বিশ্বকাপের স্বত্ব বিক্রির যে পরিকল্পনা করেছিলেন ফিফা সভাপতি, সেই বিষয়ে সব নথিপত্র এখনও প্রকাশ করতে ‘প্রস্তুত নন’ তিনি।
কাউকে কিছু না জানিয়ে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা করায় ফিফা কাউন্সিলের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবুও সাম্প্রতিক সময়ে ‘তাকে ঘিরে’ যত বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেই সব বিষয়ের সকল নথিপত্র ও যথাযথ উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত তিনি ফিফাকে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রশ্নে যোগ্য বিবেচিত হবেন না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত জুলাইয়ে বিশ্বকাপ শেষের ১০ দিনের মাথায় আচমকা এক অভূতপূর্ব পরিকল্পনা নিয়ে হাজির হয় ফিফা, যেখানে বলা হয় ‘ফুটবলের উন্নয়নের স্বার্থে’ বিশ্বকাপ ও অন্যান্য ইভেন্টগুলো পরিচালনার জন্য একটি সহায়ক সংস্থা (এফএফই) তৈরি করা হবে। বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের ২০ শতাংশ বিক্রিও করা হবে।
ইনফান্তিনোর ওই প্রস্তাব সামনে আসতেই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। খেলাটির ‘আত্মা’ বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে, বলে তীব্র প্রতিবাদ জানায় উয়েফা। তাদের সঙ্গে কনক্যাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের প্রধানরা ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেন। যদিও এই সুইস কর্মকর্তা ‘চতুর্থ মেয়াদে’ ফিফা প্রধানের পদে থাকতে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দেন।
প্রতিবাদের ঝড় মাঝে আরও তীব্র হয়েছে, আবার ইনফান্তিনোর পক্ষেও সায় দিয়েছেন অনেকে।
বিতর্কিত ওই প্রস্তাব আসার পর প্রথমবারের মতো বৃহস্পতিবার জুরিখে সভায় বসে ফিফা কাউন্সিল। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা স্থায়ী মিটিংয়ে, গত বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারাইন বালোগনের লাল কার্ড পাওয়া এবং ফিফা প্রেসিডেন্ট ‘ডনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে’ ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা, প্রথম ফিফা শান্তি পুরস্কার ট্রাম্পকে দেওয়া এবং জাতীয় সংস্থাগুলো অর্থ বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন ইনফান্তিনো।
ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ও ফিফার সহ-সভাপতি ডেবি হিউইট পরে জানান, সভায় ওঠা অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি।
“বেশ কিছু হতাশাজনক বিষয়ের একটি হলো, যে ঘটনাগুলোর বিষয়ে আমরা বিশেষভাবে অনুরোধ করেছি সেগুলোর কোনো উত্তর পাইনি- যেমন এফএফই- এর নথিপত্র পাওয়ার ব্যাপারে।
“আমি প্রশ্ন করেছিলাম, ‘এগুলো কেন পাওয়া যাবে না?’- এবং জবাবে আমাদেরকে প্রশ্নগুলো লিখিত আকারে দিতে বলা হয়। আমার মতে, ওই প্রশ্নগুলোর উত্তর এই মানুষটিকেই দিতে হবে, আর তিনি যদি প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে না পারেন, তাহলে তিনি ফিফা সভাপতি পদে থাকার যোগ্য নয়। সভায় এই কথাটিই বলা হয়েছে।”
হিউইট বলেছেন, ইনফান্তিনোর ক্ষমা প্রার্থনায় ‘কিছুটা অনুশোচনা’ ছিল, যদিও তা সন্তোষজনক নয়।
“তিনি (ইনফান্তিনো) মূলত অনুতপ্ত পুরো পরিকল্পনাটি আগে কাউন্সিলের সামনে উত্থাপন না করায়। তবে আপনি যদি সত্যিই এতটা অনুতপ্ত হন, তাহলে সবকিছু আমাদেরকে জানান।”
