স্কুলে শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ, ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের সমন্বয়ে সুন্দর একটি মেলবন্ধন তৈরি করে পিছিয়ে পড়া কলেজের সার্বিক উন্ননের ফলেই ১০০ গুণী শিক্ষকের মাঝে স্থান করে নিয়েছেন নরসিংদীর মনোহরদী খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: নাজিম উদ্দিন।
প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে তিনি পেয়েছেন সম্মাননা। তার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা পাওয়ায় খুশি সব শ্রেণি পেশার মানুষ। তাদের প্রত্যাশা বাকি জীবন কলেজের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখা।
জেলার কৃষি সমৃদ্ধ উপজেলা মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো: নাজিম উদ্দিন ২০২৬ সালে জাতীয় শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেশের ১০০ গুণী শিক্ষকের তালিকায় স্থান পেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর হাত থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন। তাঁর এই সম্মাননা প্রাপ্তিতে খুশি স্থানীয়রা।
এর আগে তিনি মনোহরদী উপজেলা, নরসিংদী জেলা ও ঢাকা বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করায় সারাদেশ থেকে ১০০ গুণী শিক্ষকের মাঝে স্থান লাভ করেছেন। বিগত ৫ অক্টোবর তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন।
২০০৪ সালেও তিনি মনোহরদী উপজেলা পর্যায়ে সেরা কলেজ শিক্ষক হিসেবে সম্মাননা লাভ করেন। খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজে গণিতের প্রভাষক হিসেবে ২০০৪ সালে যোগদানের পর বেশকিছু সম্মাননাও অর্জন করেছেন। মো: নাজিম উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে ২০২৪ সালে যোগদানের পর নিয়মিত পাঠদান, খেলাধুলা, অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা বেষ্টনীসহ সিসি ক্যামেরার আওতায় পর্যবেক্ষণ এবং কলেজ ক্যাম্পাসকে সবুজে ভরপুর রেখেছেন।
এছাড়া কলেজের বেশকিছু জমি অবৈধ দখল মুক্ত করাসহ নিজ কর্মগুণেই তার এই প্রাপ্তি বলে জানান কলেজের সকল শ্রেণি পেশার মানুষ।
গুণী শিক্ষক মো: নাজিম উদ্দিন ১৯৭১ সালের ১১ জানুয়ারী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মনোহরদী উপজেলার চরমান্দালিয়া মজিন্দপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ফতেহ আলী ও মায়ের নাম সাহেদা খাতুন।
শিক্ষা জীবনে মো: নাজিম উদ্দিন ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেন। ১৯৮৭ সালে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান শাখায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ১৯৮৯ সালে কটিয়াদী ডিগ্রী কলেজ থেকে বিজ্ঞান শাখায় পরীক্ষা দিয়ে এইচএসসিতে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতক ও সম্মান শেষ করেন।
১৯৯৮ সালে মনোহরদী বড়চাপা কলেজে গণিতের প্রভাষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। এই কলেজে কর্মরত থাকাবস্থায় ২০০৪ সালে জাতীয় শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক (কলেজ পর্যায়) মনোহরদী উপজেলায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন।
একই বছর তিনি গণিতের প্রভাষক হিসেবে মনোহরদী খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজে যোগদান করেন এবং ২০২৪ সালে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। ২০২৫ সালে জাতীয় শিক্ষক দিবস উপলক্ষে মনোহরদী উপজেলায় শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক (কলেজ পর্যায়) হিসেবে নির্বাচিত হন।
সর্বশেষ ২০২৬ সালে জাতীয় শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান মনোহরদী উপজেলা, নরসিংদী জেলা এবং ঢাকা বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন শেষে দেশসেরা ১০০ গুণী শিক্ষকের তালিকায় স্থান করে নেন। জাতীয় শিক্ষক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গত ৫ অক্টোবর ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে গুণী শিক্ষকের সম্মাননা গ্রহণ করেন।
বড় ছেলে মো: ইয়াহহিয়া কোরআনে হাফেজ হওয়ার পাসাপাসি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে বর্তমানে মিশরে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে।
দ্বিতীয় ছেলে আহমেদ শাকের রিয়ান কোরআনে হাফেজ শেষ করে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি ও এইচএসসি শেষ করে খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে স্নাতক প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছে। সবার ছোট একমাত্র মেয়ে নাবিহা তাহছিন রিমশা খিদিরপুর মডেল একাডেমীর শিক্ষার্থী।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: নাজিম উদ্দিন গুণী শিক্ষকের অন্যতম অর্জনের মধ্যে মানবিক বিভাগে ভর্তি হতে আসা আল ইমরানকে তিনি বিজ্ঞানে ভর্তি করিয়েছেন এবং জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। পরে আল ইমরান লেখাপড়া শেষ করে স্কলারশিপ নিয়ে আমেরিকায় পাড়ি জমান এবং আমেরিকায় নাসার গবেষক হিসেবে যোগদান করেন।
কলেজের শিক্ষার্থীদের দাবি নাজিম স্যার অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর নিয়মিত পাঠদান, সিসি ক্যামেরায় পর্যবেক্ষণ, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা চলমান রাখা, স্কাউট ও গার্লস গাইডসহ কলেজের দেয়াল নির্মাণ ও ভবন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হক জানান, স্কুলের সুস্থ্য পরিবেশ বজায় রাখার পাসাপাসি লেখাপড়ার মান উন্নয়ন এবং কলেজের বেশকিছু জমি দীর্ঘদিন অবৈধদখল থেকে মুক্তকরায় অধ্যক্ষ স্যারের সাহসি ভূমিকার কথা বলতেই হয়। এই স্যারের মাঝে এমন কিছু গুণাগুণ রয়েছে যার কারণে তিনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের সঙ্গে চমৎকার একটি মেলবন্ধন তৈরি করতে পেরেছেন। তার নিজ গুণেই তিনি গুণী শিক্ষক হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষে আব্দুল হক জানান, তিনি কলেজে যোগদানের পর থেকেই কলেজের শিক্ষার্থীদের পারদর্শী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার চেষ্টার ফলেই আজ তিনি গুণী শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে গুণী শিক্ষক মোঃ নাজিম উদ্দিন জানান, প্রথমবারের মতো শিক্ষকদের জাতীয়ভাবে সম্মান জানাতে তিনি এই প্রথম দেশের ১০০ গুণী শিক্ষককে সরকারিভাবে সম্মাননা জানিয়েছেন। তারমধ্যে নিজের নামটি থাকায় জানান কৃতজ্ঞতা।
তিনি জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষ, মনোহরদী ও জেলাবাসীর অর্জন এটা। চাকরি জীবনের বাকি সময়টা সম্মাননা অক্ষুন্ন রেখে কলেজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান।
