ভাবিকা মঙ্গলানন্দন।ছবি সৌজন্যে: X
Published on
:
1 min read
রাষ্ট্রপুঞ্জে সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে পাকিস্তানের সমালোচনার জবাবে কড়া বার্তা দিল ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য, নিজেদের দেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ পাকিস্তানের ভারতকে এ বিষয়ে উপদেশ দেওয়ার কোনও অধিকার নেই। রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি ভাবিকা মঙ্গলানন্দন ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বিশেষ পরিস্থিতিতে মৃতদেহ সৎকারের অধিকার নিয়ে আলোচনায় পাকিস্তানের অবস্থান এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের একটি প্রতিবেদন—দু’টিরই সমালোচনা করেন।
রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন
কোভিড-১৯ অতিমারির সময় ধর্মীয় বৈষম্য ও সৎকারের অধিকার নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে প্রশ্ন তোলেন মঙ্গলানন্দন। তাঁর বক্তব্য, প্রতিবেদনে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে বৈষম্যের ঘটনা তুলে ধরা হলেও উন্নত দেশগুলিতে একই ধরনের ঘটনার উল্লেখ নেই।
এ নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘কোভিডের সময় সমস্ত বৈষম্য ও অনিয়ম যেন শুধু গ্লোবাল সাউথেই ঘটেছিল। উন্নত দেশগুলিতে একই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার উল্লেখ না করে এই প্রতিবেদন কী লাভ করছে?’
সন্ত্রাসবাদীদের অধিকার বনাম নিহতদের অধিকার
সন্ত্রাসবাদীদের সৎকারের অধিকার নিয়ে প্রতিবেদনের বক্তব্যেরও সমালোচনা করে ভারত। মঙ্গলানন্দনের কথায়, ‘এক জন সন্ত্রাসবাদী নিরীহ মানুষকে হত্যা করে, পাশাপাশি একটি দেশের মানসিকতাকেও আঘাত করে। মানুষের সবচেয়ে পবিত্র অধিকার হলো বেঁচে থাকার অধিকার। তা যাঁরা কেড়ে নেন, তাঁদের অধিকারের পক্ষে যতটা জোরালো সওয়াল করা হয়, সন্ত্রাসের শিকারদের জন্য ততটা করা হয় না।’
কার্গিল যুদ্ধের প্রসঙ্গ
১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, পাকিস্তান সেই যুদ্ধে নিহত নিজেদের কয়েক জন সেনার দেহও গ্রহণ করেনি। অথচ এখন তারাই ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সৎকারের অধিকার নিয়ে জোরালো বক্তব্য রাখছে। মঙ্গলানন্দনের দাবি, ‘ভারতীয় সেনাবাহিনীই পাকিস্তানের কয়েক জন সেনাকে সামরিক মর্যাদায় এবং ইসলামি রীতি মেনে কবর দিয়েছিল।’
পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি
ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা কমছে এবং তাঁদের অধিকার নিয়মিত লঙ্ঘিত হচ্ছে। মঙ্গলানন্দন বলেন, ‘যে রাষ্ট্র নিজের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, ভারতকে উপদেশ দেওয়ার কোনও অধিকার তার নেই।’ পাকিস্তানের অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শও দেয় ভারত।
