

ছবি:সংগৃহীত
চলচ্চিত্র পরিচালক বি এইচ নিশান আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় ইন্তেকাল করেছেন তিনি। তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র পরিচালক বদিউল আলম খোকন। তিনি আরও জানান, মরহুমের জানাজার নামাজ বিএফডিসিতে সকাল ১১ টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
বি এইচ নিশান দীর্ঘদিন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। তার পরিচালিত সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘বদলা নেব’, ‘রাজা রানী’ ও ‘নারীর শক্তি’। ১৯৯৮ সালে মুক্তি পায় তার পরিচালিত সিনেমা ‘বদলা নেব’। এরপর ২০০০ সালে মুক্তি পায় ‘রাজা রানী’। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২১ সালে নির্মাণ করেন ‘নারীর শক্তি’ সিনেমাটি।
পরিচালনার পাশাপাশি চিত্রনাট্য, কাহিনি ও সংলাপ রচনার কাজেও যুক্ত ছিলেন বি এইচ নিশান। প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্না অভিনীত ‘লাল বাদশা’ সিনেমার কাহিনি ও সংলাপ রচনায়ও তার সম্পৃক্ততা ছিল।
৮৭ বছর বয়সে চলে গেলেন যোগেন চৌধুরী
ভারতের বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী আর নেই। রোববার সকালে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে রক্তের ক্যানসারে ভুগছিলেন এই শিল্পী। চলছিল চিকিৎসা। গত ১৪ মাসে তাকে একাধিকবার কেমোথেরাপি দেয়া হয়। সম্প্রতি মূত্রনালির সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপর থেকে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসক তুফান কান্তি দোলাইয়ের অধীনে তার চিকিৎসা চলছিল। স্বতন্ত্র রেখায় আলাদা পরিচয়: ছবিতে অভিনব রেখার ব্যবহার এবং মানুষের শরীরের বিভিন্ন ভঙ্গি ফুটিয়ে তোলার অসাধারণ দক্ষতার জন্য বিশেষ পরিচিত ছিলেন যোগেন চৌধুরী। তার আঁকার ধরন ছিল স্বতন্ত্র। রেখার টান ও আড়াআড়ি দাগের মাধ্যমও মানুষের শরীরের গঠন, আবেগ এবং মনের নানা অনুভূতি ফুটিয়ে তুলতেন তিনি। ভারতীয় আধুনিক চিত্রকলায় নিজের স্বতন্ত্র শৈলীর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছিলেন এই শিল্পী। তবে চিত্রকলার জগতেই তার অবদান সীমাবদ্ধ ছিল না। শিল্পচর্চার পাশাপাশি প্রশাসনিক ও শিক্ষাক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনের সংগ্রহশালায় অবেক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। পরবর্তী সময়ে শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে অধ্যাপক ও অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। শিল্পভাবনা, সমাজ, পরিবেশ, শিল্পকলা শিক্ষা ও সংস্কৃতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রবন্ধ লিখেছেন যোগেন চৌধুরী। তার লেখা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, পাশাপাশি প্রকাশিত হয়েছে গ্রন্থও। সাহিত্যচর্চার অংশ হিসেবে কবিতাও লিখেছেন তিনি। দেয়ালে ছবি এঁকেই শিল্পচর্চার শুরু: কলকাতায় পরিবারের সঙ্গে শুরুর দিনগুলোতে কাকার বাসভবনের দেয়ালে ছবি আঁকার মধ্য দিয়ে যোগেন চৌধুরীর শিল্পচর্চার সূচনা হয় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই শুরুর পথ পেরিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন ভারতের আধুনিক চিত্রকলার পরিচিত ও স্বতন্ত্র এক নাম। শিল্পী হিসেবে তার সৃষ্টিকর্মের পাশাপাশি শিক্ষক, লেখক ও শিল্পভাবুক হিসেবেও তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ফের বিতর্কে নুসরাত জাহান
টলিউড অভিনেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য নুসরাত জাহান মানেই যেন বিতর্ক কিংবা সমালোচনা। এবারের বিজয়া দশমীতে দেবীবরণে অংশ নিয়ে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন এই অভিনেত্রী। বিজয়া দশমীর দিনে এক পূজামণ্ডপে লালপাড় সাদা শাড়িতে সেজে দেবীবরণ সম্পন্ন করেন নুসরাত। তার সেই বিশেষ মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করেন স্বামী অভিনেতা যশ দাশগুপ্ত। পরে সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পোস্টটি সামনে আসার পর থেকেই নেটিজেনদের একাংশ তাকে কটাক্ষ করতে শুরু করে। তাদের বক্তব্য, অন্য ধর্মের মানুষ হয়ে কেন তিনি হিন্দু ধর্মের রীতিনীতি পালন করছেন? নুসরাতের ধর্মীয় নিষ্ঠা নিয়েও নানা প্রশ্ন তোলেন সমালোচকরা। এর আগেও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে এই সমালোচনার মুখে চুপ থাকেননি অভিনেত্রী। নিজের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও পছন্দের কথা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন তিনি। নুসরাতের মতে, উৎসবের আনন্দ কোনো একটি নির্দিষ্ট পরিচয়ের মধ্যে আটকে রাখা যায় না। নিজের পছন্দমতো ধর্মীয় রীতিনীতি নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের অধিকার সবারই রয়েছে এবং অন্যের মন্তব্যের কারণে নিজের বিশ্বাস বদলে ফেলতে তিনি রাজি নন। দেবীবরণ কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় পরিচয়, ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং উৎসব পালনের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

টম ক্রুজের ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা, বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ল ‘ডিগার’
হলিউড সুপারস্টার টম ক্রুজের সিনেমা মানেই শ্বাসরুদ্ধকর অ্যাকশন, চোখধাঁধানো স্টান্ট আর বক্স অফিসে সাফল্যের হাতছানি। তবে এবার সেই চেনা ছক থেকে বেরিয়ে ভিন্নধর্মী গল্পে অভিনয় করতে গিয়ে বড় ধরনের বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে তার নতুন সিনেমা ‘ডিগার’। অস্কারজয়ী নির্মাতা আলেহান্দ্রো গঞ্জালেস ইনারিতুর পরিচালনায় নির্মিত সিনেমাটি ঘিরে শুরুতে প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু বিপুল অর্থ বিনিয়োগ ও প্রচারণা সত্ত্বেও প্রেক্ষাগৃহে আশানুরূপ সাড়া না পাওয়ায় হতাশার মুখে পড়েছে সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থা। বক্স অফিস বিশ্লেষণ ও সমালোচকদের আলোচনায় উঠে আসছে সিনেমাটির ব্যর্থতার সম্ভাব্য পাঁচটি কারণ। আন্তর্জাতিক বিনোদন সাময়িকী ভ্যারাইটি, আইএমডিবি ও বিবিসির তথ্যের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনেমাটি থেকে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে প্রকৃত লোকসান নির্ভর করবে বিশ্বব্যাপী আয়, প্রেক্ষাগৃহের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক আয়ের হিসাবের ওপর। সিনেমাটির বাণিজ্যিক ব্যর্থতার অন্যতম সম্ভাব্য কারণ এর বিশাল নির্মাণ ও প্রচারণা ব্যয়। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের হিসাব অনুযায়ী, ‘ডিগার’ নির্মাণে খরচ হয়েছে ১৫ থেকে ১৮ কোটি ডলার। এর সঙ্গে প্রচারণা ও বিপণনে ব্যয় হয়েছে আরও প্রায় ১০ কোটি ডলার। সব মিলিয়ে সিনেমাটির মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৫ থেকে ২৮ কোটি ডলারে। এত বিপুল বিনিয়োগের অর্থ তুলে মুনাফার মুখ দেখতে হলে বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে সিনেমাটিকে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ কোটি ডলার আয় করতে হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু মুক্তির পর প্রত্যাশিত দর্শক সাড়া ও টিকিট বিক্রি না পাওয়ায় সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে টম ক্রুজের মতো বিশ্বখ্যাত তারকা এবং খ্যাতিমান নির্মাতার সমন্বয় থাকা সত্ত্বেও সিনেমাটির বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তে সিনেমাটি মাত্র ৮০ লাখ ডলার আয় করতে সক্ষম হয়। টম ক্রুজের মতো এ-লিস্টার তারকার জন্য এমন দুর্বল ওপেনিং নজিরবিহীন। অ্যাকশনপ্রেমী দর্শক সিনেমা হলে না আসায় শুরুতেই হোঁচট খায় ছবিটি, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে পরবর্তী সপ্তাহগুলোর মোট আয়ে। প্রচারণা কৌশলে সিনেমার মূল গল্প ও ঘরানা সাধারণ দর্শকের কাছে স্পষ্ট করা যায়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ট্রেলার দেখে দর্শক বিভ্রান্ত হন—এটি কোনো অ্যাকশন থ্রিলার, নাকি রাজনৈতিক ড্রামা। টম ক্রুজের প্রচলিত জনপ্রিয় ঘরানার সঙ্গে উপস্থাপনার অমিল দর্শকের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি করে। ‘মিশন: ইমপসিবল’ বা ‘টপ গান’-এর মতো মারকাটারি অ্যাকশনের বদলে ‘ডিগার’ মূলত একটি অদ্ভুত ও ডার্ক পলিটিক্যাল স্যাটায়ার (গাঢ় রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক ছবি)। এতে তিনি ‘ডিগার রকওয়েল’ নামের এক খামখেয়ালি তেল ব্যবসায়ীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যেখানে প্রস্থেটিক মেকআপের মাধ্যমে তার চেহারায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। ব্যতিক্রমী অভিনয়ের প্রয়াস প্রশংসিত হলেও টম ক্রুজের কাছ থেকে নিখাদ বিনোদন প্রত্যাশী মূলধারার দর্শকদের ছবিটি আকর্ষণ করতে পারেনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও নেতিবাচক ‘ওয়ার্ড অব মাউথ’: মুক্তির পর সমালোচক ও দর্শকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে সিনেমাটি। সিনেমাস্কোরে এর রেটিং নেমে আসে ‘সি প্লাস’-এ, যদিও আইএমডিবিতে রেটিং রয়েছে ৭.৫। বড় বাজেটের ছবির ক্ষেত্রে সাধারণ দর্শকের ইতিবাচক সুপারিশ বা ‘ওয়ার্ড অব মাউথ’ অত্যন্ত জরুরি হলেও ‘ডিগার’-এর ক্ষেত্রে বেশির ভাগ দর্শকের প্রতিক্রিয়া ছিল নেতিবাচক। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। যদিও ওটিটি, স্যাটেলাইট ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক স্বত্ব বিক্রি থেকে কিছু অর্থ ফেরত আসবে, তবুও প্রেক্ষাগৃহের হিসাবে এটি টম ক্রুজের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

রায়েরবাজারে সমাহিত মডেল-অভিনেত্রী তুলনা
ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন মডেল, অভিনেত্রী ও টেলিভিশন উপস্থাপিকা তুলনা আল হারুন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুর সময় তুলনার বয়স হয়েছিল ৩৯ বছর। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। বিষয়টি জানিয়েছেন তার মা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আমেনা বেগম। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে তুলনার স্তনে টিউমার ধরা পড়ে। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ঢাকার আহ্ছানিয়া মিশন হাসপাতালে তার চিকিৎসা শুরু হয়। পরে তাকে অন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। সর্বশেষ পান্থপথের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। গত ২০ অক্টোবর তুলনার শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর বায়োপসি পরীক্ষায় ক্যান্সার শনাক্ত হয়। চিকিৎসকরা জানতে পারেন, তত দিনে তার শরীরে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে। মেয়ের শেষ সময়ের কথা জানিয়ে আমেনা বেগম বলেন, ‘অপারেশনের পরের দুদিন শারীরিকভাবে বেশ ভালো ছিল। আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। হাসিখুশি ছিল আমার মেয়েটা। গতকাল সকাল থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। খুব দ্রুত অবস্থা খারাপ হতে থাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার হার্ট অ্যাটাক হয়। এরপর রাত ১১টায় তুলনাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।’ মডেলিং, অভিনয় ও টেলিভিশন উপস্থাপনার মাধ্যমে বিনোদন অঙ্গনে পরিচিতি পেয়েছিলেন তুলনা আল হারুন। ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার ও স্টাইলিস্ট হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। দীর্ঘ কর্মজীবনে দেশের ফ্যাশন ও বিনোদন অঙ্গনের বিভিন্ন আয়োজনে যুক্ত ছিলেন এই শিল্পী। পেশাগত ব্যস্ততার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রাণবন্ত উপস্থিতি ছিল তুলনার। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শোক প্রকাশ করছেন সহকর্মী, ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার, ডিজাইনার ও ভক্তরা। তুলনা আল হারুন দেশের প্রখ্যাত নাট্যকার ও নাট্যনির্দেশক আবদুল্লাহ আল মামুনের ভাই আবদুল্লাহ আল হারুনের মেয়ে। তার বাবা আবদুল্লাহ আল হারুন জার্মানিতে থাকেন।

ঐশ্বরিয়ার হাত ছোঁয়ায় সালমানকে বকেছিলেন বানসালি
বলিউডের অভিনেতা সালমান খান ও ঐশ্বরিয়া রাইয়ের প্রেমের গল্প নিয়ে আলোচনা এখনো থামেনি। ১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া হাম দিল দে চুকে সানাম সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করার সময় তাদের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। এবার সিনেমাটির শুটিংয়ের একটি ঘটনা সামনে এনেছেন অভিনেত্রী স্মিতা জয়কর। তার ভাষ্য, শুটিংয়ের সময় ঐশ্বরিয়ার হাত ছোঁয়ায় সালমানকে বকা দিয়েছিলেন পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালি। সিনেমাটিতে ঐশ্বরিয়ার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন স্মিতা। সম্প্রতি সিদ্ধার্থ কাননের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় তিনি শুটিংয়ের সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। স্মিতা জানান, সিনেমার ‘আঁখো কি গুস্তাখিয়া’ গানের দৃশ্যের শুটিং চলছিল। দৃশ্যটিতে একটি টেবিলের চারপাশ দিয়ে ঘুরে ঐশ্বরিয়ার কাছে যাওয়ার কথা ছিল সালমানের। এরপর তার দাঁড়িয়ে ঐশ্বরিয়ার দিকে তাকানোর কথা। কিন্তু শুটিংয়ের সময় সালমান ঐশ্বরিয়ার হাত ছুঁয়ে দেন, যা দৃশ্যের নির্ধারিত অংশ ছিল না। স্মিতার ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি দেখে পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালি সালমানকে প্রশ্ন করেন, ‘সালমান, তুমি ওকে ছুঁলে কেন?’ দৃশ্যটিতে সালমানের শুধু দাঁড়িয়ে ঐশ্বরিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকার কথা ছিল। তাই নির্ধারিত অভিনয়ের বাইরে গিয়ে তাকে স্পর্শ করায় আপত্তি জানান পরিচালক। স্মিতা বলেন, সালমানের ওই আচরণ দৃশ্যের পরিকল্পনার অংশ ছিল না। তার মতে, ঐশ্বরিয়ার প্রতি সালমানের ভালো লাগা থেকেই এমনটা ঘটেছিল। শুটিংয়ের সময় দুজনের সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতাও চোখে পড়ত বলে জানান তিনি। শুটিংয়ে দেরিতে আসতেন সালমান-ঐশ্বরিয়া : সাক্ষাৎকারে সালমান ও ঐশ্বরিয়ার সম্পর্কের শুরুর দিকের আরো কিছু স্মৃতি তুলে ধরেন স্মিতা। তার কথায়, হাম দিল দে চুকে সানাম সিনেমার শুটিংয়ের সময় দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠছিল। তাদের পর্দার বাইরের ঘনিষ্ঠতা অভিনয়েও প্রভাব ফেলেছিল বলে মনে করেন তিনি। স্মিতা জানান, শুটিংয়ের সময় কখনো কখনো সালমান ও ঐশ্বরিয়া একসঙ্গে দেরিতে সেটে পৌঁছাতেন। সকাল ৭টায় শুটিং শুরুর কথা থাকলেও তাদের জন্য অপেক্ষা করতে হতো অন্য শিল্পী ও কলাকুশলীদের। এ নিয়ে ইউনিটের সদস্যরা অভিযোগও করতেন। স্মিতা বলেন, অন্যরা অভিযোগ করতেন, সকাল ৭টার শিফট থাকলেও তারা ১০টা পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন, অথচ সালমান ও ঐশ্বরিয়ার দেখা নেই। কখনো কখনো দুজনকে বেলা ১১টার দিকে একসঙ্গে সেটে আসতে দেখেছেন বলেও জানান তিনি। তবে দুজনের সম্পর্কের কথা ভেবে বিষয়টি নিয়ে তিনি খুব বেশি কিছু বলতেন না। সালমান-ঐশ্বরিয়ার সম্পর্কের ইতি : সঞ্জয় লীলা বানসালি পরিচালিত হাম দিল দে চুকে সানাম মুক্তি পায় ১৯৯৯ সালে। সিনেমাটিতে সালমান খান ও ঐশ্বরিয়া রাইয়ের পাশাপাশি অভিনয় করেন অজয় দেবগন। ছবিটির গান ও প্রেমের গল্প দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। সিনেমাটিতে একসঙ্গে কাজ করার সময় সালমান ও ঐশ্বরিয়ার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়। তবে ২০০২ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর তাদের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। ২০১২ সালে সিমি গারেওয়ালের এক সাক্ষাৎকারে সালমানের সঙ্গে অতীত সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি ঐশ্বরিয়া। তিনি জানিয়েছিলেন, অতীতের সেই অধ্যায় পেছনে ফেলে এসেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে আর আলোচনা করতে চান না। তার মতে, ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য ও প্রিয়জনদের কথাও বিবেচনায় রাখতে হয়। ২০০৭ সালের এপ্রিলে অভিনেতা অভিষেক বচ্চনকে বিয়ে করেন ঐশ্বরিয়া। তাদের এক মেয়ে রয়েছে।


