মেদবহুল শরীর নিয়ে সমাজে অনেক নারীকে কটূক্তি বা বডি শেমিংয়ের শিকার হতে হয়। সেই মোটা শরীরকে বোঝা নয়, স্বপ্নের জোর বানিয়েই জয় করা যায় মানুষের হৃদয়। তেমনই এক কাহিনি নিয়ে বলিউডের পর্দায় প্রথমবারের মতো দেখা দিয়েছে নারী সুমো রেসলার। ভারতের প্রথম নারী সুমো রেসলার হেতাল দাবের জীবনীনির্ভর একটি মাস্টারপিস সিনেমা, যা বিনোদনপ্রেমীদের মধ্যে এরই মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলেছে।
পরিবার কিংবা নিজের মনের অজান্তে জমে থাকা হীনম্মন্যতার কঠিন ও জীবনঘনিষ্ঠ প্রশ্নগুলো নিয়েই সিনেমার পর্দায় হাজির হয়েছে এক অসাধারণ বায়োগ্রাফিক্যাল স্পোর্টস ড্রামা ‘সুমো দিদি’। পরিচালক জয়ন্ত রোহতগির তার প্রথম সিনেমাতেই অত্যন্ত কঠিন বিষয়কে যেভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এর শুরুটা এমনভাবে করা হয়েছে, যা দেখে দর্শকের মনে হতে পারে এটিই বুঝি ক্লাইমেক্স!
ক্রিকেট, শাদি ও বডি শেমিংয়ে ভরপুর এই সমাজে এমন একজন মেয়েকে নিয়ে এই গল্প, যিনি সমাজের সব প্রতিবন্ধকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজের স্বপ্নকে ছুঁতে চেয়েছিলেন। শূন্য অবকাঠামো এবং সুযোগ-সুবিধার অভাব সত্ত্বেও তিনি ভারতকে এমন একটি খেলায় প্রতিনিধিত্ব করেছেন, যা দেশের আর কোনো নারী এর আগে পেশাদারভাবে খেলেননি।
মুখ্য চরিত্রে শ্রীয়া ভগণানি যেন সত্যিকারের হেতাল দাবে হয়ে প্রাণ ফিরিয়েছেন। এই অত্যন্ত শারীরিক পরিশ্রমসাধ্য চরিত্রের জন্য তিনি মাসের পর মাস কঠোর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। কোনো মেকআপ বা জমকালো ডিজাইনার পোশাক ছাড়াই তিনি কতটা উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয় হতে পারেন, তা তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন।
এ ছাড়া হেতালের বন্ধু ও কোচের ভূমিকায় চৈতন্য শর্মা দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন। প্রয়াত অভিনেতা নীতেশ পান্ডেকে হেতালের বাবার চরিত্রে দেখা যাবে। অন্যদিকে, অতি ওজনদার মেয়েকে দ্রুত বিয়ে দেওয়ার জন্য উদ্বিগ্ন মায়ের চরিত্রে অনুভা ফতেহপুরার অভিনয় বেশ জমজমাট। জাপানি মাস্টার তাওসির ভূমিকায় কাজুমাসাসাতোসহ অন্যান্য শিল্পীরাও নিজেদের সেরাটা দিয়েছেন।
‘সুমো দিদি’ সিনেমাটির কিছু আবেগঘন মুহূর্ত দর্শককে যেমন হাসাবে, কাঁদাবে; তেমনি হেতালের জন্য গলা ফাটাতে বাধ্য করবে। এটি শুধু একটি সিনেমা নয়; বরং সমাজের গতানুগতিক ধারণার বিরুদ্ধে এক চরম প্রতিবাদ। যারা বড় স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি একটি মাস্ট-ওয়াচ সিনেমা!
সূত্র: ফ্রি প্রেস জার্নাল
