বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা জানায়, এখান থেকে পড়াশোনা করে অনেকেই দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। এটি জাতীয়করণ হলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীরা খুব অল্প খরচে পড়ার সুযোগ পাবে।
প্রতিষ্ঠার ১৪৮ বছর পরও জাতীয়করণ হয়নি ঐতিহ্যবাহী বাগেরহাট বহুমুখী কলেজিয়েট স্কুল। দীর্ঘ বছর ধরে জেলায় শিক্ষার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও প্রতিষ্ঠানটি এখনো জাতীয়করণ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হোক। এতে শিক্ষার মান বাড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা আরো বেশি সুযোগ-সুবিধা পাবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভৈরব নদের তীরে ১৮৭৮ সালে গড়ে ওঠা এ প্রতিষ্ঠান শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে এক আলোকবর্তিকা। কালের বিবর্তনে এটি বাগেরহাট উচ্চ বিদ্যালয়, বাগেরহাট স্কুল ও টাউন স্কুল নামে পরিচিত ছিল। পরে ২০১২ সালে এতে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী চালু হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানটি ‘বহুমুখী কলেজিয়েট স্কুল’-এ উন্নীত হয়। জানা গেছে, বর্তমানে এখানে ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী ও ৪৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।
বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা জানায়, এখান থেকে পড়াশোনা করে অনেকেই দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। এটি জাতীয়করণ হলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীরা খুব অল্প খরচে পড়ার সুযোগ পাবে। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, সহশিক্ষা কার্যক্রমেও প্রতিষ্ঠানটির সুনাম রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও খেলাধুলায় শিক্ষার্থীরা সাফল্য পেয়েছে। জাতীয় দলের ক্রিকেটার রুবেল হোসেন ও ফুটবলার তপু বর্মন এ স্কুলেরই প্রাক্তন শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয়টির প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদ সাবেক অধ্যক্ষ খান সালেহ আহম্মদ জানান, ১৯৫৫ সালে তিনি এ স্কুলে ভর্তি হন এবং ১৯৬১ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। দেশের অনেক নতুন স্কুল জাতীয়করণ হলেও এটি না হওয়া দুঃখজনক। অপর প্রাক্তন শিক্ষার্থী অধ্যাপক চৌধুরী আব্দুর রব জানান, ১৯৬৯ সালে তিনি এ স্কুল থেকে পাস করেন। প্রাচীন এ প্রতিষ্ঠান অবহেলিত থাকায় তারা কষ্ট পান। তারা অবিলম্বে এটি জাতীয়করণের জোর দাবি জানান।
ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এমএ সালাম জানান, দক্ষিণ অঞ্চলের এ প্রাচীন বিদ্যাপীঠ জাতীয়করণ করা এখন সময়ের দাবি। এটি হলে শিক্ষার্থীরা আরো এগিয়ে যাবে ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষুণ্ন থাকবে।
বাগেরহাট বহুমুখী কলেজিয়েট স্কুলের অধ্যক্ষ ফারহানা আক্তার জানান, শতবর্ষী ভবন নিয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে এ ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হলে শিক্ষার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, ‘বাগেরহাট জেলায় বেশ কয়েকটি শতবর্ষী স্কুল রয়েছে। সম্প্রতি বাগেরহাট বহুমুখী কলেজিয়েট স্কুলের জাতীয়করণের আবেদনপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’
