নতুন অধ্যায় শুরুর অপেক্ষায় বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট। প্রথমবারের মতো ভিন্ন সংস্করণে আলাদা অধিনায়কের যুগে প্রবেশ করল দণ। নিগার সুলতানার জায়গায় টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব পেলেন নাহিদা আক্তার। সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন সোবহানা মোস্তারি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রোববার টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্বে নতুন নাম ঘোষণা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আপাতত এক বছরের জন্য দায়িত্ব পেলেন তারা দুজন। ওয়ানডের নেতৃত্বে থাকছেন নিগারই।
এই সংস্করণে বাংলাদেশের পঞ্চম অধিনায়ক নাহিদা। সালমা খাতুন, জাহানারা আলম, নিগার সুলতানা ও রোমানা আহমেদের উত্তরসূরি হলেন ২৬ ছুঁইছুঁই বাঁহাতি স্পিনার।
দুবাইয়ের মাঠে গত মাসে এশিয়া কাপে ব্যর্থতার পর নিগার জানান, জাপানে এশিয়ান গেমসের পর আর টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব করবেন না তিনি। পরে এশিয়ান গেমসেও সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ। প্রথমবার কোনো পদক ছাড়াই আসর শেষ করে বাংলাদেশ।
এবার সপ্তাহ চারেকের মধ্যে নতুন অধিনায়ক ঠিক করে নিল বিসিবি। এই সিদ্ধান্তে কোনো চমক রাখেনি বোর্ড। ২০২৩ সাল থেকেই ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে নিগারের ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন নাহিদা।
স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এবার সহ-অধিনায়কত্ব থেকে পূর্ণ দায়িত্ব পেলেন অভিজ্ঞ এই বাঁহাতি স্পিনার। তার সহকারী হিসেবে থাকবেন সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফরে ওয়ানডেতে রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরি করা সোবহানা।
থাইল্যান্ডে আগামী মাসে আইসিসি উইমেন'স ইমার্জিং নেশন্স ট্রফি খেলবে বাংলাদেশ। 'বি' গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে, থাইল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও পাকিস্তান। ১২ নভেম্বর শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্ট দিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটে শুরু হবে নাহিদা-সোবহানা জুটির নতুন অধ্যায়।
বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার আগেই সামাজিক মাধ্যমে নাহিদাকে শুভেচ্ছা জানান নিগার। দলের প্রতি নিজের নিবেদনের কথাও জানান তিনি।
“টি-টোয়েন্টি দলের নতুন অধিনায়ক নাহিদাকে আন্তরিক অভিনন্দন। নতুন এই দায়িত্বে তার জন্য রইল অনেক শুভকামনা। বিশ্বাস করি, সে নিজের সামর্থ্য ও নেতৃত্ব দিয়ে দলকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দলে আমাদের ভূমিকার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু আমাদের লাল-সবুজ পতাকার প্রতি আবেগ একই আছে, আমাদের লক্ষ্যও একই—বাংলাদেশ ক্রিকেটকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
একজন সতীর্থ হিসেবে নাহিদার পাশে আছি, থাকব। দলের সাফল্যের জন্য আমার পক্ষ থেকে যতটুকু সহযোগিতা করা সম্ভব, তা করতে আমি সবসময় প্রস্তুত। আমরা একসঙ্গে অনেকটা পথ পাড়ি দিয়েছি। সামনে বাংলাদেশের জার্সিতে একসঙ্গে আরও অনেক সাফল্যের গল্প লিখতে চাই।”
সাদা বলের দুই সংস্করণেই বাংলাদেশের ধারাবাহিক পারফর্মারদের একজন নাহিদা। প্রায় ১১ বছরের ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ১১৩ টি-টোয়েন্টিতে তার শিকার ১৩২ উইকেট। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের একমাত্র বোলার হিসেবে একশ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে উইকেটশিকারির তালিকায় ১১ নম্বরে নাহিদার নাম। আর শুধু আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর হিসেবে পাঁচ নম্বরে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার।
সোবহানার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার প্রায় সাত বছরের। তবে প্রথম ছয় বছরের তুলনায় চলতি বছর তার ফর্ম আশা জাগানিয়া। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ২৫ ম্যাচে ১০৮.৫ স্ট্রাইক রেট ও ২৬.০৯ গড়ে তার সংগ্রহ ৫৭৪ রান।
এর আগে খেলা ৪৭ ম্যাচের ৪১ ইনিংসে মাত্র ১৫.৪২ গড় ও ৮৪.৫৫ স্ট্রাইক রেটে ৫৮৬ রান করেছিলেন সোবহানা। সব মিলিয়ে ৭২ ম্যাচের ক্যারিয়ারে তার নামের পাশে ১৯.৩৩ গড় ও ৯৪.৯২ স্ট্রাইক রেটে ১ হাজার ১৬০ রান।
নতুন দায়িত্বে সাম্প্রতিক ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ নিতে হবে নাহিদার। ইমার্জিং নেশন্স ট্রফির পর নিউ জিল্যান্ড সফরে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে তাদের।
বিদায়ী অধিনায়ক নিগারের নেতৃত্ব সব মিলিয়ে ৮২ টি-টোয়েন্টি খেলে বাংলাদেশের জয় ৩২টি। পরাজয় ৪৯ ম্যাচে আর ফল আসেনি একটিতে। জয়ের হার ৩৯.০২ শতাংশ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৬৫ ম্যাচের বেশি নেতৃত্ব দেওয়া অধিনায়কদের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন।
