কাজের চাপে ক্লান্তি আর ঘুমের ঘাটতি যাদের নিত্যদিনের সঙ্গী, তাদের জন্য ব্যতিক্রমী এক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে জাপান। কে কত দ্রুত ও গভীরভাবে ঘুমাতে পারেন, সেটিই ছিল প্রতিযোগিতার মূল বিষয়। এতে অংশ নিয়ে সেরা হয়ে ২০ লাখ ইয়েনের বেশি, প্রায় ১৪ হাজার ডলার পুরস্কার জিতেছেন সুইমি নামের এক নারী।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি টোকিওতে একটি গদি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘ম্যাট রেস’ নামের এই ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এতে কয়েক ডজন প্রতিযোগী অংশ নেন।
মৃদু আলোয় সাজানো একটি কক্ষে প্রতিযোগীদের শরীর ও মাথায় ঘুম পর্যবেক্ষণের বিশেষ যন্ত্র বসানো হয়। এরপর আরামদায়ক গদিতে শুয়ে সর্বোচ্চ ৯০ মিনিট ঘুমানোর সুযোগ পান তাঁরা। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিমাপ করা হয়, কে কত দ্রুত ঘুমিয়ে পড়েছেন এবং কার ঘুম কতটা গভীর ছিল।
পুরস্কার জিতে আনন্দিত সুইমি বলেন, ‘পুরস্কারের টাকা দিয়ে আমি বাসা বদল করতে চাই। আর আমার শখ রাজকুমারীর মতো একটি বিছানা কেনার, সেই টাকা দিয়ে নতুন বিছানাটিই কিনব।’
প্রতিযোগিতাটির সৃজনশীল পরিচালক রিইচিরো নাকামা জানান, জাপানকে ঘুমের ঘাটতিতে ভোগা দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেশটির মানুষ অনেক বেশি পরিশ্রম করেন। ঘুমের বিষয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়াতেই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) তথ্য অনুযায়ী, অর্থনৈতিকভাবে উন্নত দেশগুলোর মধ্যে জাপানের মানুষ সবচেয়ে কম ঘুমান। দেশটিতে দৈনিক গড় ঘুমের সময় প্রায় ৭ ঘণ্টা ২৪ মিনিট।
দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, দূরপাল্লার যাতায়াত এবং রাতের শহরের ব্যস্ত জীবনযাত্রাকে জাপানিদের ঘুমের ঘাটতির প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এমএ
