ছড়া মাল্টিকালার কষ্ট
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->বরষার প্রথম কদম, মাল্টিকালার
কাঠগোলাপ মেঘের শুভ্র পালক
শ্রাবণ যৌবন, বর্ষাস্নাত সকাল
একটা কর্দমাক্ত মেঠোপথ
সুনীল আকাশ সবকিছু ঝাঁপিয়ে
আমি ছুটছি মহুয়া মাতাল সমীরণে।
পিছুটান নেই, যৌবনের মহাসংগীত নেই,
কোনো প্রতিশ্রুতি কিংবা কথা দিয়ে এসেছি
যেতে হবে বহুদূর, নেই কোনো ললনার হাতছানি
নেই কোনো কথার ফুলঝুঁরি প্রেমের।
অথচ, বর্ষা এলে শ্রাবণ মেঘের ঘনঘটা
আমি হকচকিয়ে নেমে পড়ি
হাঁটুসম কর্দমাক্ত সিক্ত জলে,
অতঃপর স্নান সেরে জোড়া শালিকের
মতো পাখা ঝাঁপটিয়ে উৎফুল্লতা ছড়াই।
বর্ষার শ্রাবণ ধারায় আমার যৌবনসঙ্গী
চিরচেনা বলেশ্বরকে চিনতে কষ্ট হয়,
সেও নবযৌবনে মধুমতীকে কাছে ডাকে।
এই বরষা এই শ্রাবণ এই ঘনকালো মেঘ
আমার জীবনে শোক ও দ্রোহের।
আমি মধুমতীর দিকে চোখ তুলে
তাকাতে শরম পাই,
দেখি রক্তগঙ্গা স্রোত নেমে
এসেছে ওর বুকচিরে।
গতকাল ভোররাতে একটা দাঁড়কাক
সিঁথানে বসে বেসুরো কণ্ঠে ডেকেই যাচ্ছে,
সাত সকালে আমি পাই তাঁর শোকবার্তা
একটা মাস শ্রাবণ একটা বর্ষা পাশাপাশি
শোক ও দ্রোহের হয়ে ওঠার গল্প আমৃত্যু।
আরও পড়ুন
ছড়া অলৌকিক সবুজের কাছে সে
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->সে আসে আমার কাছে গোধূলির ভাঙা শঙ্খধ্বনির মতো,
অতল অন্ধকারে জ্বেলে দেয় নক্ষত্রের গোপন প্রদীপ,
তার পদচিহ্নে কেঁপে ওঠে বহুদিন শুকিয়ে থাকা ঘাস,
মৃত পাতার ভিতর জেগে ওঠে সবুজের প্রাচীন উচ্চারণ।
সে আসে–
যেন বর্ষার প্রথম বিদ্যুৎ ছিঁড়ে দিয়েছে নিস্তব্ধ আকাশ,
যেন পাহাড়ি ঝর্ণা পাথরের বুকে লিখে যাচ্ছে অবিনশ্বর প্রেম,
তার চোখে আমি দেখি বহু সহস্র বছরের জ্যোৎস্না,
দেখি সভ্যতার ধ্বংসস্তূপে জন্ম নেয়া নতুন কোনো ভোর।
সে আসে আমার কাছে ধানখেতের বাতাস হয়ে,
চিলের ডানায় ভেসে আসে দূর নদীর নোনা গন্ধ,
তার চুলে লেগে থাকে কাশফুলের নির্জন বিকেল,
তার কণ্ঠে বাজে শীতের কুয়াশায় হারানো বাঁশির সুর।
সে যখন আমার দিকে তাকায়,
সমস্ত নগরীর জানালাগুলো হঠাৎ আলোয় ভরে ওঠে,
ঘুমন্ত রাস্তারা খুলে দেয় তাদের পুরোনো ইতিহাস,
ভাঙা সেতুর নিচে জেগে ওঠে জলের গোপন কান্না।
সে আসে–
আর পৃথিবীর সমস্ত পরাজয় হঠাৎ অর্থহীন লাগে,
রক্তাক্ত সময়ের ভিতরও জন্ম নেয় শাপলার নির্মল শুভ্রতা,
আমি তার ছায়ায় শুনি আদিম বৃষ্টির ডাক,
শুনি মানুষের হৃদয়ে এখনো বেঁচে আছে প্রেম।
সে আসে আমার কাছে বারবার,
যেন সমুদ্র ফিরে আসে চাঁদের অদৃশ্য টানে,
যেন অরণ্যের গভীরে জেগে ওঠে বুনো হরিণের চোখ,
সে আসে–
আর আমার সমস্ত শূন্যতা ভরে ওঠে
অলৌকিক জীবনের অবিরাম সবুজে।
আরও পড়ুন
ছড়া স্ক্রল করতে করতে
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১২ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->প্রতিদিন আঙুলের নিচে পৃথিবী বদলে যা
–যুদ্ধ, মৃত্যু, নির্বাচন, ধর্ষণ, বন্যা; তারপর
একটি বিড়ালের ভিডিও।
আমরা দু’সেকেন্ড থেমে শোক করি, তিন
সেকেন্ড পরে বিজ্ঞাপনে চলে যাই।
মানুষের কান্নাও এখন অ্যালগরিদম বুঝে প্রচারিত হয়।
যে মৃতদেহ বেশি দেখা হয়, সে-ই বেশি
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ।
স্ক্রল করতে করতে একদিন নিজের মৃত্যুর
খবরও হয়তো পাশ কাটিয়ে যাব।
স্ক্রিন তখন জিজ্ঞেস করবে–তুমি কে?
আরও পড়ুন
পাবনার বিশ্ববিজ্ঞান কেন্দ্র অবহেলা-অযত্নে
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০২ পিএম
বিংশ শতাব্দীর গোড়ার
দিকে যখন বিজ্ঞানচর্চা
বিশ্বজুড়ে ক্রমশ
নতুন নতুন দিগন্তৎ
উন্মোচন করছে, তখন
পাবনার এক অখ্যাত
গ্রাম্যপল্লি হিমাইতপুরে
গড়ে উঠেছিল একটি
বিজ্ঞানসাধনার কেন্দ্র- হিমাইতপুর সৎসঙ্গ
বিশ্ববিজ্ঞান কেন্দ্র। আনুমানিক ১৯২৪
সালের দিকে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের
তত্ত্বাবধানে সাধারণ গ্রামবাসীর সহযোগিতায়
প্রায় তিন বিঘা জায়গার ওপর গড়ে ওঠে
এই দ্বিতল কেন্দ্র। প্রত্যন্ত পল্লিতে এমন
একটি বিজ্ঞানকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার চিন্তা সে সময়
নিঃসন্দেহে ছিল বিলাসিতা। প্রত্যন্ত পল্লিতে বিজ্ঞানাগার স্থাপনের কথা শুনে অনেকেই
বিস্মিত হয়েছিলেন। অর্থের সংকট ছিল
তীব্র। সৎসঙ্গের কর্মীদেরই যখন দৈনন্দিন
জীবনে নানা অভাবের মধ্যদিয়ে চলতে
হতো, তখন একটি বিজ্ঞানাগার প্রতিষ্ঠার
পরিকল্পনা অনেকের কাছে অবাস্তব মনে
হওয়াই তো স্বাভাবিক। কিন্তু শ্রীশ্রীঠাকুরের
কাছে এটি ছিল গভীর আকাঙ্ক্ষার বিষয়।
বনজঙ্গল পরিষ্কার হলো, অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ
চলল, আর ধীরে ধীরে বাস্তবভাবে
রূপায়িত হলো বিশ্ববিজ্ঞান কেন্দ্র। একসময়
কেন্দ্রটি হয়ে ওঠে আশ্রমিক কর্মীদের বিজ্ঞান
সাধনার জন্য বেশ সমৃদ্ধ একটি স্থাপনা।
মাইক্রোস্কোপ, এক্স-রে যন্ত্র, মাইক্রোটোম,
স্পেকট্রোস্কোপ, গ্যালভানোমিটারসহ
বিভিন্ন মূল্যবান বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি
শ্রীশ্রীঠাকুর সংগ্রহ করেছিলেন। পদার্থবিদ্যা,
রসায়নশাস্ত্র, উদ্ভিদবিদ্যা, মনোবিজ্ঞানসহ
বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় গবেষণার আয়োজন
ছিল। গবেষণার জন্য পৃথক কক্ষের
পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বই সংরক্ষণের জন্য
গ্রন্থাগার স্থাপনের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।
পুরুষ কর্মীদের পাশাপাশি অনেক নারী
কর্মীও সেখানে কাজ করতেন।
একই সঙ্গে এসব স্থাপনাকে গবেষণা,
বিজ্ঞান শিক্ষা, ঐতিহ্যচর্চা কিংবা জ্ঞানকেন্দ্র
হিসেবে নতুনভাবে ব্যবহার করার কথাও
ভাবা বর্তমান সময়ে প্রাসঙ্গিক। একসময়
সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও একটি প্রত্যন্ত
গ্রামে বিজ্ঞানচর্চার স্বপ্ন বাস্তবায়িত
হয়েছিল। আজ আমাদের সামর্থ্য অনেক
বেশি। তাই প্রশ্নটা কেবল একটি পুরোনো
ভবন রক্ষার নয়; প্রশ্ন হলো আমরা
আমাদের ইতিহাস, জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্য এবং
পূর্বসূরিদের স্বপ্নের প্রতি কতটুকু দায়িত্বশীল?
বিশ্ববিজ্ঞান কেন্দ্রসহ হিমাইতপুরের
ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো তাই ধ্বংসস্তূপে
পরিণত হওয়ার আগে সংরক্ষণের উদ্যোগ
নেওয়াই হবে ইতিহাসের প্রতি আমাদের
ন্যূনতম দায়।
আরও পড়ুন
ছড়া জলবিদ্ধ স্বপ্ন
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪১ এএম
আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->সবকিছু নিমজ্জিত–
যেন সময় নিজের মুখ গিলে ফেলেছে।
তবু আমি শুনি জলের নিচে নরম গানের স্পন্দন,
একটি পদ্মফুল নিঃশব্দে উঠে আসে ঘুমের ভেতর থেকে।
তার পাপড়িতে আঁকা নক্ষত্রের মানচিত্র,
যেখানে প্রেম এক মহাকালের ক্ষুদ্র আলো।
মানুষের পরাজয়েও সে জ্বলে থাকে।
হয়তো সেই অদৃশ্য ফুলই আজ পৃথিবীর প্রাণ,
গহিনে লুকোনো ভালোবাসার শেষ স্বাক্ষর।
