ঢাকা-১৬ আসনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় দল-মতনির্বিশেষে সুবিধাভোগী পরিবারের নারীদের কার্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর পল্লবীর ২ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। আমিনুল হক বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদকও।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা সমপরিমাণ অর্থ দেওয়া হবে। ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কেউ যেন বিভ্রান্ত না হন, সে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে, দল-মতনির্বিশেষে সবার ওপরে দেশের জনগণ। তাই অন্য রাজনৈতিক দলকে ভোট দেওয়া পরিবারের নারীরাও এই কার্ড পাবেন।
তিনি জানান, তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের নাম, বাবার নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন। এ প্রক্রিয়া শেষ হলে পর্যায়ক্রমে কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, চলতি বছরের মধ্যে সারা দেশে প্রায় ৪১ লাখ ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার সরকারি পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে আরও বেশি পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উর্দুভাষীদের স্থায়ী পুনর্বাসনে পাইলট প্রকল্প
পল্লবী ও রূপনগরের উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর স্থায়ী পুনর্বাসন প্রসঙ্গে আমিনুল হক বলেন, এ বিষয়ে গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, ইতিমধ্যে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে স্থায়ী পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে কেউ বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলে সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁদের বসিয়ে দেওয়া হবে, যাতে তাঁরা সরাসরি বিষয়টি জানতে পারেন।

‘অন্যায় করলে দলের পরিচয়েও ছাড় নয়’
আমিনুল হক বলেন, বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ অন্যায় বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, অন্যায়কারীদের আইনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁরা কারাগারে রয়েছেন।
সরকারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, একটি মহল সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে তিনি এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা
প্রতিমন্ত্রী জানান, পল্লবীর আলীনগরে একটি সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের জন্য প্রায় ১০ একর জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এলাকায় পানির সংকট নিরসনে পানির পাম্প স্থাপন, রাস্তাঘাট সংস্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠ উদ্ধার করে খেলাধুলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আমিনুল হক বলেন, সরকার জনগণের পাশে থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনতে চায়। তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ এবং মানুষের বাক্স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
বিআলো/শিলি