Published on
:
2 min read
‘বিয়েটা কবে করছিস?’, ‘বয়স তো অনেক হলো’, কিংবা ‘সময় কিন্তু চলে যাচ্ছে’।
বাড়িতে আত্মীয়স্বজন এলে এই ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন অনেককেই হতে হয়। এখন পাড়ার মণ্ডপে গিয়েও শান্তি নেই! সেখানেও সেই এক প্রসঙ্গ। দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝে এই ধরনের কথা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। কিন্তু পারিবারিক কোনও অনুষ্ঠান, পুজো বা বিয়েবাড়িতে উপস্থিত হলেই যেন চাপটা দ্বিগুণ হয়ে ওঠে। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের প্রধান লক্ষ্যই হয়ে দাঁড়ায় আপনার সম্পর্কের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা।
প্রথম দিকে তা সাধারণ রসিকতা মনে হলেও, ক্রমাগত এই ধরনের প্রশ্ন ও মন্তব্য অনেক সময় মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা বলছে, ২৭ থেকে ৩৫ বছর বয়সি তরুণ-তরুণীদের প্রায় ৪৯ শতাংশই এই ধরনের জবাবদিহি ও তীক্ষ্ণ মন্তব্যের ভয়ে পারিবারিক অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলতে পছন্দ করেন। কী ভাবে মানসিক ভারসাম্য ও আবেগ বজায় রেখে এই ধরনের অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি হবেন এবং আত্মীয়দের সঙ্গে সুস্থ দূরত্বের সীমানা তৈরি করবেন, মনোবিদরা তার উপায় বাতলে দিয়েছেন।
১. রসিকতার ছলে উত্তর দিন
বয়সে জ্যেষ্ঠ আত্মীয়দের সঙ্গে রূঢ় ব্যবহার না করে উত্তর দেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হলো হিউমার বা রসিকতা করা। প্রায় ৭০ শতাংশ সিঙ্গল পুরুষ ও নারী জানান, হালকা হাসির ছলে বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে নতুন কোনও প্রসঙ্গে চলে যাওয়ার পন্থা বেশ কাজে দেয়।
২. বোঝাপড়া ও সামঞ্জস্যের অগ্রাধিকার
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, যাঁরা এই ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েন তাঁরা বিয়ের বিরোধী নন। বরং সমাজের ঠিক করে দেওয়া ‘উপযুক্ত বয়সের’ চেয়ে সঠিক বোঝাপড়া ও মানসিক সামঞ্জস্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। আবার অনেকে একা থাকতেও বেশ স্বচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাই অযথা তাড়াহুড়ো না করে সঠিক মানুষের জন্য অপেক্ষা করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
৩. কম তথ্য প্রকাশ
৩০ বছর পেরোনো সিঙ্গলদের মধ্যে একটি নতুন ও নীরব কৌশল বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তা হলো নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কম আলোচনা করা। ডেটিং লাইফের আপডেট, সাম্প্রতিক ব্রেক-আপ বা মনের প্রস্তুতি সংক্রান্ত বিষয়ে আত্মীয়দের সামনে তথ্য না প্রকাশ করাই ভালো। তথ্য যত কম থাকবে, কৌতুহল ও অহেতুক আলোচনার সুযোগও তত কমবে।
৪. সরাসরি সীমানা নির্ধারণ
প্রায় ২৯ শতাংশ সিঙ্গল তরুণ-তরুণী আরও সরাসরি পথ বেছে নেন। তাঁরা ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে উত্তর না দিয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, ‘উপযুক্ত সঙ্গী পেলেই বিয়ে করব।’ এটি কোনও আত্মরক্ষামূলক কৌশল নয়, বরং স্পষ্ট বক্তব্য। এতে অহেতুক পরামর্শ দেওয়া বন্ধ হয় এবং নিজের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সীমানা সুন্দর ভাবে বজায় থাকে।