প্রতি বছরই অনেকটা জমজমাট করে দক্ষিণের জেলা ঝালকাঠিতে পালন করা হয় শারদীয় দুর্গাপূজা। নানা আয়োজনে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা তাদের সবচেয়ে বড় উৎসবটি উদযাপন করেন। চলতি বছরও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।
পূজাকে সামনে রেখে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিমা তৈরির কারিগররা। এবার জেলায় ১৬০ মণ্ডপে হবে দুর্গাপূজা। তবে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিমা তৈরির কারিগর কম থাকায় কাজের গতি অনেকটা ধীর। বাইরের জেলা থেকেও কারিগর এসে কাজ করছেন বেশকটি মণ্ডপে।
কারিগর সংকটের কথা জানিয়ে স্থানীয় প্রতিমা শিল্পী পরাণ পাল বলেন, ‘একসময় শুধু পালবংশের লোকেরা ঠাকুর তৈরি করত। বর্তমানে তাদের বংশধররা এ কাজে আসছে না। তারা যাচ্ছে অন্য পেশায়। এটি বছরের নির্ধারিত সময়ের কাজ। অন্য পেশায় প্রতি মাসেই আয় করা যায়। তা ছাড়া বাজারমূল্য অনুযায়ী মজুরি কম পাওয়ায় কারিগরদের এ কাজে এখন আর পোষাচ্ছে না।’
এ নিয়ে কথা হয় প্রতিমা তৈরির আরেক কারিগর উত্তম পালের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘৪০ বছর ধরে ঠাকুর তৈরির কাজ করছি। এখন আর পুষছে না। রং ও সরঞ্জামের দাম রেড়েছে কয়েকগুন। কিন্তু মজুরি বাড়েনি। বাপ-দাদার ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য এই পেশার সঙ্গে জড়িয়ে আছি। আমাদের সন্তানেরা অন্য পেশায় চলে গেছে।
মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত বেশির ভাগ জায়গায় প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় ৮০ ভাগ শেষ হয়েছে। কারিগর সংকট থাকায় শহরের মন্দিরগুলোতে বেশ আগেভাগেই কাজ শুরু করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া থেকে ঝালকাঠি মদনমোহন আখড়াবাড়ী মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি করতে আসা ভাস্কর শ্রীবাস গাইন বলেন, ‘এখন হাতে যা সময় আছে তাতে এ বছর নির্ধারিত সময়ের আগেই রং, পোশাক এবং অলংকার পরানোর কাজ শেষ করে পূজা কমিটির কাছে প্রতিমা বুঝিয়ে দিতে পারব। আমাদেরও মজুরি বাড়েনি, রং আনিয়েছি ভারত থেকে দাম আগের তুলনায় অনেক বেশি। বাড়েনি পারিশ্রমিক।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের ঝালকাঠি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অলোক সাহা বলেন, ‘দূর থেকে আসা কারিগরদের নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে পাহারার ব্যবস্থা করতে প্রতিটি মণ্ডপ কমিটির প্রধানদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশের মাধ্যমে এবারের শারদীয় উৎসবকে বর্ণিলভাবে পালন করার আশাবাদী তিনি।
