Published on
:
2 min read
এই সময়, হলদিয়া: আজ থেকে ৩৩ বছর আগে রাজ্য তথা বিশ্বের পরিস্থিতি যেমনটা ছিল, এখন আর তা নেই। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), ডেটা সেন্টার, রোবটিক্স এবং কোয়ান্টাম প্রযুক্তির মতো বিষয় সারা বিশ্বের ‘প্রফিট পুল’ হিসেবে কাজ করছে। সে ক্ষেত্রে রাজ্যকেও এই প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ টেনে সেই ‘প্রফিট পুল’-এ সামিল হতে হবে বলে মনে করেন হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস (এইচপিএল)-এর চেয়ারম্যান পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়।
বুধবার হলদিয়ায় এইচপিএল-এর সহযোগী সংস্থা অ্যাডপার্মা-র ফেনল-অ্যাসিটোন কারখানার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পূর্ণেন্দু বলেন, ‘রাজ্যের ঘাড়ে বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা। তা দূর করতে গেলে আমাদের প্রফিট পুল-এ যোগ দিতে হবে।’ এর পাশাপাশি বিদেশের সভেরন ওয়েলথ ফান্ডের আদলে রাজ্যের শিল্পোন্নয়নের জন্য একটি পার্মানেন্ট ক্যাপিটাল ফান্ড তৈরির প্রস্তাব দেন বিশিষ্ট এই শিল্পপতি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এই ধরনের একটি ফান্ড তৈরির ক্ষমতা রয়েছে। ২০৪৭ সাল বা তার বেশি সময়ের জন্য এই ফান্ড তৈরি করা যেতে পারে। এই যাত্রাপথে আমি সামিল হতে চাই। বাংলার শিল্পকে এক নতুন উচ্চতায় দেখে যেতে চাই আমি। কারণ, আমার হাতে আর বেশি সময় নেই।’ ২০৪৭-এর মধ্যে বার্ষিক ১৪-১৫ শতাংশ হারে রাজ্যের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু তাই নয়, ১০ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষমতাও রাজ্যের রয়েছে বলে তিনি জানান।
এর প্রেক্ষিতে শুভেন্দুর চটজলদি জবাব, ‘পূর্ণেন্দুবাবুকে আমি এ রাজ্যে একটি ডেটা সেন্টার তৈরির অনুরোধ জানাচ্ছি। রাজ্য সরকার দু’হাত খুলে আপনাকে সহায়তা করবে। রাজ্যের শিল্পোন্নয়নে আপনার মতামত এবং পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই এখন আর বিদেশে থাকলে চলবে না, এখানে বেশি থাকতে হবে।’
এক সময় এই রাজ্যের উন্নয়নকল্পে কী ভাবে তিনি সামিল হয়েছিলেন তা-ও এ দিন জানিয়েছেন পূর্ণেন্দু। পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ৩৩ বছর আগে এই সংস্থায় আসি। সেই সময় রাজ্য সরকার হলদিয়ায় একটি পেট্রোকেমিক্যাল হাব তৈরিতে উদোগী হয়েছিল। বহু ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়, টাটা গোষ্ঠী থেকে এর্তিগো—দেশ-বিদেশের নানা সংস্থা প্রথমে আগ্রহ দেখালেও পরে পিছিয়ে যায়। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু তখন আমায় বাঙালি হিসেবে বাংলার জন্য কিছু করতে বলেন। তখন আমি আমেরিকায় থাকতাম। মায়ের কাছে এ বিষয়ে জানালে উনি আমাকে এই কারখানা তৈরির অনুপ্রেরণা জোগান।’
সেই সময় হলদিয়ায় ড্রেজিং মেশিন এবং ফাঁকা মাঠে গবাদি পশু ঘুরে বেড়াত। কিন্তু, আমাদের সরল চিন্তাধারা এবং বিশ্বস্ত কর্মীদের সহযোগিতায় সারা বিশ্বকে এইচপিএল দেখাতে পেরেছে একটি শিল্পনগরী কী ভাবে তৈরি করা যায়। ৫-৭ লক্ষ ডাউনস্ট্রিম জব কী ভাবে তৈরি করতে হয়, তা আমরা দেখিয়ে দিয়েছি বলে তিনি জানান।
এ প্রসঙ্গে তৃণমূল জমানায় রাজ্য সরকারের সঙ্গে এইচপিএল তথা চ্যাটার্জী গোষ্ঠীর বিবাদের কথাও তোলেন পূর্ণেন্দু। তিনি বলেন, ‘কাঁচামালের দাম, মূলধনের অভাব তো ছিলই, তার সঙ্গে পূর্বতন সরকারের সঙ্গে মনোমালিন্য এক দশকের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছে দেয় এইচপিএলকে। কিন্তু, সেই বাধা কাটিয়ে, নতুন করে মূলধন জোগাড় করে ঘুরে দাঁড়ানো আমার কাছে অগ্নিপরীক্ষার মতো।’