সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়াই আমার লক্ষ্য-এ কথা জানিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, মানুষের সার্বিক কল্যাণের মধ্যেই ধর্মচর্চার আনন্দ নিহিত। ধর্মের আসল তাৎপর্য হলো সমাজে ঐক্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা করা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ) জামালখান কুসুম কুমারী স্কুলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পূজা উদযাপন পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত শ্রী শ্রী শারদীয় দূর্গোৎসবে শুভ উদ্বোধন ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন পূর্ণার্থীদের উদ্দেশ্যে এই শহরকে ক্লিন, গ্রীণ, হেলদি ও নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তুলতে আহবান জানান।
- Advertisement -
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পূজা উদযাপন পরিষদ এর সভাপতি বাবু আশুতোষ দে এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের সহকারী হাইকমিশনার শ্রী হরিশ কুমার। আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক কাউন্সিলর ইসমাইল হোসেন বালি, পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সোমনাথ দাশগুপ্ত রাজু, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মনজুর রহমান, সৌরভ প্রিয় পাল, বিপ্লব পার্থ দে, বিপ্লব কুমার চৌধুরী, রতন চৌধুরী, প্রকৌশলী হারাধন আচার্য, কল্লোল দাশ,টিংকু দাশ,সদীপ দাশ, ভবতোষ চৌধুরী, পল্লব দাশ,অনুপম চক্রবর্তীসহ অসংখ্য পূণ্যার্থিবৃন্দ।
দুর্গাপূজাকে নির্বিঘ্ন করতে গৃহিত কার্যক্রম তুলে ধরে মেয়র বলেন, নগরীতে পূজা উদযাপন সুন্দরভাবে শুরু হয়েছে এবং চলছে। এর মূলে রয়েছে পূজামণ্ডপের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত এবং জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে বসে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং সেসব সিদ্ধান্তের আলোকে চসিকের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন। আমি সবাইকে নিয়ে পুরো কার্যক্রম নিয়ে পরিকল্পনামাফিক কাজ করছি। নগরীর আন্দরকিল্লা, দেওয়ানবাজারসহ যেসব এলাকায় পূজামণ্ডপ আছে সেগুলোর শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমাদের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে আছেন। পূজামণ্ডপ ও এর আশপাশের এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দর্শনার্থীদের চলাচলে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে না দেয়ার জন্য পরিচ্ছন্ন বিভাগ কাজ করছে।
“মহানগরীর ১৬টি থানার অন্তর্গত ২৯৪টি পূজামণ্ডপকে মোট ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া জে এম সেন হল পূজামণ্ডপকে পাঁচ লাখ টাকা, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পূজা উদ্যাপন পরিষদের জামালখানস্থ কুসুমকুমারী পূজামণ্ডপকে ১৫ লাখ টাকা এবং সিটি কর্পোরেশনের চারটি সেবক কলোনির হরিজন সম্প্রদায়ের জন্য প্রতিটি কলোনিতে ৫০ হাজার টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে “
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ধর্মীয় উৎসব মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন দৃঢ় করে। চট্টগ্রাম একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নগরী। এ নগরীতে সব ধর্মের মানুষ যেন নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে উদ্যাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। ধর্মীয় পরিচয় যার যার, কিন্তু নগরী সবার। তাই নগরীর উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, একটি সেফ সিটি গড়ে তোলার অর্থ শুধু অপরাধমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা নয়; বরং এমন একটি নগরী তৈরি করা, যেখানে প্রত্যেক মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন, ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারবেন এবং সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন। এ জন্য নগরীর পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জনস্বাস্থ্য ও নাগরিক অবকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মেয়র আরও বলেন, নগরীর সব ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ের ন্যায্য দাবি ও প্রয়োজনের বিষয়ে সিটি কর্পোরেশন আন্তরিক। নাগরিকদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করা হবে। ধর্মীয় উৎসবের সময় নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।

জামালখান কুসুম কুমারী স্কুলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পূজা উদযাপন পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত শ্রী শ্রী শারদীয় দূর্গোৎসবে শুভ উদ্বোধন ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
