কিয়েভ,১৫ অক্টোবর-যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার জবাবে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে আবারও হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ওয়াশিংটনের অনুরোধে ইউক্রেন তিন দিনের জন্য রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ রেখেছিল। কিন্তু এর বিপরীতে রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে একের পর এক হামলা চালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। এ পরিস্থিতিতে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘আমাদের আর সহ্য করার কোনো কারণ নেই।’
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, রাশিয়ার ওপর হামলা পুরোপুরি বন্ধ করতে কিয়েভের ওপর চাপ তৈরির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার হামলাসংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি ইউক্রেনের সেনাবাহিনী ব্যবহার করে এমন স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের গতিও ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’র ঘোষণা দিলে জেলেনস্কি তাতে সম্মতি দিতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর দাবি, প্রস্তাবটি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাশিয়া তা লঙ্ঘন করে ইউক্রেনের কয়েক লাখ মানুষকে বিদ্যুৎহীন করে ফেলে। তবে মস্কো কখনোই এই চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মতি জানায়নি।
লন্ডন সফরে থাকা জেলেনস্কি বুধবার সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানের সঙ্গে কথা বলার সময় স্বীকার করেন, ওয়াশিংটনের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে তিনি নিজেকে গভীরভাবে প্রতারিত মনে করছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন কর্মকর্তারা ইউক্রেনকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, রাশিয়ার জ্বালানি খাতে হামলা বন্ধ না করলে তারা আগাম সতর্কতামূলক গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ করে দেবেন। ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া আগাম সতর্কবার্তার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। এ ছাড়া ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর ড্রোন পরিচালনা ও যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত ইলন মাস্কের স্টারলিঙ্ক ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়ার পেছনে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না, বরং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব ছিল বলে মন্তব্য করেন জেলেনস্কি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইলন মাস্কও ইঙ্গিত দেন, প্রতিরক্ষা বিভাগের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ এই ব্যবস্থার গতি নিয়ন্ত্রণ বা সীমিত করার সিদ্ধান্ত মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই নিয়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার যুদ্ধের অর্থ জোগানোর অন্যতম প্রধান উৎস দেশটির তেল অবকাঠামোতে হামলা কেবল তখনই বন্ধ করা হবে, যখন ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে আরও বেশি ‘প্যাট্রিয়ট’ বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করবে। ইরানে যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ কমে যাওয়ায় ইউক্রেন বর্তমানে তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র সংকটে রয়েছে।
জেলেনস্কি আরও অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভ্লাদিমির পুতিনের মতো স্বৈরাচারী নেতাদের প্রতি বাড়তি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোর উদ্দেশ্যে রাশিয়া থেকে তিন লাখ টন ডিজেল আমদানির যে চুক্তি ট্রাম্প করেছেন, সেটি কার্যত ক্রেমলিনের যুদ্ধ তহবিলে অর্থ জোগানোর শামিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে এমন নজিরবিহীন টানাপোড়েন দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি পুরো যুদ্ধ পরিস্থিতিকেও নতুন ও জটিল এক পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
এস এম/ ১৫ অক্টোবর ২০২৬
