সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পৌঁছেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। উপসাগরীয় দেশগুলোতে সফরের শেষ পর্যায়ে পূর্বনির্ধারিত সূচির বাইরে আকস্মিকভাবে সৌদি আরব সফরে গেলেন তিনি।
সৌদি ভূখণ্ডে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলা জোরদার হওয়ার পর দেশটিতে কোনো পশ্চিমা রাষ্ট্রপ্রধানের এটিই প্রথম সফর বলে জানিয়েছে মাখোঁর দপ্তর। মাখোঁর দপ্তরের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্ধারিত সূচির বাইরে কাতার থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। এর মধ্য দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইন সফরসহ তার আঞ্চলিক উপসাগরীয় সফর শেষ হচ্ছে।
সফরে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মাখোঁ। পাশাপাশি, এসব দেশের কাছ থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের প্রতিশ্রুতি পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
সৌদি সফরে দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে ফরাসি প্রেসিডেন্টের।
মাখোঁর দপ্তর জানিয়েছে, সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হুতিদের চালানো হামলার মুখে দেশটির প্রতি ফ্রান্সের সংহতি প্রকাশ এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত ও উৎসের বৈচিত্র্য বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতেই এই সফর।
এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কটাক্ষ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে ট্রাম্প ফ্রান্সের দাঙ্গাকে কাজে লাগাচ্ছেন বলে মাখোঁ ইঙ্গিত করেন।
প্যারিসে স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিক্ষোভ ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। ফরাসি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রেসিডেন্টের বাসভবন এলিসি প্রাসাদ, পার্লামেন্টের উভয় কক্ষ ও পর্যটকদের আকর্ষণীয় স্থান লুভর জাদুঘর ও শঁজেলিজে সড়ক।
এ ছাড়া বাস্তিল ও রিপাবলিক চত্বর এবং শাতলে-লে আল শপিং এলাকাসহ আরও কয়েকটি স্থানে সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গত সপ্তাহের শেষে এসব এলাকায় ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়। গত সপ্তাহের শেষে মুখোশধারী তরুণদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, দোকানপাটে লুটপাট ও সরকারি ভবনে ভাঙচুরের ঘটনায় সৃষ্ট সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ার কথা স্বীকার করেছে ফ্রান্স।
