ছবিঃ সংগৃহীত
রাঙামাটির সাজেকের উজোবাজার এলাকায় সড়ক অবরোধকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে সেনাবাহিনীর তিন থেকে চারজন সদস্য এবং পুলিশের দুই সদস্যসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত থেমে থেমে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে এ সংঘর্ষ চলে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাঙামাটি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব ঘটনার বিবরণ দেন। তিনি জানান, সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য উজোবাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ তুলে নিতে অবরোধকারীদের অনুরোধ জানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় অবরোধকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে সেনাবাহিনীর তিন থেকে চারজন সদস্য এবং পুলিশের দুই সদস্য আহত হন। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হলে তাঁরা পাল্টা গুলি চালান। এরপর এলাকায় থেমে থেমে গোলাগুলি চলে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উজোবাজারে সাজেক সড়কে অবরোধ চলছিল। অবরোধের কারণে সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের খাগড়াছড়ির দিকে নিরাপদে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় সড়কে থাকা প্রতিবন্ধকতা সরানোর চেষ্টা করা হলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং সংঘর্ষ শুরু হয়।
ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব জানান, বর্তমানে উজোবাজার এলাকার নিয়ন্ত্রণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে এবং সাজেকে অবস্থানরত সব পর্যটক নিরাপদে এলাকা ছেড়েছেন।
তিনি আরও জানান, সংঘর্ষের পুরো ঘটনা তদন্ত করা হবে। তদন্তে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাজেক রাঙামাটির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। সেখানে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখা গুরুত্বপূর্ণ। অবরোধ ও সংঘর্ষের কারণে পর্যটকদের চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তাঁদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি এ ঘটনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে সংঘর্ষের সূত্রপাত, অবরোধের পেছনের কারণ এবং গুলিবর্ষণের বিস্তারিত পরিস্থিতি সম্পর্কে তদন্তের মাধ্যমে আরও তথ্য জানা যেতে পারে। আপাতত এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মাতৃভূমির খবর
-20261022101911.jpg&w=1440&q=75)
