।
