যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের বিগ বেন্ড অঞ্চলে সীমান্ত দেয়াল নির্মাণের কাজ আবার শুরুর অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মেক্সিকো সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে নেওয়া এ প্রকল্পের কাজ নিম্ন আদালতের নির্দেশে বন্ধ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জরুরি আবেদন করে ওই নির্দেশ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।
পরিবেশবাদী একটি সংগঠনসহ কয়েকটি পক্ষের করা মামলার কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন ফেডারেল আদালতের একজন বিচারক। মামলাটির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার ওই নির্দেশ স্থগিত বা বাতিল করতে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনায় বিগ বেন্ড জাতীয় উদ্যানের ভেতরে ও আশপাশে যানবাহন চলাচল ঠেকানোর প্রতিবন্ধক, টহল সড়ক, আলোর ব্যবস্থা এবং সীমান্ত অতিক্রম শনাক্ত করার প্রযুক্তি স্থাপনের কথা রয়েছে।
বিগ বেন্ড অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০৫ কিলোমিটার বা ৫০০ মাইল। প্রকল্পের বিরোধীদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের গ্রেপ্তারের মোট ঘটনার মাত্র ১ শতাংশ এ অঞ্চলে ঘটে। তাই সেখানে সীমান্ত দেয়াল নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
প্রকৃতির দৃশ্য ও ঐতিহাসিক গির্জা রক্ষার দাবি
প্রকল্পের বিরুদ্ধে করা মামলায় বাদীদের মধ্যে রয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠন সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটি এবং বিগ বেন্ড এলাকার একজন নদীপথের গাইড। তারা ওই অঞ্চলের প্রাকৃতিক দৃশ্য সংরক্ষণ ও একটি ঐতিহাসিক গির্জা রক্ষার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে পরিবেশ ও ঐতিহাসিক স্থাপনা সুরক্ষাসংক্রান্ত আইন থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া ছাড়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছেন তারা।
প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭০ কোটি ডলার। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েম এবং বর্তমান মন্ত্রী মার্কওয়েন মুলান গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে বিভিন্ন আইন থেকে ছাড় দেন। তাদের মূল্যায়ন ছিল, ওই অঞ্চল অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এ কারণে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে আরো প্রতিবন্ধক নির্মাণ প্রয়োজন।
গত ২ অক্টোবর টেক্সাসের এল পাসোর ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক ক্যাথলিন কার্ডোন নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। আদেশে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সব প্রযোজ্য আইন মেনে না চলা পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে।
পরে দেওয়া আরেকটি মতামতে বিচারক কার্ডোন বলেন, নোয়েম ও মুলান যে আইনি ছাড় দিয়েছেন, তা তাদের ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
এরপর বিচার বিভাগ সুপ্রিম কোর্টের কাছে ওই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত অথবা বাতিল করার আবেদন জানায়। তবে এ আবেদনের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
আবেদনে বিচার বিভাগ যুক্তি দিয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আইন থেকে ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রশ্ন উঠলেও সীমান্ত প্রতিবন্ধক নির্মাণ এবং দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করতে আইনি বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা কংগ্রেস স্পষ্টভাবেই মন্ত্রীকে দিয়েছে।
এর আগে গত আগস্টে বিগ বেন্ডে নির্মাণকাজ স্থগিত করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। জাতীয় উদ্যানের প্রাকৃতিক দৃশ্য ও বন্য প্রাণীর ওপর প্রকল্পটির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে দুই দলের রাজনীতিকদের সমালোচনার মুখে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এএম
