প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকারকে এ দেশের মানুষ নির্বাচিত করেছে। হতে পারে কোনো অঞ্চলে আমাদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছে, কোথাও হয়নি। কিন্তু বর্তমান সরকার এমন সরকার হতে চায়, যে ভোট দিয়েছে তারও হতে চায়। যে ভোট দেয়নি, তারও হতে চায়। অর্থাৎ, আমরা সব এলাকা, সব মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।’
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর নগরীর ধর্মসভার (রাধাগোবিন্দ মন্দির) পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত দেশের প্রতিটি সংগ্রামে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে লড়েছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা যখন যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করেছিলাম, তখন কিন্তু আমরা কোনো ধর্ম দেখিনি। বিভিন্ন ধর্মের, বিভিন্ন মতের, বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ যুদ্ধের ময়দানে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিল।’
স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে মানুষ রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজপথে নেমেছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই মানুষের মধ্যেও সব ধর্ম, মত ও শ্রেণিপেশার মানুষ ছিলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতা মানুষের কাঁধে চেপে বসা স্বৈরাচারকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি ধর্মের মানুষ, প্রতিটি পেশার মানুষ সেই রাজপথে সেদিন নেমে এসেছিল তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য।
রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে সব এলাকার সমান উন্নয়নের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব এলাকার উন্নয়ন আমরা সমানভাবে করতে চাই। রাষ্ট্রের যে অর্থনৈতিক অবস্থা আছে, তা বিবেচনায় নিয়ে সব এলাকায় সমবণ্টন করে উন্নয়ন করতে চাই।’
এ লক্ষ্যে রংপুর মহানগরীর উন্নয়নে দুই সপ্তাহ আগে এক সভায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে জেলা পরিষদকে দিয়ে রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে মানুষের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, যেমন সেতু, কালভার্ট, স্কুল ও কলেজ পর্যায়ক্রমে গড়ে তোলা হবে। যাতে মানুষ রাষ্ট্রের সব সুযোগ-সুবিধা পেতে পারে।
উন্নয়নের কাজগুলো করতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং ভেদাভেদ ভুলে হাত ধরে এগিয়ে যেতে হবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে সরকার যে ঐক্য গড়তে চাইছে, তার মধ্যে একটি মহল নানা রকম বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে একটি কথা বলতে হয়, আমরা যে ঐক্য তৈরি করতে চাচ্ছি, বর্তমান সরকার সকলকে নিয়ে যেখানে চলতে চাইছে, সেখানে একটি মহল বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।’
বিভ্রান্তকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি অতীতে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধকে কেউ একজন বিতর্কিত করতে চেয়েছিল। কোনো একটি দল বিতর্কিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু সেই ফলাফল শুভ হয়নি। একইভাবে আমরা দেখছি চব্বিশের ছাত্র-জনতার যে গণঅভ্যুত্থান, সেই গণঅভ্যুত্থানকেও কোনো কোনো মহল বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। আমি জনগণের পক্ষ থেকে বলতে চাই, দয়া করে আপনারা কেউ চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করবেন না।’
