ইউরোপে পেট্রলচালিত গাড়ি বন্ধ করছে সুবারু
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->২০২৭ সালের মধ্যে ইউরোপের বাজারে পেট্রলচালিত গাড়ি বিক্রি বন্ধ করার পরিকল্পনা নিয়েছে জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সুবারু। প্রতিষ্ঠানটি ইউরোপের বাজারে বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) দিকে ঝুঁকছে।
জাপানের এই ব্র্যান্ডটির আউটব্যাক ও ফরেস্টারের মতো জনপ্রিয় মডেল বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ইউরোপে তাদের বিক্রির পরিমাণ খুব বেশি না হলেও বিশেষ করে ‘বক্সার’ ইঞ্জিনের জন্য সুবারুর রয়েছে আলাদা সুনাম। ফলে প্রচলিত জ্বালানিচালিত গাড়ি থেকে বৈদ্যুতিক গাড়িতে রূপান্তরের এই পরিকল্পনাকে অটোমোবাইল খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ইউরোপের বাজার থেকে আউটব্যাক মডেলটি সরিয়ে নেওয়া হবে। এরপর ২০২৭ সালের মধ্যে ইমপ্রেজা, ক্রসট্রেক ও ফরেস্টার মডেলগুলোর বিক্রি পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা হবে। ২০২৮ সাল থেকে ব্র্যান্ডটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে শুধু তিনটি সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক মডেল বিক্রি করবে। মডেলগুলো হলো সলটেরা, ই-আউটব্যাক ও আনচার্টেড। এসব বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রযুক্তি উন্নয়নে টয়োটার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছে সুবারু।
সুবারু জানিয়েছে, ইউরোপের কঠোর কার্বন নিঃসরণ নীতি ও নিরাপত্তাবিধির কারণে তাদের এই রূপান্তরের পথে যেতে হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন গাড়ি থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ কমাতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এছাড়া সব গাড়িতে উন্নত ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স প্রযুক্তি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তবে ভবিষ্যতে নিজেদের গাড়ির প্রযুক্তি আরও উন্নত করতে টয়োটার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের পাশাপাশি নিজস্ব বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রযুক্তিও উদ্ভাবন করবে বলে জানিয়েছে সুবারু। নতুন ব্যাটারি ও মোটরের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব বৈদ্যুতিক গাড়ির প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে। দ্রুত পরিবর্তনশীল বাজারে গ্রাহকদের উন্নত অভিজ্ঞতা দেওয়ার লক্ষ্যেই তারা এই প্রযুক্তিগত পথে এগোচ্ছে।
আরও পড়ুন
টেসলার উড়ন্ত রোডস্টার
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের রকেট প্রযুক্তির সমন্বয়ে এক নতুন প্রজন্মের ইলেকট্রিক স্পোর্টস কারের প্রোটোটাইপ উন্মোচন করেছে ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। চমকপ্রদ এই গাড়িটির নাম ‘রোডস্টার’। চলতি সপ্তাহে আয়োজিত এক জমকালো ইভেন্টে গাড়িটি প্রদর্শন করা হয়। উদ্ভাবনী নানা প্রযুক্তি দিয়ে সাজানো এই গাড়ির উৎপাদন শুরু হবে ২০২৮ সালে।
প্রথম দেখার পর এক দশকেরও বেশি সময় কেটে গেছে। তবু এই নতুন মডেলটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। উন্মোচন অনুষ্ঠানে দুই আসনের একটি সাদা রঙের রোডস্টার দেখা যায়। গাড়িটিতে একটি বিশেষ সাকশন সিস্টেম ও রকেট থ্রাস্টার যুক্ত করা হয়েছে। এটি একটি ঢালু র্যাম্প ব্যবহার করে উল্টো হয়ে চলতে সক্ষম। এমনকি শূন্যে ঘুরপাক খেয়ে আবার মাটিতে অবতরণ করতে পারে। পরবর্তী সময়ে গাড়িটি থ্রাস্টার ব্যবহার করে একটি ট্রাক ও কয়েকটি গাড়ির ওপর দিয়ে লাফিয়ে পার হতে সক্ষম হয়।
টেসলা ও স্পেসএক্সের এমন যৌথ প্রচেষ্টা প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, প্রতিষ্ঠান দুটির প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক হয়তো দুটি বড় কোম্পানিকে একীভূত করার পরিকল্পনা করছেন। এই নতুন গাড়িটির ঘোষণা আসার পর শুক্রবার প্রাক-শেয়ার বাজারে টেসলার শেয়ারের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে গেছে।
স্পেসএক্সের টেক্সাসের টেস্ট সাইটে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ছিল নাটকীয় আবহ। ধোঁয়া, যান্ত্রিক শব্দ এবং কাউন্টডাউনের মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হয় এ যানটি। অনুষ্ঠানে রুপালি বেল্ট পরা ইলন মাস্ক জানান, স্পেসএক্স ও টেসলার প্রকৌশলীরা যৌথভাবে এটি তৈরি করেছেন। সিনেমায় দেখা যায় এমন অনেক কিছুকে ছাড়িয়ে গেছে এর বাস্তব রূপ।
টেসলার প্রকৌশল প্রধান লার্স মোরাভি জানান, রোডস্টার গাড়িটি শূন্য থেকে প্রতি ঘণ্টায় ৯৭ কিলোমিটার গতি তুলতে এক সেকেন্ডেরও কম সময় নেয়। গাড়িটির সর্বোচ্চ গতিবেগ প্রতি ঘণ্টায় ৩৭০ কিলোমিটারের বেশি হতে পারে। তবে মাস্ক দাবি করেছেন এর গতি হবে শব্দের গতির অর্ধেকেরও বেশি।
একবার পুরোপুরি চার্জ দিলে গাড়িটি প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারবে। তবে ২০১৭ সালে প্রথম যখন এই মডেলের ধারণা দেওয়া হয়, তখন দ্বিগুণ দূরত্বের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সে সময় ২০২০ সাল থেকে গ্রাহকের হাতে গাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হলেও তা বারবার পিছিয়েছে। প্রথম প্রজন্মের রোডস্টার উন্মোচিত হয় ২০০৮ সালে, যা ২০১২ পর্যন্ত বিক্রি হয়। সেটি ছিল টেসলার তৈরি প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ি।
নতুন মডেলের জন্য ইতোমধ্যে বুকিং নেওয়া শুরু হয়েছে। পারফরম্যান্স সংস্করণের জন্য বুকিং মানি ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ডলার। অন্যদিকে স্পেশাল থ্রাস্টার সংস্করণের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার অগ্রিম দিতে হবে। এ ছাড়া শুধু আমন্ত্রিত গ্রাহকদের জন্য থাকবে ‘রকেট’ নামের একটি বিশেষ সংস্করণ। এতে পূর্ণাঙ্গ ফ্লাইং সিস্টেম সুবিধা পাওয়া যাবে।
বর্তমানে চালকবিহীন গাড়ি ও হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির দিকে বেশি নজর দিচ্ছে টেসলা। তাই আর্থিক দিক থেকে রোডস্টার প্রতিষ্ঠানটির বড় চালিকাশক্তি নাও হতে পারে। তবে ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রকৌশলের নিদর্শন হিসেবে এই সুপারকার টেসলার একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। সামনের দিনগুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বকে কোন দিকে নিয়ে যাওয়া যায়, সেই দিকে এক বড় পদক্ষেপ দেখা গেল টেসলার এই প্রদর্শনীতে।
আরও পড়ুন
২০২৬ সালেই ১ কোটি ছাড়াবে চীনের গাড়ি রপ্তানি
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
চীনা গাড়ি নির্মাতারা রপ্তানিতে ভালো করছে।
-->বিশ্ববাজারে চীনা গাড়ির চাহিদা বাড়ছে দ্রুত। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ দেশটির গাড়ি রপ্তানি ১ কোটি ইউনিট ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক ও পরিবেশবান্ধব নতুন প্রযুক্তির গাড়ি রপ্তানির প্রবৃদ্ধি এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে।
সম্প্রতি চায়না অ্যাসোসিয়েশন অব অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্সের (সিএএএম) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চীন ৮২ লাখ গাড়ি রপ্তানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৬৫ শতাংশেরও বেশি।
চীনা গাড়ি নির্মাতারাও রপ্তানিতে ভালো করছে। চেরি গ্রুপ প্রথম নয় মাসে ১৫ লাখ গাড়ি রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬৫ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, এমজি ব্র্যান্ড একই সময়ে ইউরোপের বাজারে ২ লাখ ৮০ হাজারের বেশি গাড়ি বিক্রি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি।
ইউরোপ, দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে চীনা গাড়ির বাজার ক্রমেই বড় হচ্ছে। এ প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বৈদ্যুতিক ও পরিবেশবান্ধব নতুন প্রযুক্তির গাড়ি। বছরের প্রথম নয় মাসে চীন ৪০ লাখের বেশি এ ধরনের গাড়ি রপ্তানি করেছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৩ গুণ।
সিএএএমের উপমহাসচিব লিউ ইয়ান বলেন, চীনা গাড়ির রপ্তানি বৃদ্ধি দেশটির অটোমোবাইল শিল্পের প্রতিযোগিতার সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রতিফলন। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে চীনা গাড়ির অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
সূত্র: সিএমজি
আরও পড়ুন
সৌর গাড়ি উৎপাদন করছে অ্যাপটেরা
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->সৌরশক্তি চালিত বৈদ্যুতিক গাড়ি (এসইভি) নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপটেরা। প্রতিষ্ঠানটির প্রথম গাড়ি উৎপাদনের জন্য এখন ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার প্রয়োজন। মাত্র সাত সপ্তাহ আগেও তারা গাড়ি তৈরির জন্য ৪ কোটি থেকে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে।
আর্থিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও গাড়িটির মূল নকশা ও প্রযুক্তি প্রশংসা কুড়িয়েছে। দুই আসনের তিন চাকার এই বৈদ্যুতিক গাড়ির গায়ে যুক্ত রয়েছে অত্যন্ত কার্যকর সোলার প্যানেল। ট্যুফ রাইনল্যান্ডের পরীক্ষায় দেখা গেছে, রোদে এই প্যানেলগুলো প্রতিদিন ৪ দশমিক ৭৫ কিলোওয়াট-ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে পারে। বাহ্যিক কোনো প্লাগ-ইন বা চার্জ ছাড়াই শুধু এ শক্তিতে প্রতিদিন প্রায় ৪০ মাইল পথ চলা সম্ভব।
চলতি বছরের জুনে আপেটের ‘কনফরমিটি সার্টিফিকেট’ অর্জন করেছে। পাশাপাশি প্রথম ৪০টি গাড়ির বডি ও চেসিস তৈরির ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে তাদের কাছে প্রায় ৪৯ হাজার ৩০০টি গাড়ি অগ্রিম বুকিংয়ের আবেদন জমা পড়েছে। উৎপাদনের জন্য আর্থিক চাহিদা কমার খবরটি ইতিবাচক মনে হলেও পুঁজিবাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ঘোষণার পর অ্যাপটেরার শেয়ারের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ কমে গেছে। এতে বর্তমানে এই সৌর গাড়ি স্টার্টআপটির বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৯ লাখ ডলারে।
চলতি বছরের আগস্টে প্রকাশিত দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফলে কার্লসবাদ কারখানায় কম পরিসরে উৎপাদন শুরু করতে ৪ কোটি থেকে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছিল অ্যাপটরা। আর বড় পরিসরে উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন ছিল আরও ১৪ থেকে ১৬ কোটি ডলার। তবে নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী খরচ অনেকটা কমানো হয়েছে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে কাজ শুরু করতে আড়াই কোটি ডলার লাগবে, যা দিয়ে ২০২৬ সালের শেষের দিকে প্রথম ৪০টি গাড়ি তৈরি করা হবে। এরপর প্রতি মাসে ৫০০টি গাড়ি উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনে লাগবে আরও ৪ কোটি ডলার। প্রতিষ্ঠানটি এই অবস্থাকে আত্মনির্ভরশীল পর্যায় হিসেবে দেখছে। আর বছরে প্রায় ২০ হাজার গাড়ি উৎপাদনের বড় পরিকাঠামো তৈরি করতে লাগবে আরও ৫ কোটি ডলার।
সব মিলিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে এখন মোট ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের প্রয়োজন হতে পারে, যা আগে ছিল ১৮ থেকে ২০ কোটি ডলার। অ্যাপটেরা জানিয়েছে, উৎপাদনের নকশায় পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের সংযুক্তি এবং প্রাক্কলিত খরচের আধুনিকায়নের ফলে এ ব্যয় কমানো সম্ভব হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রধান নির্বাহী ক্রিস অ্যান্থনি জানান, এটি গ্রাহকদের হাতে গাড়ি পৌঁছে দেওয়ার সাশ্রয়ী ও কার্যকর উপায়। তহবিল প্রাপ্তির ওপর নির্ভর করে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে গ্রাহকদের কাছে গাড়ি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে অ্যাপটেরার আর্থিক পরিস্থিতি এখনো সংকটাপন্ন। গত জুনের শেষে প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংকে জমা ছিল ১ কোটি ১ লাখ ডলার। গত জুলাইয়ে এক ওয়ারেন্ট চুক্তির মাধ্যমে তারা আরও ৬০ লাখ ডলার সংগ্রহ করে। এছাড়া ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের একটি ঋণ সুবিধা থাকলেও শেয়ারের নিম্নমুখী বাজারে তা তুলতে গেলে নতুন করে শেয়ার বিক্রি করতে হবে। ফলে আড়াই কোটি ডলার সংগ্রহ করাও স্টার্টআপটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
আরও পড়ুন
সাশ্রয়ী দামে বৈদ্যুতিক গাড়ি নিসান পিক্সো
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
নিসান পিক্সো। ছবি: সংগৃহীত
-->জাপানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিসান তাদের সবচেয়ে সাশ্রয়ী দামের নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি উন্মোচন করেছে। শহর এলাকায় সহজে চলাচলের উপযোগী এই গাড়ির মডেল ‘নিসান পিক্সো’। একবার পুরোপুরি চার্জ দিলে গাড়িটি প্রায় ২৫৯ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারবে। শুরুতে ২৫ হাজার মার্কিন ডলারের কম দামেই পাওয়া যাবে গাড়িটি।
২০১৩ সালে বাজেট সাশ্রয়ী ছোট গাড়ি তৈরি বন্ধ করে দিয়েছিল নিসান। দীর্ঘদিন পর তারা আবারও ‘পিক্সো’ নাম ফিরিয়ে এনেছে। ইউরোপের মিনি গাড়ির বাজারে পুনরায় শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে নিসানের এই উদ্যোগ। বর্তমানে ইউরোপের বাজারে বিওয়াইডি ও লিপমোটরের মতো চীনা নির্মাতাদের কম দামের বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা বেশ বেড়েছে। এর বিপরীতে ভক্সওয়াগেন ও রেনোর মতো ইউরোপীয় পুরোনো নির্মাতারাও আইডি পোলো এবং ডাসিয়া স্প্রিংয়ের মতো নতুন ইভি আনছে। এবার এই প্রতিযোগিতায় যুক্ত হলো নিসান।
ফরাসি প্রতিষ্ঠান রেনোর সঙ্গে যৌথভাবে পিক্সো ইভি তৈরি করেছে নিসান। নতুন গাড়িটির মূল কাঠামো রেনো টুইঙ্গোর মতোই। এতে ২৭ দশমিক ৫ কিলোওয়াট আওয়ারের লিথিয়াম আয়রন ফসফেট (এলএফপি) ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। ইউরোপে নিসানের কোনো ইভিতে এটিই প্রথম এলএফপি ব্যাটারি। ৫০ কিলোওয়াটের ডিসি ফাস্ট চার্জার দিয়ে গাড়িটি মাত্র ২৮ মিনিটে ১৫ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করা যাবে।
নিসানের মতে, এই গাড়ি এমন চালকদের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যারা শহরের রাস্তায় চালানোর জন্য ছোট আকার, ভেতরে যথেষ্ট জায়গা ও আধুনিক সুবিধার সাশ্রয়ী গাড়ি খুঁজছেন। নতুন গাড়িটির দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ৭৯৬ মিলিমিটার, প্রস্থ ১ হাজার ৭৯০ মিলিমিটার এবং উচ্চতা ১ হাজার ৫১২ মিলিমিটার। হুইলবেস ২ হাজার ৪৯২ মিলিমিটার। আকারের দিক থেকে এটি রেনো টুইঙ্গো ও হুন্দাই ইনস্টারের প্রায় সমান।
প্রাথমিক স্তরের মডেল হলেও এতে স্বয়ংক্রিয় জরুরি ব্রেকিং, লেন-কিপিং অ্যাসিস্ট এবং ই-প্যাডেল প্রযুক্তির মতো উন্নত চালক সহায়তা ব্যবস্থা রয়েছে। গুগল ও জেমিনাই প্রযুক্তিও বিল্ট-ইন রয়েছে এতে। ফলে মাইনিসান অ্যাপের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম রুট প্ল্যানিং ও চার্জিংয়ের মতো উন্নত নেভিগেশন সুবিধা পাওয়া যাবে।
গাড়িটির নকশা নিসান করলেও এর উৎপাদন হবে স্লোভেনিয়ায় রেনোর নভো মেসতো কারখানায়। সম্প্রতি নতুন এই ইভি উন্মোচনের পর নিসান এএমআইইওর চেয়ারপারসন ম্যাসিমিলিয়ানো মেসিনা বলেন, জ্বালানি খরচ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর যৌক্তিকতাও বাড়ছে। নিসান এই পরিবর্তনের একদম কেন্দ্রে অবস্থান করছে।
