আইপিএলের রিটেনশন পর্ব যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে নিয়ে জল্পনা। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন দলের সঙ্গে হার্দিক পাণ্ডিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। মুম্বই ছাড়লে কোথায় যাবেন ভারতীয় অলরাউন্ডার? গন্তব্য হিসাবে উঠে এসেছিল একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজির নাম। সেই তালিকায় ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স, চেন্নাই সুপার কিংস, রাজস্থান রয়্যালসও। এরই মধ্যে খবর, রাজস্থান-মুম্বইয়ে আলোচনা ভেস্তে গিয়েছে। ফলত কেকেআরের জার্সিতে হার্দিককে দেখা যেতেই পারে। যদিও আদতে অলরাউন্ডার হার্দিক কোথায় যাবেন, তা নিয়ে জট কাটেনি।
এক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ওয়েবসাইটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হার্দিকের বদলে রাজস্থানের ওপেনার যশস্বী জয়সওয়ালকে দলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল মুম্বই। দুই ক্রিকেটারকে অদলবদল করার পরিকল্পনা নিয়েই এগিয়েছিল দুই ফ্র্যাঞ্চাইজি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আলোচনা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২৬ সালের মরশুমের আগে হার্দিককে ১৬.৩৫ কোটি টাকায় ধরে রেখেছিল মুম্বই। অন্যদিকে, রাজস্থান যশস্বীকে রিটেন করেছিল ১৮ কোটি টাকায়। মুম্বইয়ের ভূমিপুত্র যশস্বীও নিজের শহরের ফ্র্যাঞ্চাইজিতে ফেরার বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন বলে খবর। ফলে এই সোয়াপ ডিল নিয়ে জল্পনা বেড়েছিল। তবে কয়েক দফা আলোচনার পরেও চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি।
হার্দিকের বদলে রাজস্থানের ওপেনার যশস্বী জয়সওয়ালকে দলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল মুম্বই। দুই ক্রিকেটারকে অদলবদল করার পরিকল্পনা নিয়েই এগিয়েছিল দুই ফ্র্যাঞ্চাইজি।
রাজস্থানের দিক থেকেও অবশ্য এই প্রস্তাব একেবারে অযৌক্তিক ছিল না। যশস্বীর পরিবর্তে হার্দিকের মতো অলরাউন্ডারকে পেলে দলের ভারসাম্য বাড়তে পারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনাও বাস্তবের মুখ দেখল না। এর আগে হার্দিকের চেন্নাই সুপার কিংসে যোগ দেওয়া নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে সেই জল্পনাও আপাতত থমকে গিয়েছে। চেন্নাইয়ের কোচ হিসাবে জাহির খানের উপস্থিতিই নাকি এই সম্ভাবনাকে জটিল করে তুলেছে বলে জানা গিয়েছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে। অতীতে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে জাহিরের দায়িত্ব পালনের সময় হার্দিকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল বলেও সূত্রের খবর।
এদিকে হার্দিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনার মধ্যেই মুম্বইয়ের অধিনায়কত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। রোহিত শর্মাকে আবার নেতৃত্বে ফেরানো হতে পারে বলে খবর ছড়ায়। কিন্তু সেই জল্পনা নস্যাৎ করেছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স কর্তৃপক্ষ। রোহিতকে পুনরায় অধিনায়ক করার বিষয়ে কোনও আলোচনাই হয়নি বলে জানানো হয়েছে। এই আবহে প্রশ্ন, আগামী মরশুমে কেকেআরের জার্সিই গায়ে চাপাচ্ছেন হার্দিক? আসলে আইপিএলের আগামী মরশুমে হার্দিক পাণ্ডিয়া যে আর মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের জার্সি গায়ে চাপাবেন না সেটা একপ্রকার স্পষ্ট। তাঁর কেকেআর যোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। শোনা যায়, গতবছর আইপিএলের শেষদিকেই কেকেআর কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করেছিল মুম্বই ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে। রাহানেকে সরিয়ে পাকাপাকিভাবে হার্দিককে নাইট অধিনায়ক করার পরিকল্পনা নাকি সেই সময় থেকেই। কিন্তু রিলায়্যান্সের এজিএম এবং অন্যান্য কারণে কিছু হয়ে ওঠেনি।
হার্দিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনার মধ্যেই মুম্বইয়ের অধিনায়কত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। রোহিত শর্মাকে আবার নেতৃত্বে ফেরানো হতে পারে বলে খবর ছড়ায়। কিন্তু সেই জল্পনা নস্যাৎ করেছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স কর্তৃপক্ষ।
তবে সম্প্রতি আবারও নাকি কেকেআর এবং মুম্বইয়ের মধ্যে বৈঠক হয়। বেশ কয়েক দফায় আলোচনাও হয় দুই পক্ষের মধ্যে। তবে পুরো বিষয়ই এখনও জল্পনার স্তরে। পাকাপাকি খবর পেতে এখনও বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। সহ-অধিনায়ক রিঙ্কু সিং থাকলেও এখনই তাঁকে নেতা হিসাবে ভাবতে পারছে না নাইট শিবির। সেকারণেই হার্দিক দলে নিয়ে ক্যাপ্টেন করার পরিকল্পনা চলছে। তবে হার্দিকের সঙ্গে কোনও ক্রিকেটারকে ট্রেড করা হবে, নাকি স্রেফ ক্যাশ ডিল হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। এখন দেখার, পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়।
