আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলাচল শুরু করা বহুল কাঙ্ক্ষিত ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনে ফেনী স্টেশন থেকে মাত্র ৪৭টি আসন বরাদ্দ থাকায় স্থানীয় যাত্রীদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই ট্রেন চালুর খবরে উপকূলীয় জেলাটির মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও, অনলাইনে টিকিট বিক্রয় শুরুর মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সব আসন শেষ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
ফেনী রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, পরিবর্তিত রুট অনুযায়ী মহানগর এক্সপ্রেসে ফেনী স্টেশন থেকে যাত্রার জন্য মোট ৬২টি আসন বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামগামী যাত্রীদের জন্য ১৫টি এবং কক্সবাজারগামী যাত্রীদের জন্য ৪৭টি আসন রাখা হয়েছে। কক্সবাজারগামী এই ৪৭টি আসনের মধ্যে ১৫টি এসি (স্নিগ্ধা), ৩০টি নন-এসি (শোভন চেয়ার) এবং দুটি কেবিনের আসন রয়েছে। তবে এই নগণ্য সংখ্যক আসন দিয়ে ফেনীর বিশাল যাত্রীচাহিদা মেটানো অসম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ইতিপূর্বে ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ও ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ চালুর পর থেকেই ফেনীর মানুষের জোরালো দাবি ছিল ট্রেন দুটির স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেওয়ার। মহানগর এক্সপ্রেসের রুট সম্প্রসারণের ফলে সেই দাবি আংশিক পূরণ হলেও টিকিটের এই কৃত্রিম সংকট ও অব্যবস্থাপনায় যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনলাইন টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম ‘সহজ ডটকম’-এর সার্ভারে টিকিট উন্মুক্ত করার সঙ্গে সঙ্গেই চোখের পলকে তা উধাও হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ যাত্রীদের পক্ষে এভাবে টিকিট সংগ্রহ করা দুরূহ হয়ে পড়ায় এর পেছনে অনলাইন টিকিট সিন্ডিকেট ও কালোবাজারিদের হাত রয়েছে বলে সন্দেহ করছেন তারা।
ক্ষোভ প্রকাশ করে শহরের বাসিন্দা অনিক বণিক বলেন, ফেনী স্টেশনের জন্য আন্তনগর ট্রেনের আসন বরাদ্দ এমনিতেই অপ্রতুল। তার ওপর সার্ভারে টিকিট ছাড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তা শেষ হয়ে গেলে সাধারণ মানুষের পক্ষে কক্সবাজার যাওয়া এক প্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। টিকিট নিয়ে যেকোনো ধরনের সিন্ডিকেট ও কালোবাজারি কঠোর হাতে দমন না করলে এই সংকটের কোনো সুরাহা হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। আরেক যাত্রী মো. রাকিব হাসান জানান, নতুন যাত্রাবিরতির খবরে তারা দারুণ আশাবাদী হলেও টিকিট না পাওয়ায় সেই আনন্দ ফিকে হয়ে গেছে। সাধারণ যাত্রীরা যেন টিকিট প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনোভাবেই বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সার্বিক বিষয়ে ফেনী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. হারুন জানান, মহানগর এক্সপ্রেসে ফেনীর যাত্রীদের জন্য মোট ৬২টি আসন নির্ধারিত রয়েছে, যার মধ্যে চট্টগ্রামগামী ১৫টি এবং কক্সবাজারগামী ৪৭টি। টিকিট কালোবাজারির অভিযোগের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, স্টেশনের কাউন্টারে টিকিট বিক্রি নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা সিন্ডিকেটের সুযোগ নেই। তাছাড়া অনলাইন টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়াটি সরাসরি স্টেশন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন নয় বিধებით এ ক্ষেত্রে তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণও নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি। ২৬ অক্টোবরের প্রথম যাত্রার জন্য স্টেশনের কাউন্টার থেকে মাত্র ৭টি টিকিট ইস্যু করা হয়েছে এবং বাকি টিকিটগুলো অনলাইনেই বিক্রি হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা। অবিলম্বে বরাদ্দকৃত আসন সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অনলাইন টিকিটিং সিস্টেমে স্বচ্ছতা আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।
