সৌদি আরবের বিমানবন্দরের ওপর ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার পর সৃষ্ট আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে কূটনীতির ওপর জোর দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফসাল বিল ফারহান আল সৌদির সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি এই আহ্বান জানান।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর আগে রবিবার (১১ অক্টোবর) টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক সমাধান উপেক্ষা করে সামরিক পথে বেছে নিলে পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করবে। আঞ্চলিক সংকটের কোনো সমাধান নেই বলে মন্তব্য করেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
গত সপ্তাহে আরাঘচি জানান, মার্কিন যুদ্ধের ‘কোনো সামরিক সমাধান নেই’ এবং ‘কেবল ‘ন্যায়বিচার ও সমতার ভিত্তিতে আলোচনা’ মাধ্যমেই এই সংঘাতের অবসান ঘটনো সম্ভব।
আরাঘচি আরো বলেন, “সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের মধ্যে আলোচনা শুরু এবং রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় যেকোনো সহযোগিতা প্রদান করতে প্রস্তুত রয়েছে ইরান।
এদিকে, শনিবার রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০০ জন আহত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করার ঘোষণা দেন।
এমনকি তিনি ইরানের ওপর পুনরায় হামলা চালানোর বিষয়টিও বিবেচনা করছেন বলে জানান, যা তার গত বৃহস্পতিবারের বক্তব্যের বিপরীত- যেখানে তিনি বলেছিলেন যে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ওয়াশিংটন ইরানের কোনো হামলা চালাবে না।
২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় দুই দেশের দূতাবাস পুনরায় চালু হয় এবং এরপর থেকে ইরান ও সৌদি আরবের কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে। এর আগে সাত বছর কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে প্রক্সি সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছিল।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রিয়াদের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান ও এর মিত্রবাহিনীগুলো সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোসহ পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক সম্পদ ও জ্বালাতি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
গত মার্চ মাসে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তেহরানকে সতর্ক করে বলেন, সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলা আর সহ্য করা হবে না এবং ইরানকে তাদের বর্তমান কৌশল অবিলম্বে পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
