সাপ্তাহিক পুঁজিবাজার: লেনদেন কমেছে ১৬ শতাংশ
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
খবরের কাগজ গ্রাফিক্স
-->গত সপ্তাহের তিন কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে নিম্নমুখিতা দেখা গেছে। এ সময় এক্সচেঞ্জটিতে ১ হাজার ১৮৬ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ২ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা। গত সপ্তাহে বেশির ভাগ খাতের শেয়ারে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এ ছাড়া দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গত সপ্তাহে লেনদেন আগের সপ্তাহের চেয়ে কমেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৫১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৫ হাজার ৪৫২ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৭ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১০৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ৯৭ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৭৮ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৮১টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১২৬টির, কমেছে ২১৩টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৪২টির। আর লেনদেন হয়নি ৩০টির। গত সপ্তাহে সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস, ইসলামী ব্যাংক, এনবিএল, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ ও এপেক্স ফুটওয়ারের শেয়ার।
খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে বস্ত্র খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে বস্ত্র খাত। ১২ দশমিক ৬ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সাধারণ বিমা খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ব্যাংক খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়ন খাত ৯ দশমিক ৫ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা মিউচুয়াল ফান্ড খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৭ দশমিক ১ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে বেশির ভাগ খাতের শেয়ারে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ১ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে পাট খাতে। এ ছাড়া কাগজ ও ভ্রমণ খাতে ১ দশমিক ৬ শতাংশ, বিবিধ খাতে দশমিক ৯ শতাংশ, বস্ত্র ও চামড়া খাতে দশমিক ৮ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। অন্যদিকে ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে সিরামিক খাতে ১ শতাংশ, ব্যাংক খাতে দশমিক ৯ শতাংশ, জ্বালানি খাতে দশমিক ৫ শতাংশ।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি সায়হাম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের গত সপ্তাহের তিন কার্যদিবসে ৪৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ ছিল কোম্পানিটির দখলে। এতে ডিএসইর সাপ্তাহিক লেনেদেনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে সায়হাম টেক্সটাইল। ডিএসই সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫১ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৭ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪৩ টাকা ৭৫ পয়সায়।
চামড়া খাতের কোম্পানি এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের শেয়ার দর গত সপ্তাহে ১৩ দশমিক ৫২ শতাংশ কমেছে। সপ্তাহ শেষে কোম্পানিটির শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১৬৮ টাকা ২০ পয়সা, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১৯৪ টাকা ৫০ পয়সা। এতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষ তালিকায় উঠে এসেছে কোম্পানিটি।
সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়ে ১৪ হাজার ৬০৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৪ হাজার ৫৭৭ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ৯৭৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৮ হাজার ৯৪৮ পয়েন্ট।
সিএসইতে গত সপ্তাহে ৩৮ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২২৮টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৯১টির, কমেছে ৯৯টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৩৮টির শেয়ার দর।
আরও পড়ুন
এক সফটওয়্যারের আওতায় আসবে ব্রোকারেজ হাউস
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৪ এএম
খবরের কাগজ গ্রাফিক্স
-->বিনিয়োগকারীদের অর্থ ও শেয়ার আত্মসাতের ঘটনা ঠেকাতে দেশের সব ব্রোকারেজ হাউসকে একটি সমন্বিত ব্যাক অফিস সফটওয়্যারের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
এ লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। প্রস্তাবিত সফটওয়্যারের মাধ্যমে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ব্যাংক হিসাব, গ্রাহকদের কনসোলিডেটেড কাস্টমার অ্যাকাউন্ট (সিসিএ) এবং শেয়ারসংক্রান্ত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
বিএসইসির প্রত্যাশা, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্রোকারেজ হাউসের হিসাবের সঙ্গে প্রকৃত অর্থ ও শেয়ার ধারণের তথ্যের অসংগতি দ্রুত শনাক্ত করা যাবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের সম্পদ সুরক্ষা এবং পুঁজিবাজারে নজরদারি আরও জোরদার হবে।
সম্প্রতি এ বিষয়ে বিএসইসি, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এবং সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিসিবিএল) প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি বৈঠক হয়েছে। এতে সমন্বিত সফটওয়্যার চালুর সম্ভাব্য সুবিধা, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, বাস্তবায়ন ব্যয় এবং পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়।
যে কারণে প্রয়োজন সমন্বিত সফটওয়্যার
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস আলাদা প্রতিষ্ঠানের তৈরি ব্যাক অফিস সফটওয়্যার ব্যবহার করে। ফলে একটি অভিন্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে সব প্রতিষ্ঠানের হিসাব ও লেনদেন তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা কঠিন। কোনো ব্রোকারেজ হাউসের সফটওয়্যারে দেখানো অর্থ বা শেয়ারের পরিমাণের সঙ্গে বাস্তবে থাকা অর্থ ও শেয়ারের অমিল থাকলেও তা শনাক্ত করতে সময় লাগতে পারে।
সমন্বিত সফটওয়্যার চালু হলে ব্রোকারেজ হাউসের ব্যাংক হিসাবের স্থিতির সঙ্গে গ্রাহকদের হিসাবে দেখানো অর্থের মিল যাচাই করা যাবে। একইভাবে ব্রোকারেজ হাউসের শেয়ারসংক্রান্ত রেকর্ডের সঙ্গে সিডিবিএলে সংরক্ষিত তথ্য মিলিয়ে দেখা সম্ভব হবে। এতে বিনিয়োগকারীদের প্রকৃত অর্থ ও শেয়ার ধারণের চিত্র সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য ধারণা পাওয়া যাবে।
কোনো হিসাবে ঘাটতি দেখা দিলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্টক এক্সচেঞ্জগুলো আগাম সতর্কবার্তা পেতে পারে। ফলে অনিয়ম বড় আকার ধারণ করার আগেই ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে এ জন্য সফটওয়্যারটির সঙ্গে ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় শেয়ার সংরক্ষণব্যবস্থার কার্যকর সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
বাস্তবায়নে ব্যয় ও প্রযুক্তিগত ঝুঁকি
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সমন্বিত সফটওয়্যার চালুর ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে বাস্তবায়ন ব্যয়, বিদ্যমান সফটওয়্যার থেকে তথ্য স্থানান্তর এবং দক্ষ জনবলের ব্যবস্থা করা। যেসব ব্রোকারেজ হাউস ইতোমধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জের প্যানেলভুক্ত সফটওয়্যার ব্যবহার করছে, তাদের তথ্য স্থানান্তর, নতুন অবকাঠামো তৈরি এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণে বাড়তি ব্যয় হতে পারে।
প্রস্তাবিত সফটওয়্যারটি যদি কোনো স্টক এক্সচেঞ্জের কেন্দ্রীয় অবকাঠামোয় পরিচালিত হয়, তা হলে বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটি বা সাইবার হামলায় একসঙ্গে একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। এতে লেনদেন-পরবর্তী হিসাব সমন্বয়, গ্রাহকসেবা এবং অন্যান্য কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিকল্প সার্ভার, দুর্যোগকালীন পুনরুদ্ধারব্যবস্থা, শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা এবং নিয়মিত স্বাধীন নিরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সফটওয়্যার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকে দক্ষ জনবল নিয়ে পৃথক ইউনিটও গঠন করতে হতে পারে।
সুবিধা পাবেন বিনিয়োগকারীরা
সমন্বিত সফটওয়্যার কার্যকরভাবে চালু হলে বিনিয়োগকারীদের নিজস্ব অর্থ ও শেয়ারের স্থিতি যাচাই করা সহজ হবে। ব্যক্তিগত নিরাপদ লগইন, তাৎক্ষণিক লেনদেনের নোটিফিকেশন এবং হিসাবের পরিবর্তনের পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড থাকলে অস্বাভাবিক লেনদেন দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবেন তারা। সামগ্রিকভাবে সমন্বিত সফটওয়্যার পুঁজিবাজারে নজরদারি বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে তথ্যের নির্ভুলতা, প্রযুক্তির নিরাপত্তা, যৌক্তিক ব্যয় এবং কার্যকর তদারকির ওপর।
ছয় ব্রোকারেজ হাউসের বিরুদ্ধে ৬০৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
ব্রোকারেজ হাউসের অনিয়মের কারণে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির পরিমাণ সমন্বিত নজরদারির প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করেছে। ছয়টি ব্রোকারেজ হাউসের বিরুদ্ধে মোট ৬০৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যাক অফিস সফটওয়্যারের অপব্যবহার করে এসব অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগে মোশিউর সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে ১৬১ কোটি টাকা, তাহমা সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে ১৪০ কোটি টাকা, ব্যাংকো সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে ১২৮ কোটি টাকা, সালতা ক্যাপিটালের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকা, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে ৬৫ কোটি টাকা এবং শাহ মোহাম্মদ সাগীর সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে ১৪ কোটি টাকা আত্মসাতের কথা বলা হয়েছে। এসব ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের অর্থ ও শেয়ার ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে শুধু ব্যাংক হিসাবের অর্থ পর্যবেক্ষণ করলেই চলবে না। বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ধারণ, লেনদেনের রেকর্ড এবং কেন্দ্রীয় ডিপোজিটরিতে সংরক্ষিত সিকিউরিটিজের তথ্যও নিয়মিত যাচাই করতে হবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে নজরদারির ব্যবস্থাবাজার গবেষণা রিপোর্ট
বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং বিনিয়োগকারীদের অর্থ ও সিকিউরিটিজ সুরক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রক সুরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে।
ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (এনএসই) ব্রোকারদের লেনদেন ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে। পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকারদের ব্যাক অফিস সফটওয়্যারের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও তথ্য নিরাপত্তার মানদণ্ড নির্ধারণ করে।
সিঙ্গাপুরে মনিটারি অথরিটি অব সিঙ্গাপুর (এমএএস) ব্রোকারদের আর্থিক সক্ষমতা এবং গ্রাহকদের সম্পদ সুরক্ষাসংক্রান্ত বিধি পরিপালন তদারকি করে। অন্যদিকে হংকংয়ের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ফিউচারস কমিশন (এসএফসি) ব্রোকারদের গ্রাহক হিসাব, অর্থ ও শেয়ারের হিসাব সমন্বয় এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা পর্যালোচনা করে।
আরও পড়ুন
বিশেষজ্ঞদের মত ক্ষতিপূরণ দেওয়ায় আস্থা ফিরবে পুঁজিবাজারে
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০০ এএম
আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
খবরের কাগজ গ্রাফিকস
-->সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পথে বসলেও ক্ষতিপূরণ জোটেনি। এবারে কিন্তু ব্যতিক্রম। ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ক্ষতিপূরণ দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরবে। এতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়বে।
তারা আরও বলেছেন, ক্ষতিপূরণ দেওয়ায় দেশের পুঁজিবাজারে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দীর্ঘদিন ধরে মন্দা, অনাস্থা এবং কারসাজির কারণে যে বাজার স্থবির হয়ে পড়েছিল, তা পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারের ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যখন ক্রমাগত মূলধন হারিয়ে বাজারবিমুখ হচ্ছিলেন, ঠিক তখনই এই পদক্ষেপ তাদের মধ্যে নতুন করে আস্থার আলো দেখাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, কেবল নীতিগত-সহায়তা নয়, এভাবে সরাসরি ক্ষতিপূরণ ও প্রণোদনা দেওয়া সম্ভব হলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ পরিবেশ দ্রুত স্বাভাবিক হবে। বাজারে আস্থা ফেরায় মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং মূলধন বাজারকে শক্তিশালী করতে প্রধান ভূমিকা রাখবে।
যে প্রক্রিয়ায় অর্থ ফেরত দেওয়া হবে
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল (আইপিএফ) থেকে গ্রাহকদের এ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। পাঁচটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের ১৭ হাজার ৩৩২ জন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর পাওনা পরিশোধ করবে ডিএসই। এ প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ৯৭ শতাংশ বিনিয়োগকারী বা গ্রাহক তাদের বিনিয়োগের পুরো টাকা ফেরত পাবেন। এরই মধ্যে এ বিনিয়োগকারীদের একটি অংশকে আইপিএফ ও ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ উদ্যোগে এ পর্যন্ত মোট ৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
ডিএসইর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীদের ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওনা আইপিএফ থেকে পরিশোধ করা হবে। এতে ১৭ হাজার ৩৩২ জন বিনিয়োগকারীর শতভাগ পাওনা পরিশোধ হবে। এই পাওনার মোট পরিমাণ ৭২ কোটি টাকা। বাকি ৫৯৫ জন বড় বিনিয়োগকারীর অবশিষ্ট পাওনা টাকা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসগুলোর শেয়ার, সম্পত্তি ও পরিচালকদের ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি অর্থ পরিশোধের আইনি পদক্ষেপ চলমান রয়েছে।
ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া দেশের পুঁজিবাজারের জন্য একটি মাইলফলক। অনেকে তাদের জীবনের সঞ্চয় বা পেনশনের সব টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে লোকসান করে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। ডিএসইর এ পদক্ষেপে বাজারের প্রতি সাধারণ মানুষের হারানো আস্থা অনেকটাই পুনরুদ্ধার হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), দুই স্টক এক্সচেঞ্জ, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এবং ব্রোকারেস হাউসসহ বাজারসংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ১৭ হাজার ৯৬৭ জন বিনিয়োগকারীর তথ্য, তাদের বিনিয়োগের হিসাব এবং চূড়ান্ত ব্যালেন্স নির্ধারণ করা কঠিন কাজ ছিল। ডিএসইর ব্যবস্থাপনায় সেই কাজ সম্পন্ন করেছে। এখন বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কাজটিও স্বচ্ছতার সঙ্গে করা হবে।
ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান ,পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পদক্ষেপটি বাজারে আস্থা ফেরাতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, কারসাজি এবং প্রতারণার শিকার হয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যখন পুজিঁবাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলেন, তখন এই ধরনের আর্থিক সহায়তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ ইতিবাচক বার্তা বহন করেছে। তবে এই ক্ষতিপূরণের অর্থ যেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের হাতেই পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, অতীতে অনেক সময় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার সুফল ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা পাননি। সরকারের ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত হবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত রেখে এই ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়াটি দ্রুত এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে।
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০১১ সালের ধস-পরবর্তী সময়ে হাজার হাজার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছিলেন। এর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও কারসাজিকারীদের দাপট, দুর্বল তদারকি এবং অনিয়মের কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। বারবার প্রতিশ্রুতি এবং স্বল্পমেয়াদি নানা সহায়তা দেওয়া হলেও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কখনোই তাদের প্রকৃত ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার মতো সুযোগ পাননি। ফলে একটি বড় শ্রেণির বিনিয়োগকারী বাজার ছেড়ে চলে যান এবং যারা রয়ে যান, তারাও নতুন করে বড় কোনো মূলধন খাটানো থেকে বিরত থাকেন। এ অবস্থায় বাজারে তারল্যসংকট তীব্র রূপ নেয় এবং তালিকাভুক্ত ভালো কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দরও অযৌক্তিকভাবে কমতে থাকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিএসইসি কর্তৃক গঠিত পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্সের সদস্য মো. আল-আমিন খবরের কাগজকে বলেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই পুঁজিবাজারে মূলধনের মূল জোগানদাতা। তারা যদি সুরক্ষিত বোধ না করেন, তবে শুধু নীতিগত সংস্কার করে বাজার চাঙা করা সম্ভব নয়। ক্ষতিপূরণ প্রদান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে এই বার্তা সুস্পষ্ট করা হচ্ছে যে, বিনিয়োগকারীদের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব এখন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। এই পদক্ষেপের কারণে বাজারে নতুন ও পুরোনো উভয় ধরনের বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
চার প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল থেকে চারটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের দাবি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- বাংকো সিকিউরিটিজ লিমিটেড, তামহা সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের যাচাই করা এবং এখনো নিষ্পত্তি না হওয়া দাবির বিপরীতে বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিলের বিধান অনুসরণ করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক বিনিয়োগকারী সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন। তবে বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষতিপূরণ বিতরণের নির্দিষ্ট সময়সীমা বা মোট কতজন বিনিয়োগকারী এ সুবিধা পাবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
চার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশ ব্যাংক ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অধীন মোট ১২টি পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুটি স্টক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান এবং দুটি মার্চেন্ট ব্যাংকার প্রতিষ্ঠানের নিট সম্পদ পর্যাপ্ত রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি মূল্যায়ন সূচকেও তাদের অবস্থা সন্তোষজনক হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
স্টক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান দুটি হলো- প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ ব্রোকিং লিমিটেড এবং এভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। অন্যদিকে মার্চেন্ট ব্যাংকার প্রতিষ্ঠান দুটি হলো- পিএলএফএস ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড এবং প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।
সাত প্রতিষ্ঠানকে ঘাটতি পূরণে সময়
নিট সম্পদসহ অন্যান্য সিকিউরিটিজ আইন ও বিধিবিধান পরিপালনে ঘাটতি থাকায় সাতটি পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ঘাটতি নিরসন ও প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন পরিপালন নিশ্চিত করতে ২০২৭ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়েছে কমিশন।
এই সাত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটি স্টক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান হলো- প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ফারইস্ট স্টকস অ্যান্ড বন্ডস লিমিটেড এবং পিএফআই সিকিউরিটিজ লিমিটেড।
এ ছাড়া দুটি মার্চেন্ট ব্যাংকার প্রতিষ্ঠান- আইএল ক্যাপিটাল লিমিটেড ও জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান- প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডকে একই সময়সীমার মধ্যে ঘাটতি পূরণ ও বিধিবিধান পরিপালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
রডের দাম টনে বেড়েছে ৩ হাজার টাকা
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৫ এএম
আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->আগের মতো রড ও সিমেন্টের চাহিদা নেই। বেচাকেনাও নেই। তার পরও নির্মাণসামগ্রীর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই দুই পণ্যের দাম বেড়েছে। প্রতি টন রডে ২-৩ হাজার টাকা বেড়ে মানভেদে ৮৭-৯৩ হাজার ৫০০ টাকা ছুঁয়ে গেছে। সিমেন্টের বস্তায় ২০-২৫ টাকা বেড়ে ৫২০-৫২৫ টাকা হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণেই এভাবে দাম বেড়ে গেছে। দেশে অর্থনৈতিক মন্দা অবস্থা না থাকলে এসব নির্মাণসামগ্রীর আরও দাম বাড়ত। গতকাল বিভিন্ন স্থান ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের ধাক্কা লাগে উন্নয়নকাজে। আবাসনশিল্পে আরও ধাক্কা লাগে। বেসরকারি খাতে নতুন করে কোনো কাজ তেমন হচ্ছে না। এ জন্য রড-সিমেন্টের চাহিদা কমে গেছে। এর ফলে দামও আগের তুলনায় কিছুটা কমে যায়। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে মানভেদে প্রতি টন রড ৮৯ থেকে ৯২ হাজার টাকা বিক্রি হয়। সিমেন্টের বস্তাও ৫০০ টাকায় নেমে আসে।
কিন্তু গত সেপ্টেম্বর মাসে সরকার জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫, অকটেন ১৬৫ এবং পেট্রল ১৬০ টাকায় বিক্রির ঘোষণা দেয়। তার পর থেকেই সব জিনিসের দাম বাড়তে শুরু করে। রডের দামও বেড়ে গেছে প্রতি টনে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ অটো রি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও শাহরিয়ার স্টিল মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস কে মাসাদুল আলম মাসুদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর থেকে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নেই। বেচাকেনা কমে গেছে। এরপর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে সম্প্রতি সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। এর প্রভাবে আমাদের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। তাতে প্রতি টন রডে ৫ হাজার টাকারও বেশি খরচ বাড়ার কথা। কিন্তু দেশে মন্দা অবস্থা বিরাজ করছে। উন্নয়নকাজ তেমন হচ্ছে না। চাহিদাও নেই। সেই কারণে রডের দাম অত বাড়েনি। টনে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা মতো বেড়েছে।’
এক প্রশ্নের উত্তরে কে এম মাসাদুর রহমান মাসুদ বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে নির্মাণসামগ্রীর এই খাতটি ঝামেলায় পড়ছে। দাম সব সময় চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। বিক্রি অনেক কমে গেছে। সরকার তথা এনবিআর থেকে এ খাতে বিভিন্ন ধরনের অযাচিত কর ও শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। কাঁচামালের ওপর শুল্ক বেশি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও ব্যাংকের নীতি সহায়তা (পলিসি সাপোর্ট) বাড়াতে হবে। শুল্কহার কমালে কমবে রডের দাম। ডলারের দামও ৪০ শতাংশ বেড়েছে। ডলারের দাম হয়তো কমবে না। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে বিলেটের দাম কমলে কিছুটা কমতে পারে রডের দাম।
অন্য শিল্পে কেমন প্রভাব পড়তে পারে–এমন প্রশ্নের উত্তরে এই শিল্পোদ্যোক্তা বলেন, ‘সব মিলিয়ে এ শিল্পে ৫০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে। প্রত্যক্ষভাবে কাজ করেন প্রায় দুই লাখ মানুষ। পরোক্ষভাবে জড়িত আরও দুই কোটি পরিবার। সারা দেশের গ্রাম থেকে শুরু করে শহরের আনাচে-কানাচে ফেরিওয়ালা থেকে শুরু করে বন্দরের পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত সবাই এ শিল্পের সঙ্গে পরোক্ষভাবে যুক্ত। রডের সঙ্গে ইট, বালি, সিমেন্ট, থাই, গ্লাস, তার, কেব্ল, ইলেকট্রিক কারখানা জড়িত। রড তৈরির কাঁচামাল হলো পুরোনো লোহার টুকরো। এই কাঁচামাল সরাসরি আমদানি করে প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করেন উৎপাদকরা। বাকি প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ আসে জাহাজ ভাঙা শিল্প এবং লোকাল ভাঙারি বর্জ্য থেকে। কিন্তু সরকার বেশি কর শুল্ক ধার্য করায় উৎপাদন খরচ বাড়ছে, যার প্রভাব ভোক্তাদের ঘাড়ে পড়ছে। এ জন্য রডের দর বেশি। এর প্রভাব সব জায়গা পড়ছে।’
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের মেসার্স বিক্রমপুর স্টিলের ব্যবস্থাপক রাকিব হাসান খবরের কাগজকে বলেন, ‘সরকার পরিবর্তনের পর বেচাবিক্রি একেবারে কমে গেছে। চাহিদা তেমন নেই। এ জন্য রড-সিমেন্টের দামও কম। তবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর সিমেন্টের দাম বস্তায় ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে। ব্র্যান্ডভেদে ৫২০ থেকে ৫২৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। রডের টন ৮৭ হাজার থেকে ৯১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কেউ বেশি করে কিনলে আরও কম দরে মিল থেকে এনে দেওয়া যাবে।’
একই এলাকার মেসার্স জলিল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুল জলিল খবরের কাগজকে বলেন, বছর দুয়েক থেকেই বেচাকেনা কম। রড-সিমেন্টের দাম কিছুটা কমেছিল। কিন্তু গত মাসে সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালে রড-সিমেন্টের দামও বেড়ে গেছে। মানভেদে রডের টনে বেড়েছে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। আর সিমেন্টের বস্তায় বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। একেএস কোম্পানির রড বিক্রি করা হচ্ছে ৯৩ হাজার ৫০০ টাকা, রহিম স্টিলের রড ৮৮ হাজার ৫০০ থেকে ৯০ হাজার টাকা। তবে অন্য কোম্পানির রড কম-বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। দাম বেড়ে শাহ সিমেন্ট, ক্রাউন ও আকিজ সিমেন্ট ৫৩০ টাকা বস্তা, ফ্রেশ ৫২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’
এক প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেন, ‘আমরা দাম কমানো-বাড়ানোর ব্যাপারে কিছুই না। মিল মালিকরা হচ্ছেন প্রধান পার্ট। তারা কমালে আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারব। আমরা সামান্য লাভ করি। ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করি। বেশি দাম হলে আমাদেরও খারাপ লাগে। এতে বিক্রি কমে যায়। দাম কমলে চাহিদা বাড়ে। উন্নয়নকাজে গতি বাড়লে চাহিদা বাড়বে। বেসরকারি খাতের ব্যবসাও চাঙা হবে।’
ঢাকার বাইরেও একই অবস্থা বলে বিভিন্ন রড-সিমেন্ট কোম্পানির সংশ্লিষ্টরা জানান। তারা বলেন, গ্রামেও ভালো উন্নতি হচ্ছে। মানুষ শহরের মতো বিভিন্ন ডিজাইনের বাড়ি নির্মাণ করছেন। কিন্তু কয়েক বছর থেকে নির্মাণকাজ ধীর হয়ে গেছে। আগের মতো বেচাকেনা হয় না।
এ ব্যাপারে নওগাঁ জেলা সদরের মেসার্স আহসান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. রুহুল আমিন নয়ন খবরের কাগজকে বলেন, ‘দেশে একের পর এক ঘটনা ঘটছে। ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না। ইউনূস সরকারের আমলে অস্থির হয়ে যায় দেশের অবস্থা। নির্মাণ কাজ থমকে যায়। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে আশা করেছিলাম চাঙ্গা হবে ব্যবসা। কিন্তু সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় রড-সিমেন্টের দাম আবার বেড়ে গেছে। কেজিতে ২ টাকা বেড়ে বিএসআরএম কোম্পানির রড ৯৩ টাকা কেজি, একেএস ৯২ টাকা ও সিএসআরএম ৮৭ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। একইভাবে সিমেন্টের দামও বেড়েছে প্রতি বস্তায় ১০ থেকে ১৫ টাকা। হোলসিম সিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে ৬১০ টাকা, সেভেন রিং ৫৭০ টাকা, আশা ৫৫০ টাকা। এ ছাড়া অন্য সিমেন্টের দামও বেড়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সব সময় আশা করি রড-সিমেন্টের দাম কম থাকুক। বেশি বিক্রি হোক। এতে আমাদেরও লাভ হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে বিপরীত চিত্র। বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টের পর এই অবস্থা হয়েছে। কারণ ওই সময়ে যাদের হাতে টাকা ছিল, তারা তো সরে গেছে। সেই জায়গা পূরণ হয়নি। এরপর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরকার। এতে পরিবহন খরচ, উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। তার প্রভাবে রড-সিমেন্ট থেকে শুরু করে নির্মাণসামগ্রীর এমন কোনো পণ্য নেই যে দাম বাড়েনি। কিন্তু মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। তাই বিলাসী জীবন-যাপন থেকে কিছুটা সরে আসতে হচ্ছে মানুষকে। দেখা গেছে, অনেকেই কৃষিকাজ করেও বিল্ডিং-বাড়ি নির্মাণ করেছেন। কিন্তু সেই অবস্থা থেকে অনেকেই সরে আসছেন। কারণ উৎপাদন খরচ বাড়লেও ধান-চালের দাম তেমন পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু চিনি, সাবান, পাউডারসহ অন্য নিত্যপণ্যের দাম তো বেড়েই যাচ্ছে। একই আয়ে ওই সব পণ্য কেনা যাচ্ছে না। তাহলে বিল্ডিং নির্মাণ করবে কীভাবে। এ জন্যই নির্মাণসামগ্রীর বিক্রিও কমে যাচ্ছে। আগের মতো ক্রেতারা আসেন না।
বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানায়, দেশে স্বয়ংক্রিয় ইস্পাত কারখানা আছে ৩০টি। সনাতন পদ্ধতির কারখানা আছে ১০০টির মতো। বছরে এসব মিলে রডের উৎপাদন সক্ষমতা (প্রডাকশন ক্যাপাসিটি) রয়েছে ৯০ লাখ টন। বছরে দেশে রডের চাহিদা আছে ৫৫-৬০ লাখ টন। চাহিদা কমে যাওয়ায় উৎপাদনও অনেক বন্ধ হয়ে গেছে। ৪০ শতাংশ উৎপাদন হচ্ছে। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পেরে অনেক ছোট কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন
নির্মাণ খাতে খরচ বেড়েছে
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩০ এএম
আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
রাজধানীর মহাখালী এলাকায় নির্মাণকাজ চলছে। ছবি: খবরের কাগজ
-->করোনাকালে নির্মাণ খাতের ব্যবসায়ে ধস নামে। জীবনঘাতী এ ব্যাধি কমার পর নির্মাণ খাতের ব্যবসায়ে গতি আসতে শুরু করে। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আবারও এ ব্যবসায়ে বিপর্যয় নেমে আসে। ডলারের দাম বেড়ে উচ্চমূল্যেই স্থির হয়ে আছে। ব্যাংকগুলোও এলসি বা ঋণপত্র খোলায় কড়াকড়ি করে। এতে সাধারণ ব্যবসায়ীদের বেশির ভাগেরই পণ্য আমদানির সুযোগ কমে যায়। এ পরিস্থিতির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা দেখা দেয়। এতে নির্মাণ খাতের বিপর্যয় আরও বেড়েছে, যা এখনো চলছে।
শিল্পখাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন থামছে না। আন্তর্জাতিক বিষয়গুলো আমাদের হাতে নেই। কিন্তু যা আমাদের হাতে আছে সেখানে জোর দিতে হবে। তাই নির্মাণ খাতের ব্যবসায়ে গতি আনতে হলে সরকারের কাছে রাজস্ব ছাড়, সুদের হার কমানো, প্রণোদনা প্যাকেজ, বিশেষ তহবিল ঘোষণাসহ নীতি-সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানাই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্মাণ খাতের সঙ্গে স্ক্রু, রড, সিমেন্ট, বালু, ইলেট্রিক সামগ্রী, পাইপ, রং, পেইন্ট, কাঠ, রেডিমিক্স তৈরির কারখানা, রি-রোলিং স্টিল মিলস, রেডিমিক্স সাইলো (জেটি) তৈরির শিল্প, স্টিল মিল (স্টিলবার, এঙ্গেল, প্ল্যাটবার ইত্যাদি তৈরি), স্টাইনলেস স্টিল মিল, ব্রিকস ম্যানুফেকচারিং কারখানা, কাস্ট আয়রন মিলস, অটো ব্রিকস ম্যানুফেকচারিং ইন্ডাস্ট্রিজ, সিরামিক ব্রিকস ইন্ডাস্ট্রিজ, করোগেটেড শিট প্রস্তুত কারখানা, সিআই শিট প্রস্তুত কারখানা, সাধারণ ইট প্রস্তুত ব্রিক ফিল্ড, কংক্রিট ব্লক ম্যানুফেকচারিং ইন্ডাস্ট্রি, ব্ল্যাক ও জিপি শিট মেকিং ফ্যাক্টরি, বালি, সাটার মেকিং ফ্যাক্টরি, স্টিল প্রস্তুতকারক মেশিনারিজ তৈরির কারখানা, তারকাটা তৈরির কারখানা, নাট, বোল্ট, সিমেন্ট ব্যাগ তৈরির কারখানা, সিমেন্ট ফিগমেন্ট তৈরির কারখানা, সিমেন্ট ক্লিংকার প্রস্তুত কারখানা, সাটার, লাইম ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজসহ ২১১ শিল্প খাত জড়িত।
রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সভাপতি ড. আলী আফজাল খবরের কাগজকে বলেন, গত ৩ বছরে ২১১ শিল্প খাতের গড়ে ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় বেড়েছে। এর ফলে আবাসন খাতে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। শুধু আবাসন খাত নয়, ঠিকাদারিসহ নির্মাণ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ে ব্যয় বেড়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্মাণ খাতসংশ্লিষ্ট উপকরণের মধ্যে রডের দাম সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এখন সবচেয়ে বেশি। রডের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকে নির্মাণকাজ চালিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে। অনেকে কাজ থামিয়ে দিয়েছেন। অনেকে কাজ শুরুর পরিকল্পনা করেও বসে আছেন।
সকল গ্রেডের রড গত ছয় মাসে গড়ে ৩৮ শতাংশ বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। এ ছাড়া ইট, বালু, পাথর, সিমেন্ট, থাইগ্লাস, অ্যালুমিনিয়াম পণ্য, এসএস পাইপ, ইনডোর ফিটিংসহ অন্য নির্মাণসামগ্রীর দামও বেড়েছে ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত।
বাংলাদেশ অটো রি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও শাহরিয়ার স্টিল মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসকে মাসাদুল আলম মাসুদ খবরের কাগজকে বলেন, রডের দাম বাড়ায় সমগ্র নির্মাণ খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অনেকে প্রস্তুতি নিয়েও কাজ শুরু করছেন না। দাম কমার অপেক্ষায় আছেন। এভাবে নির্মাণ খাত স্থবির হয়ে আছে।
রিহ্যাবের সাবেক সহসভাপতি কামাল মাহমুদ খবরের কাগজকে বলেন, প্রত্যেকটি নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়েছে। কোভিড মহামারি শুরুর আগে ২০২০ সালে রডের দাম ছিল প্রতিটন ৫২ হাজার টাকা। তা বেড়ে ৯০ হাজার টাকা বা তার বেশিও বিক্রি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নির্মাণ খাতের কাঁচামালের কিছুটা (৩০ শতাংশ) জোগান দেশি উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়। কম দামে কেনা রড এখন কারও সংগ্রহে নেই। এখন যে বা যারা নির্মাণকাজ করবেন তা বেশি দামে কেনা পণ্য দিয়েই করতে হবে। এতে লাভ তো দূরে থাক, খরচই উঠবে না, বরং লোকসান হবে।
শিল্প খাতসংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বিশ্ববাজারে রডের প্রধান কাঁচামাল বিলেট ও স্ক্র্যাপের চাহিদা বেড়ে গেছে। কিন্তু সরবরাহ সেই হারে বাড়েনি, তাই ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আর এই কারণে দেশের বাজারে রডের দাম আরও বাড়বে, এমন আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী জাহাজ ভাড়াও বেড়েছে। অন্যদিকে তুরস্ক, ব্রাজিল, ব্রিটেনসহ রপ্তানিকারক দেশগুলোতে নির্মাণসামগ্রীর অভ্যন্তরীণ চাহিদা বেড়ে যাওয়ার রপ্তানি কমেছে। এটাও আন্তর্জাতিক বাজারে নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ।
রাজধানীর গাবতলীতে আমিনবাজার সেতুর পাশে বালুঘাট এলাকায় রয়েছে ইট, বালি, পাথরসহ নির্মাণশিল্পের বেশ কিছু উপকরণের দোকান। এখানকার বিক্রেতা মো. সালে উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, পাথরের দাম বেড়েছে। কিন্তু সরবরাহ কমে গেছে। আরেক বিক্রেতা হাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ইটের দাম অনেক বেড়েছে। শীতের শুরুতে নতুন ইট কাটা শুরু হয়। আশা করছি ইটের দাম কমবে। ইটের দাম প্রতি গাড়িতে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বেড়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বালুর দামও দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা বেড়েছে। চলতি বছরে এসএস পাইপের দাম তিন দফায় বেড়েছে। এভাবে চলতি বছরের মাঝামাঝিতে ১৭ শতাংশ করে দাম বাড়ানো হয়েছিল। এর আগে ৫ শতাংশ করে দাম বেড়েছিল। আবার ১০ শতাংশ করে দাম বাড়ানোর ঘোষণা এসেছে কারখানার মালিকদের কাছ থেকে।
অথৈ ডেভেলপারস্ লিমিটেডের চেয়ারম্যান শামীমুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, নির্মাণ উপকরণের দাম অনেক বেড়েছে। এত দাম দিয়ে নির্মাণকাজ করে লাভ করা সম্ভব না। আর এ জন্য আমার কয়েকটি আবাসন প্রকল্প, বাণিজ্যিক প্রকল্প বন্ধ রেখেছি। প্রকল্প না চললেও কর্মচারী-নির্মাণশ্রমিকদের বেতন দিতে হচ্ছে। জানি না, এভাবে কত দিন চলতে পারব! এ পরিস্থিতি থেকে কীভাবে উত্তরণ ঘটবে, তা জানি না।
