ডেস্ক রিপোর্ট: জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদাকে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীকে আরও দক্ষ, পেশাদার ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
১৮ অক্টোবর রোববার সকালে সাভার সেনানিবাসে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
নিজের স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে তিনি সেনা পরিবেশেই বেড়ে উঠেছেন। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীর হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে প্রত্যেক সদস্যকে নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পতাকার মান ও মর্যাদা রক্ষা করা প্রতিটি সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব।
আরও পড়ুন: সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩ স্পট পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী
সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সময়ে এই বাহিনীর সুনাম ও পেশাদার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার ষড়যন্ত্র হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাসের সঙ্গে সেনাবাহিনীর ভূমিকা গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। ১৯৭১ সালের উত্তাল সময়ে ‘উই রিভোল্ট’ উচ্চারণের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সৈনিকদের ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।
বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনীতি ও সামরিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং যুদ্ধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।
দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেশেই উৎপাদনের উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশা অনুযায়ী ‘এক পদ, এক পেনশন’ নীতি বাস্তবায়নের বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় আত্মমর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না বাংলাদেশ। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব বন্ধুরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা হবে।
এটিভি/এসআইআর
