Published on
:
2 min read
অর্ঘ্য বিশ্বাস, ময়নাগুড়ি
পঁয়ত্রিশ একর জায়গা। সেগুন, শিমুল, গামার, মেহগনি বিক্ষিপ্ত ভাবে দাঁড়িয়ে। দেখে মনে হবে, কোনও বনাঞ্চল। ফাঁকে ফাঁকে রকমারি ফল, আনাজের খেত। আসলে বন নয়, এটাই জলপাইগুড়ি জেলা কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র। ময়নাগুড়ি ব্লকের শেষ প্রান্তে, গোরুমারা জঙ্গলের গা-ঘেঁষে রামসাই বারোহাতিতে গড়ে উঠেছে এই কেন্দ্র। আর এখন সেই কেন্দ্রই হয়ে উঠেছে শতাধিক ময়ূরের নিরাপদ আশ্রয়। দিনের বেলায় ময়ূরের পেখম মেলা নাচ, রাত গড়ালেই হাতি কিংবা লেপার্ডের আনাগোনা। কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রে পা রাখলে তাই অন্য এক অনুভূতি। বছর কয়েক আগে জঙ্গলে ঝরাপাতায় আগুন লাগার পরে ময়ূর-ময়ূরীদের কাছে চা-বাগান ও ধান খেত নিরাপদ আশ্রয়ভূমি হয়ে ওঠে। পরে কিছু ময়ূরী চলে আসে কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রে। সেখানে ডিম ফুটিয়ে ছানাদের বড় করে।
২০০১-এ পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী ও মৎস্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এই কেন্দ্রটি গড়ে ওঠে। পাশেই গোরুমারার সংরক্ষিত বন। কেন্দ্রের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর তথা বরিষ্ঠ বিজ্ঞানী বিপ্লব দাস বলেন, 'বছর কয়েক আগে শুকনো মরশুমে রামসাইয়ের জঙ্গলে আগুন লেগেছিল। তার পরেই এক ঝাঁক ময়ূর-ময়ূরী ঢুকে পড়ে কেন্দ্রের চত্বরে। এখন সংখ্যাটা একশো ছাড়িয়েছে। এখানেই ডিম ফুটিয়ে ছানা বড় করছে ওরা। আমরা কেউ ওদের বিরক্ত করি না।' কিন্তু হঠাৎ কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র কেন ময়ূরের এত প্রিয় হয়ে উঠল? বিপ্লব বলেন, 'আমাদের এখানে প্রদর্শনীর জন্য নানা জায়গায় রকমারি শাক, আনাজের চাষ হয়। সবটাই জৈব পদ্ধতিতে। সেই আনাজের টানেই সম্ভবত ওরা এসেছে। চাষের ক্ষেত্রে কিছুটা ক্ষতি হয় ঠিকই, কিন্তু আমরা মেনে নিয়েছি।'
এই ছবি অবশ্য নতুন নয়। এক সময়ে গোটা রামসাই জুড়েই অল্প সংখ্যক ময়ূর দেখা যেত। কয়েক দশকে গোরুমারা ও পাশের চা বাগানগুলিতে তাদের বিচরণ আরও বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা তথা চা বাগানের মালিক মানিক সরকার বলেন, 'জঙ্গল থেকে চা-বাগানে আস্তানা বদলেছিল ময়ূরের দল। এখন কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রই ওদের প্রিয় আবাসভূমি। সদলবলে স্বচ্ছন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে।'
প্রাণী বিজ্ঞানী মানসকুমার দাসের কথায়, 'আগে নির্দিষ্ট সময়ে, সীমিত সংখ্যায় ময়ূর দেখা যেত। এখন ঝাঁকে ঝাঁকে দেখা মিলছে। এখানে প্রশিক্ষণ নিতে আসা চাষি, ছাত্রছাত্রীদের কাছেও এখন চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ময়ূরের উপস্থিতি।'
