একজন শ্রমিকের অকালমৃত্যুতে শুধু একটি কর্মক্ষম প্রাণই ঝরে যায় না, বরং চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে তার পুরো পরিবার। শ্রমিকদের এমন দুর্দিনে তাদের পাশে দাঁড়ানো সরকার, শ্রমিক সংগঠন ও সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। রোববার বিকেলে সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের কল্যাণ তহবিল থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় ও নানা কারণে মারা যাওয়া ২০ জন শ্রমিকের পরিবারের মধ্যে আর্থিক অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে পরিবহন খাতে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী ২০টি পরিবারের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। প্রিয়জন হারানোর শোকের পাশাপাশি তীব্র আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়া এসব পরিবারের জন্য এই সহায়তা দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানোর একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে।
পরিবহন খাতের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সিসিক প্রশাসক বলেন, একজন কর্মক্ষম মানুষ পরিবার থেকে চিরতরে হারিয়ে গেলে তার ওপর নির্ভরশীল স্ত্রী, সন্তান ও বৃদ্ধ বাবা-মায়েরা গভীর সংকটে পড়েন। বিশেষ করে পরিবহন খাতের ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশে অসতর্কতা ও বিভিন্ন দুর্ঘটনার কারণে প্রায়ই শ্রমিকদের প্রাণহানি ঘটে। অনেক সময় একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ চালকও অন্য চালকের অসতর্কতা কিংবা অদক্ষতার শিকার হয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মুখে পড়েন। তাই এসব দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমান প্রশাসন সবসময় শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করছে উল্লেখ করে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বিএনপি সরকার সবসময় শ্রমিকবান্ধব নীতিতে বিশ্বাসী এবং শ্রমিকদের যেকোনো বিপদে সরকার তাদের পাশে রয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশনও পরিবহন শ্রমিকদের সুখে-দুঃখে সর্বদা তাদের পাশে থাকবে। তিনি শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণে এ ধরনের মানবিক ও কল্যাণমুখী কার্যক্রম নিয়মিত অব্যাহত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে গোয়ালাবাজার মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন, কদমতলী মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন, সিলেট-ঢাকা বাস রুট, সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক এবং সিলেট-তামাবিল সড়কের বিভিন্ন দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণকারী শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের হাতে কল্যাণ তহবিলের চেক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় নিহত শ্রমিকদের স্বজনদের উপস্থিতিতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
