চোরবাগানে ঠাকুর দেখতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু প্রিয়া সমাদ্দারেরছবি: ফেসবুক
Published on
:
1 min read
বন্ধুদের সঙ্গে চোরবাগান সর্বজনীনে ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলেন গিয়েছিলেন প্রিয়া সমাদ্দার (১৯)। মেয়ে কলকাতায় যাচ্ছে। একটু চিন্তাই হচ্ছিল বাবা শ্যামল সমাদ্দারের। শনিবার বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে মেয়ে অবশ্য শ্যামলকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, ‘চিন্তা কোরো না বাবা, ঠাকুর দেখে ঠিক বাড়ি ফিরে আসব।’ কিন্তু ফেরা আর হলো না।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে প্রিয়ার। তাঁর বাড়ি ব্যারাকপুরের উত্তর যোগেন্দ্রনগরে। নিউ ব্যারাকপুরের এপিসি কলেজে বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন তিনি। পুজোর অনেক আগে থেকেই বন্ধুদের সঙ্গে কলকাতায় ঠাকুর দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন প্রিয়া। সেই মতো এ দিন সবাই মিলে বেরিয়েছিলেন। গিয়েছিলেন চোরবাগানে। সেখানেই সব শেষ।
প্রিয়ার বাবা শ্যামল সমাদ্দার পেশায় ব্লাউজ কাটিংয়ের কারিগর। এ দিন রাতে তাঁর বাড়িতে গিয়ে মেয়ের মৃত্যু সংবাদ জানায় ঘোলা থানার পুলিশ। ভেঙে পড়ে গোটা পরিবার। মেয়েকে শেষ দেখা দেখতে ইতিমধ্যেই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছেছেন শ্যামল।
কিন্তু অভিযোগ, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় নথি জোগাড় করতে ছোটাছুটি করতে হয় তাঁকে। এক দিকে মেয়েকে হারানোর যন্ত্রণা, অন্য দিকে দেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া—দুইয়ের চাপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন শ্যামল। এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতিতেও গোটা প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যেরা।
পুলিশ ও চোরবাগান সর্বজনীন সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন সন্ধ্যায় ঝেঁপে বৃষ্টি শুরু হয়। রাস্তায় ছিল তীব্র যানজট। সেই সময়ে আচমকাই চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপের ভিতরে তীব্র হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে অনেকেই মণ্ডপের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। তখন পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ২৫ জন। মৃতদের পরিবারপিছু একজনকে সরকারি চাকরি ও ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যে ঘোষণা করেছেন তিনি। আহতদের দেওয়া হবে ৫ লক্ষ টাকা করে।
