Published on
:
2 min read
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের রূপকথাগুলো হয়তো এভাবেই লেখা হয়। চার বছর আগে যে যুবকের স্বপ্ন ছিল ২২ গজ ছেড়ে ব্যাগ গুছিয়ে ক্যানাডায় গিয়ে কেরিয়ার তৈরি করা, তিনিই আজ নিউ জ়িল্যান্ডের মাটিতে ভারতের জয়ের প্রধান কারিগর। ক্রাইস্টচার্চে নিউ জ়িল্যান্ডের দেওয়া ২২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তা পূরণ করে নজির তৈরি করল ভারত। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে এটিই এখন ভারতের সফলতম রান তাড়া করে ম্যাচ জয়। আর সেই ঐতিহাসিক জয়ের মঞ্চে নায়ক হয়ে উঠলেন ২৪ বছর বয়সি অলরাউন্ডার নমন ধীর। চাপের মুখে মাথা ঠাণ্ডা রেখে মাত্র ১৫ বলে অপরাজিত ৪২ রানের ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে দিলেন। আর এই সাফল্যের পর সামনে এল তাঁর লড়াইয়ের কথা।
ক্যানাডায় কেরিয়ার তৈরির পরিকল্পনা
গত মাসেই জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক হয় নমন ধীরের। তাঁর সাফল্যের পেছনের গল্পটি বাকিদের থেকে কঠিন। পাঞ্জাবের ফরিদকোটের বাসিন্দা নমন অনূর্ধ্ব-১৬ ক্রিকেটের পর কেরিয়ারে উন্নতি করতে পারছিলেন না। কিছুতেই সুযোগ পাচ্ছিলেন না বড় মঞ্চে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নমন নিজেই জানিয়েছিলেন, ‘পাঞ্জাবের অর্ধেক মানুষ তো ক্যানাডায় চলে যেতে চায়, আমিও তাঁদের একজন হতে চেয়েছিলাম। ২০২২ সালের শুরুর দিকে ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছিলাম। আমার দিদি ক্যানাডার এডমন্টনে থাকে, আমি ওখানেই পাকাপাকিভাবে থাকার জন্য আবেদন করেছিলাম। তখনই আমার বাবা আমাকে ডেকে বলেন—নিজের স্বপ্নকে আর একটা বছর সময় দিয়ে দেখ।’
নিন্দা সহ্য করতে হয়েছিল বাবাকে
বাবার সেই একটি কথাই পুরো জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ওষুধের দোকানে কাজ করা বাবা নরেশ ধীর অনেক নিন্দা সহ্য করেছিলেন। ছেলের প্র্যাকটিসের জন্য যখন স্কুল থেকে নিয়ে যেতেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা তাচ্ছিল্য করে বলতেন, ‘ধীরবাবু, ফরিদকোটের কোনও ছেলে আজ পর্যন্ত পাঞ্জাব দলেই ঢুকতে পারল না, আপনি ভারতের স্বপ্ন দেখছেন। এভাবে ছেলের ভবিষ্যৎ নষ্ট করবেন না।’ বাড়ি ফিরে সেদিন নিজের কান্না চেপে বাবাই নমনকে সাহস দিয়ে বলেছিলেন, ‘একদিন যেদিন তুই টিভির পর্দায় দাঁড়িয়ে গ্যালারিতে বল ওড়াবি, সেদিন এই উপহাসগুলোই স্যালুট আর হাততালিতে বদলে যাবে।’ বাবার সেই কথাই সত্যি করে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে পাঞ্জাবের রঞ্জি দলে সুযোগ পান নমন। এরপর মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের জার্সিতে আইপিএল ২০২৪-এ নজরকাড়া পারফরম্যান্স (একটি ইনিংসে অপরাজিত ৬২) করে জাতীয় নির্বাচকদের নজর কাড়েন। তাঁকে সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল না তার প্রমাণ তিনি দিলেন আজকের ম্যাচে।
