চট্টগ্রামে অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে গরুর খামারে বিনিয়োগের অভিযোগে ব্যাংকের এক কর্মকর্তা ও তাঁর এক সহযোগী ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন কৌশলে ব্যাংকের অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে সেই অর্থ দিয়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় একটি গরুর খামার গড়ে তোলা হয়।
মামলার প্রধান আসামি অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘির পাড় পূর্ব করপোরেট শাখার সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১)। অন্য আসামি ব্যবসায়ী মো. জাফরুল্লাহ তানভীর (২৫), যিনি কথিত খামারটির দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন।
গত সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুদকের চট্টগ্রাম-১ জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক মো. আল আমিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৯ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকের ভল্ট থেকে কৌশলে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়। ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে থাকার সুবাদে কামরুল হোসেন ব্যাংকের অর্থের হিসাব নিয়ন্ত্রণের সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আত্মসাৎ করা অর্থ দিয়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় ‘ইশরাত অ্যাগ্রো’ নামে একটি গরুর খামার গড়ে তোলা হয়। খামারটির তদারকির দায়িত্বে ছিলেন অপর আসামি জাফরুল্লাহ তানভীর।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে গত ৯ আগস্ট। নিয়মিত ব্যাংকিং লেনদেন শেষে হিসাব মেলানোর সময় ভল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি শনাক্ত করা হয়। পরদিন ব্যাংকের চট্টগ্রামের মহাব্যবস্থাপক মোস্তাক আহমেদের নির্দেশে অভিযুক্ত দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং রেলওয়ের জমি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব উর রহমান রুহেলের বিরুদ্ধেও মামলা করেছে দুদক। মামলায় সরকারের ১ কোটি ১২ লাখ ৩৬ হাজার ১১৭ টাকা আত্মসাৎ এবং সরকারি জমি দখলের অভিযোগ আনা হয়েছে।
রুহেল সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রয়াত ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ছেলে। গত সোমবার দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২-এ সংস্থাটির উপসহকারী পরিচালক তাপছির বিল্লাহ মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে মিরসরাই উপজেলার পশ্চিম হিঙ্গুলি মৌজায় পরিবেশবান্ধব সিমেন্ট, বালি ও হলো ব্লক তৈরির কারখানা স্থাপনের জন্য রেলওয়ের কাছে ৩ দশমিক ৭৫ একর জমি দীর্ঘমেয়াদি ইজারা চেয়ে আবেদন করেন রুহেল।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, জমির ইজারা অনুমোদন পাওয়ার আগেই তিনি ওই সরকারি জমি দখল করে সেখানে আধাপাকা কারখানা এবং একটি দ্বিতল অফিস ভবন নির্মাণ করেন।
দুদকের করা এ মামলায় সরকারি অর্থের ব্যবহার ও রেলওয়ের জমি দখলসংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে তদন্তের ফলাফল ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর।
