দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট সিরিজের প্রথম ইনিংসে দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর মাঠে নেমে ৩৩ বল খেলে কোনো রান না করেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন নিক ম্যাডিসন। তার এই মন্থর ও ব্যর্থ শুরুর পর চারদিক থেকে নির্বাচক ও কোচিং স্টাফদের তীব্র সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে ক্রিকেট বিশ্ব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বত্র শুরু হয় সেই পুরোনো 'আমরা আগেই বলেছিলাম' ধারার আলোচনা, যা বাঁহাতি এই ব্যাটারের টেস্ট ক্যারিয়ারের সুনামকেও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।
তবে সব সমালোচকের মুখ বন্ধ করে দিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে এক দুর্দান্ত ও ঝড়ো আক্রমণাত্মক ইনিংস উপহার দেন ম্যাডিসন। যদিও তার চমৎকার ইনিংসটি থামে ৪৮ রানে, তবুও প্রোটিয়াদের প্রথম ইনিংসের কাছাকাছি চলে যাওয়ার চাপে থাকা অস্ট্রেলিয়া দলের জন্য ওই রানগুলো ছিল অক্সিজেনতুল্য। কিংসমেডে ডারবান টেস্টের চতুর্থ দিনে টেম্বা বাভুমার দলকে কোণঠাসা করার ক্ষেত্রে শূন্য রানে আউট হওয়া এই ওপেনারের আগ্রাসী ব্যাটিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ম্যাটের রানশায়ের অসাধারণ পারফরম্যান্স এবং প্রথম ইনিংসে তার দলের রক্ষা পাওয়ার পেছনে এই ম্যাচের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। আগামী রবিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া গেবেরহা টেস্ট কিংবা সামনের ৭-৮ মাসের বিশ্বভ্রমণমূলক টেস্ট সিরিজে ৩৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন নতুন সমীকরণ শুরু হয়েছে। ক্যামেরন গ্রিন সুস্থ হয়ে দলে ফিরলে মিডল অর্ডারে পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকলেও, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজের দলে নিজের জায়গা পাকা করতে ম্যাডিসনকে ঠিক এই একই তীব্রতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘ ১৮ মাস বাইরে থাকার পরও নির্বাচকদের এই আকস্মিক জুয়া খেলার মূল উদ্দেশ্য ছিল ডেভিড ওয়ার্নারের পর একজন নির্দিষ্ট মারকুটে ওপেনিং মেজাজের ব্যাটার খুঁজে পাওয়া। সেই হিসেব অনুযায়ী স্পিনের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালনের জন্য ম্যাডিসন ছিলেন তাদের একমাত্র উপযুক্ত পছন্দ। দলের এই কৌশলগত পরিকল্পনা সফল হলে এবং ম্যাডিসন প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলে এভাবে রান করতে পারলে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে এক অভাবনীয় ভারসাম্য তৈরি হবে।
