আমার কাগজ-এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় আইজিপি
আমার কাগজ প্রতিবেদক
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে পুলিশ। মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজদের কোনো ধরনের ছাড় নয়। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান “জিরো টলারেন্স” বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বিপিএম। তিনি গতকাল দৈনিক আমার কাগজ পত্রিকার সাথে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা জানান।
আইজিপি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের অবস্থান “জিরো টলারেন্স” বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি। তাদের কাউকে কোন ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না, দলমত নির্বিশেষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধী যেই হোক আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইজিপি বলেন, অবৈধ অস্ত্র অপরাধ সংঘটন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। যেখানেই অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান পাওয়া যাবে, সেখানেই অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হবে। এক্ষেত্রে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান পরিচালিত হবে। এ প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রোধেও পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার সম্পর্কে আইজিপি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা লুণ্ঠিত অস্ত্রের প্রায় ৮০ ভাগের বেশি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। বাকি অস্ত্র উদ্ধারে আমাদের চলমান অভিযান আরো জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ প্রধান মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান “জিরো টলারেন্স”। তাদেরকে কোন ধরনের ছাড় দেয়া হবে না। কারো বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক্ষেত্রে দলমত নির্বিশেষে আইন প্রয়োগে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে।
মাদকদ্রব্যের ভয়াবহতা ও ক্ষতিকর দিকের কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, মাদকের অপব্যবহারের ফলে আমাদের যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমাদের আগামীর প্রজন্মকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে হবে, তাদেরকে দেশ ও জাতির যোগ্য সন্তান হিসেবে গড়ে তুলে ভবিষ্যতে দেশ গড়ার উপযোগী করতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য পরিবার এবং সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহŸান জানান। মাদকের অপব্যবহার রোধে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিং কার্যক্রমের উদাহরণ টেনে আইজিপি বলেন, কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে।
বর্তমানে চলমান শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, এবার দেশের প্রায় ৩৩ হাজার পূজা মন্ডপে নিরাপদে, নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। পুলিশ দুর্গাপূজা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করার লক্ষ্যে প্রাক পূজা, পূজা চলাকালীন এবং পূজা পরবর্তী তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে দেশের বিভিন্ন পূজামন্ডপে গভীর রাত পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর উপস্থিতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ অপরাধ দমনের পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের আগেই প্রোঅ্যাকটিভ পুলিশিংয়ের মাধ্যমে তা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এক্ষেত্রে তিনি অপরাধীদের সম্পর্কে তথ্য প্রদানের জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
আইজিপি বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে আইনশৃঙ্খলাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পুলিশ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি সুখী, সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।
The post মাদককারবারি ও চাঁদাবাজদের কোন ধরনের ছাড় নয় appeared first on দৈনিক আমার কাগজ.
