ঝিনাইদহের সদর উপজেলায় পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে ৪০ বছর বয়সী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক নারীকে মারধরের পর তাঁর মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং শরীরে শুকনো লাল মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় মাকে রক্ষা করতে গিয়ে তাঁর ছেলেও মারধরের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ঝিনাইদহ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারী। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলার করাতিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ বলছে, ওই গ্রামের আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পরকীয়ার সন্দেহের জেরে আনোয়ারের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আবদুর রশিদ নামের এক ব্যক্তি তাঁদের সহযোগিতা করেছেন।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁর স্বামী কাজে ছিলেন। তিনি বাড়িতে কাজ করছিলেন। এ সময় পাশের নসায়নপুর গ্রামের রসিদ নামের এক ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে এসে আনোয়ার নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তাঁকে সতর্ক করে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘ভালো হয়ে যাও, না হলে বিপদে পড়বে।’ এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আনোয়ারের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে বাড়িতে আসেন। তাঁরা পাঁচজন মিলে চুলের মুঠি ধরে তাঁকে মাটিতে ফেলে চুল কেটে দেন এবং সারা শরীরে মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে দেন।
ওই নারীর কান্না–চিৎকার শুনে ঘুম থেকে জেগে ছেলে মাকে বাঁচাতে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় পল্লিচিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেন ওই নারী। রাতে তাঁর স্বামী বাড়িতে ফিরলে তাঁকে ঘটনাটি জানান। পরে তাঁরা ঝিনাইদহ সদর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী নারীর ছেলে বলেন, মায়ের চিৎকার শুনে ঘর থেকে বের হয়ে দেখি কয়েকজন মিলে মাকে মাটিতে ধরে রেখে গায়ে মরিচের গুঁড়া মাখাচ্ছে। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও মারধর করে। আবদুর রশিদ উপস্থিত থেকে আমার মা ও আমাকে নির্যাতন করেছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েরা মিলে ওই নারীর ওপর হামলা করেছে। এই নারী হিন্দু সম্প্রদায়ের হওয়ায় এভাবে বাড়ির ওপর গিয়ে সবাই মিলে মারধর করেছে। তারা বলেন, কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এভাবে বাড়িতে ঢুকে একজন নারীকে মারধর, চুল কেটে দেওয়া ও শরীরে মরিচের গুঁড়া মাখানোর ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে রশিদের বাড়িতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। অভিযুক্ত নারীর বাড়িতে গিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে আনোয়ার ও তাঁর স্ত্রীর বক্তব্য জানতে তাঁদের একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তাঁরা রিসিভ করেননি।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলেকে আসামি করেছেন মামলার বাদী। এ ছাড়া স্থানীয় আরেক ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তদন্ত চলছে।
