রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও হামলা শুরু করেছে ইউক্রেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ রাখার উদ্যোগের মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাশিয়ার রিয়াজান অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সহায়তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াজান অঞ্চলের গভর্নর পাভেল মালকভ টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে হামলার তথ্য জানান। তিনি বলেন, ওই অঞ্চলে ইউক্রেনের বড় ধরনের ড্রোন হামলার পর একটি তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে এবং জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।
রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে আকস্মিক ঘোষণা দেন। এরপর কয়েক দিন রুশ তেল শোধনাগারে হামলা থেকে বিরত ছিল কিয়েভ। বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য রুশ তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকে দায়ী করেছিলেন ট্রাম্প।
তবে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে রাশিয়ার অব্যাহত হামলায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন জেলেনস্কি। বুধবার তিনি জানান, রুশ হামলায় ইউক্রেনের ছয় লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছেন। রাশিয়া পাল্টা হামলা বন্ধ না করলে ইউক্রেন অনির্দিষ্টকাল নিজেদের হামলা স্থগিত রাখবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, রুশ তেল শোধনাগারে হামলার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, ‘আমরা আর এটা চালিয়ে যাব না’, অর্থাৎ হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে ইউক্রেনের ধৈর্য শেষ হয়ে গেছে।
সাক্ষাৎকারে ওয়াশিংটনের সঙ্গে মস্কোর বাণিজ্যিক চুক্তি করার আগ্রহ এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি ট্রাম্পের ইতিবাচক মনোভাবেরও সমালোচনা করেন জেলেনস্কি।
এর আগে শনিবার ট্রাম্প ইউক্রেনের হামলার সমালোচনা করার পাশাপাশি জেলেনস্কিকে ক্ষমতা ছাড়ার আহ্বান জানান। এর এক দিন আগে তিনি রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহসংক্রান্ত একটি চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিলেন। ফেব্রুয়ারিতে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এদিকে, রুশ তেল শোধনাগারে হামলা স্থগিত রাখার সময়ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আগাম সতর্কবার্তা পাননি তাঁরা।
এ ছাড়া ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থার সামরিক সংস্করণের কার্যক্রম ইউক্রেনজুড়ে ধীর হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেন দেশটির কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, এতে সম্মুখযুদ্ধের কার্যক্রম এবং রুশ সামরিক স্থাপনায় মাঝারি পাল্লার হামলা পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে।
