ফরিদপুর সদরের কানাইপুরের তেঁতুলতলা এলাকায় শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বালুবাহী একটি ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে প্রাইভেট কার ও ব্যাটারিচালিত রিকশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন, যিনি বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
করিমপুর হাইওয়ে থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর শহর থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি বালুবাহী ট্রাক কানাইপুরের দিকে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে হঠাৎ ট্রাকটির চাকা বিস্ফোরিত হয়ে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের ওপর উল্টে পড়ে। ঠিক সেই মুহূর্তে সামনে থাকা একটি প্রাইভেট কার ও একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা ওই ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে। এতে প্রাইভেট কারের একাংশ এবং রিকশাটি পুরোপুরি দুমড়েমুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিরা হলেন—মাগুরার মহম্মদপুর থানার আলোকদিয়া গ্রামের সুমি বেগম (৩২), তাঁর কনিষ্ঠ ছেলে শাওন (৭) এবং অজ্ঞাতনামা এক রিকশাচালক। এছাড়া দুর্ঘটনায় সুমি বেগমের স্বামী পলাশ (৩৮) গুরুতর আহত হন।
ঘটনার সত্যता নিশ্চিত করে করিমপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুস সালাম জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে ট্রাকের ওপর থেকে বালু সরিয়ে রিকশা ও প্রাইভেট কারের নিচে চাপা পড়া চারজনকে উদ্ধার করে অবিলম্বে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রথমে দুজনকে এবং পরবর্তীতে আরও একজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী বেপরোয়া ট্রাকচালকের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
