যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ও আলাবামা অঙ্গরাজ্যে হারিকেন ইসাইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ের আঘাতে ব্যাপক বিদ্যুৎবিভ্রাট, ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি, ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি কেটে গেলেও এখনো বিভিন্ন এলাকায় বিপজ্জনক অবস্থা বিরাজ করছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঝড়-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ফ্লোরিডায় ছয়জন এবং আলাবামায় দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলীয় এলাকায় শক্তিশালী বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও বন্যার কারণে নানা ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস বলেন, ‘আগেও এমন পরিস্থিতিতে আরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আমার মনে হয়, এবার মানুষ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারাও ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে ভালো ভূমিকা রেখেছেন।’
গভর্নর ডিস্যান্টিস জানান, ফ্লোরিডায় ঝড়-সংশ্লিষ্ট ছয়টি মৃত্যুর মধ্যে ঝড়ের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ—দুই ধরনের কারণই রয়েছে।
এসকাম্বিয়া কাউন্টিতে ঝড়ের সময় একটি গাছ বাড়ির ওপর ভেঙে পড়লে এক নারীর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, পেনসাকোলায় গ্যারেজের ভেতরে জেনারেটর ব্যবহারের কারণে কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর পরিবারের আরও চার সদস্যকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ফ্লোরিডায় বাকি মৃত্যুর ঘটনাগুলোর মধ্যে গাছ অপসারণের সময় একটি দুর্ঘটনা, ট্রাফিক সিগন্যাল অচল থাকা অবস্থায় একটি মোড়ে গাড়ি দুর্ঘটনা এবং চিকিৎসাসেবায় বিঘ্ন ঘটার কারণে দুজনের মৃত্যুর ঘটনা রয়েছে।
আলাবামার বার্মিংহামে শনিবার সকালে একটি গাছ বাড়ির ওপর ভেঙে পড়লে একজনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া জেফারসন কাউন্টিতে আরও একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর কে আইভি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি কর্মকর্তারা।
হারিকেনের পরবর্তী পরিস্থিতি আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, ঝড় চলে যাওয়ার পরও বিপজ্জনক অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে।
কর্মকর্তারা বাসিন্দাদের জেনারেটর খোলা জায়গায় ব্যবহার করার এবং ভেঙে পড়া গাছ ও বিদ্যুতের তার থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
সূত্র: ওয়েদার
