Published on
:
2 min read
নিতাই রক্ষিত
বিএমডব্লিউ কিনতে ১০ লক্ষ টাকা চেয়ে মোটেই স্ত্রী বা তাঁর বাপের বাড়ির উপরে চাপ দেননি রণদীপ। সেই বিলাসবহুল গাড়ি তিনি নিজের টাকাতেই কিনেছেন। কিন্তু স্ত্রী স্নেহা চক্রবর্তীর তাতে মত ছিল না। তা নিয়েই দু’জনের ঝগড়া হয় এবং তার পরে তরুণী আত্মহত্যা করেছেন বলে বুধবার মেদিনীপুর আদালতে দাবি করলেন রণদীপের আইনজীবী।
গত ৮ অক্টোবর মেদিনীপুর শহর সংলগ্ন যমুনাবালিতে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয় স্নেহার দেহ। এই ঘটনার পরের দিন গ্রেপ্তার হন স্বামী রণদীপ এবং শ্বশুর রতন জানা। চার দিনের পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বুধবার রণদীপকে মেদিনীপুর আদালতে হাজির করানো হয়েছিল। বিচারক আবার তাঁকে চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। রতন জেল হেফাজতেই রয়েছেন। আদালতে রণদীপের আইনজীবী মৃণাল চৌধুরী জানিয়েছেন, বালি ব্যবসায়ী রণদীপ যে নিজের টাকাতেই বিএমডব্লিউ কিনেছেন, তা স্নেহার বাপের বাড়ির অভিযোগপত্রেও রয়েছে। রণদীপের কাছ থেকে দু’টি মোবাইল ছাড়া আর কিছুই বাজেয়াপ্ত করতে পারেনি। সেই মোবাইল দু’টির সঙ্গেও এই মামলার সরাসরি যোগ নেই।
আদালত চত্বরে রণদীপের এক আত্মীয়েরও দাবি, ওর যা টাকা রয়েছে, ও বিলোতে পারে। স্নেহাকে উপহার দেওয়ার জন্যই বিএমডব্লিউ গাড়িটি কেনা হয়েছিল। আর সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু লোকজন উল্টোপাল্টা মন্তব্য করে চলেছে। আদালত নিশ্চয়ই বিচার করবে। আশা করছি, প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।’ অন্য দিকে, স্নেহার বাবা ধ্রুব চক্রবর্তীর অভিযোগ, ‘বিয়েতে মেয়েকে প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকার গয়না দেওয়া হয়েছিল। স্নেহার মায়ের গয়নাও স্নেহা ব্যবহার করত। সেগুলোও নেই। আমাদের মেয়ের মৃত্যুর যেন সঠিক বিচার হয়।’
প্রসঙ্গত, গত ৯ অক্টোবর স্নেহার বাপের বাড়ির তরফে যে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয় থানায়, তাতে বলা হয়েছিল, গত ৭ অক্টোবর রাতে রণদীপ বাড়িতে নতুন গাড়ি (বিএমডব্লিউ) কিনে এনেছিলেন। কিন্তু তাতে স্নেহার মত ছিল না। সে দিন রাতে রণদীপ স্নেহা নিজের বন্ধুবান্ধবদের সামনে অপমান, এমনকী মারধরও করেন। শুধু রণদীপই নন, তাঁর এক বন্ধু বাশারকে স্নেহাকে কুমন্তব্য করেছেন। রণদীপ তাঁর প্রতিবাদও করেননি। অতীতেও তাঁদের মেয়েকে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে জানিয়েছেন স্নেহার বাপের বাড়ির লোকেরা।
বাশারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা বলেন, ‘যাঁদের নামে অভিযোগ, তাঁদের মধ্যে ২ জন ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। অভিযুক্ত ছেলেটির মা, ভাই এবং বন্ধু বাশারকে পুলিশ খুঁজছে। আরও কিছু বিষয় জানার জন্য রণদীপ জানাকে ফের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’
