নওগাঁর দুবলহাটিতে রাতের আঁধারে সার পাচারের অভিযোগ, ১২০ বস্তা ডিএপি আটক করলেন স্থানীয়র
নওগাঁ সদর উপজেলার দুবলহাটিতে রাতের আঁধারে সার অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ১২০ বস্তা ডিএপি সারসহ দুটি নসিমন গাড়ি আটক করেছেন স্থানীয়রা। সারগুলো রাজশাহীর দুর্গাপুরে নেওয়া হচ্ছিল বলে জানা গেছে। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নূরুল আমিন, পুলিশ প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। আটক করা সার ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের মধ্যে বিতরণের ঘোষণা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুবলহাটি থেকে দুটি নসিমন গাড়িতে করে ১২০ বস্তা ডিএপি সার রাজশাহীর দুর্গাপুরের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ সময় স্থানীয়রা গাড়ি দুটি আটক করেন। পরে তাঁরা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নূরুল আমিনকে মুঠোফোনে জানান। খবর পেয়ে তিনি পুলিশ প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং সার আটকের বিষয়টি দেখভাল করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নূরুল আমিন জানান, আটক করা ১২০ বস্তা ডিএপি সার ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে পরদিন ন্যায্যমূল্যে সারগুলো কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। সার বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট সার ডিলার ওয়াসেফ আলী মোল্লার মালিক ও ম্যানেজার ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে পরবর্তীতে বিষয়টি আইনগতভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
এদিকে, সার আটকের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী। তাঁদের অভিযোগ, প্রয়োজনের সময় তাঁরা সার পাচ্ছেন না। কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে গিয়ে তাঁদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। অথচ রাতের আঁধারে সার অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন। দুবলহাটি থেকে রাজশাহীর দুর্গাপুরের উদ্দেশ্যে ১২০ বস্তা ডিএপি সার পরিবহনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আরও এলাকাবাসীর দাবি, কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার যথাযথভাবে তাঁদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সার পরিবহনের উদ্দেশ্য, এর উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করে দেখতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সার সংকটের সময় বরাদ্দ করা সার অন্যত্র চলে গেলে তাঁদের কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সার বিতরণব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে সার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
ঘটনাটি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী। আটক করা সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ এবং অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
