যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের (লাইভ স্ট্রিম) পরিকল্পনা বাতিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথের ওই বিতর্কিত প্রস্তাব তীব্র রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিরোধিতার মুখে পড়ার পর বৃহস্পতিবার তা নাকচ করে দেন ট্রাম্প। এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে নিদাল হাসানের আগামী ৩রা ডিসেম্বরের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্যটি আর সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে না। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিজের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হেগসেথের সঙ্গে ট্রাম্পের একটি বিরল প্রকাশ্য মতভেদ সামনে এল, যদিও পেন্টাগন দাবি করেছে যে তাদের মধ্যে কোনো দূরত্ব নেই। হেগসেথ ২০০৯ সালের সেই হামলাস্থলেই ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের ঘোষণা দিয়েছিলেন। বিশ্বের কোনো দেশেই বিচারিক মৃত্যুদণ্ড এভাবে প্রকাশ্যে সম্প্রচার করার নজির নেই। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হেগসেথের এই পরিকল্পনার বিষয়ে ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা আগে থেকে অবগত ছিলেন না।
সামাজিক মাধ্যমে ডনাল্ড ট্রাম্প লিখেন, সবার দেখার জন্য মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করা হয়তো একটি কঠোর বার্তা হতে পারত যে আমেরিকা কীভাবে হাসানের মতো সন্ত্রাসী ও অপদার্থদের শায়েস্তা করে। কিন্তু অনেক ভালো ও বিবেকবান মানুষ এ ধরনের মৃত্যু সরাসরি বা কোনো ডিভাইসের মাধ্যমে দেখতে চান না। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই ফায়ারিং স্কোয়াডে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে, তবে তা সম্প্রচার করা হবে না।
মার্কিন নিয়মানুযায়ী নিহতদের পরিবারের সদস্যরা চাইলে সরাসরি উপস্থিত থেকে এই মৃত্যুদণ্ড প্রত্যক্ষ করতে পারবেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ রিপাবলিকান দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা এবং ধর্মীয় নেতারা পেন্টাগনের এই পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা ও আপত্তি জানিয়েছিলেন। জনমত জরিপেও দেখা যায়, সিংহভাগ মার্কিনী মৃত্যুদণ্ড সরাসরি দেখানোর বিপক্ষে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানান, ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে হেগসেথের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।
মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিদাল হাসান ২০০৯ সালে ফোর্ট হুড ঘাঁটির মেডিকেল সেন্টারে নিরস্ত্র সেনাদের ওপর অতর্কিত গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা এবং ৩২ জনকে আহত করেন। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে হাসান কোমর থেকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন এবং বর্তমানে তিনি হুইলচেয়ার ব্যবহার করেন। হেগসেথ যুক্তি দিয়েছিলেন, এ ধরনের জঘন্য অপরাধের পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা বিশ্বকে দেখাতেই এই সম্প্রচারের কথা ভেবেছিলেন তিনি।
