ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ফার্নিচার দোকানি ইয়াসিন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে; শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে সালিশের মাধ্যমে ঘটনা মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। তবে রবিউল ইসলাম দাবি করেছেন, তাঁরা আইনগত ব্যবস্থা নিতে সহযোগিতা করতে চেয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৫০ বছর বয়সী এক ফার্নিচার দোকানির বিরুদ্ধে।
অভিযোগ, দোকানে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণের পর ভয়ভীতি দেখিয়ে তার হাতে ২০ টাকার একটি নোট ধরিয়ে দিয়ে বের করে দেন অভিযুক্ত। এ ঘটনায় ঘটনার তিন দিন পর শিশুটির মা বাদী হয়ে কসবা থানায় মামলা করেছেন। অভিযুক্তের স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজনের হুমকির কারণে মামলা করতে দেরি হয়েছে বলে দাবি করেছে শিশুটির পরিবার।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে কসবা থানায় মামলাটি করা হয়। অভিযুক্ত ইয়াসিন মিয়া উপজেলার বাদৈর ইউনিয়নের হাতুরাবাড়ী গ্রামের মৃত মনতাজ মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি ফার্নিচারের দোকানের মালিক।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে শিশুটি সয়াবিন তেল কিনতে হাতুরাবাড়ী গ্রামের বাজারে যায়। তেল নিয়ে ফেরার পথে অভিযুক্ত ইয়াসিন মিয়া তাকে হাত ও মুখ চেপে ধরে নিজের দোকানে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করার পর চিৎকার করলে মেরে ফেলার হুমকি দেন। পরে শিশুটির হাতে ২০ টাকার একটি নোট ধরিয়ে দিয়ে দোকান থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে শিশুটি তার মাকে ঘটনা জানায়। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও অভিযুক্তের স্বজনদের জানান। এ নিয়ে সামাজিকভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলে মামলা করতে দুই থেকে তিন দিন দেরি হয় বলে জানিয়েছে শিশুটির পরিবার।
শিশুটির বাবার অভিযোগ, শুক্রবার রাতে বাদৈর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে দুই পক্ষের লোকজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে ১২ জনের সমন্বয়ে একটি বিচার বোর্ড গঠন করে অভিযুক্তকে ক্ষমা চাওয়ানোর মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ওই উদ্যোগে রাজি না হয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা জানান। এরপর অভিযুক্ত ইয়াসিন মিয়া, রবিউল ইসলাম, কামাল হোসেন, সহিদ মিয়াসহ প্রতিপক্ষের লোকজন মামলা করলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ কারণে পরিবারটি ভয়ে মামলা করতে সাহস পাচ্ছিল না বলে জানান শিশুটির বাবা।
অন্যদিকে, বাদৈর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম বলেন, “ধর্ষণের ঘটনায় আমরা দুই বংশের লোকজনসহ সাহেব-সর্দাররা বসেছিলাম, ঘটনাটি কতটুকু সত্য তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য। ধর্ষণের বিচার করবে প্রচলিত আইন, সাহেব-সর্দাররা নয়। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল, বিষয়টি সত্য হলে ধর্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে শিশুর পরিবারকে সহযোগিতা করা। এ ছাড়া অন্য কিছু নয়। ধর্ষক আমার আপনজন হলেও তার বিচার হতে হবে।”
এদিকে, রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে কসবা থানায় আনা হলে সে অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে পড়ে যায়। পরে পুলিশ ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পর চিকিৎসক ডা. শায়লা প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য তাকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, হাতুরাবাড়ী এলাকায় শিশু ধর্ষণের ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
