মানববন্ধনে সেলিম উদ্দিন ও এমপি আরমান
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা-এমসিএইচ-এফপি ক্লিনিক ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার, নেপথ্যের মদদদাতাদের চিহ্নিত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান।
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা-এমসিএইচ-এফপি ক্লিনিক ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার, নেপথ্যের মদদদাতাদের চিহ্নিত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। এ সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা সেন্টারের সামনে ঢাকা-১৪ আসনের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে তারা এসব কথা বলেন।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, “আমরা এখানে কোনো ব্যক্তিগত কিংবা রাজনৈতিক দাবি নিয়ে আসিনি। রাড্ডা হাসপাতাল থেকে আমাদের শত শত মা ও শিশুরা বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। মানুষের ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা পাওয়ার মৌলিক অধিকার আপনারা কেড়ে নেবেন না।”
তিনি বলেন, এত দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে না কেন? গণমাধ্যমে এসেছে, যারা এই হামলা চালিয়েছে, তাদের পেছনেও মদদদাতা রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় যেন অপরাধীদের ঢাল হয়ে না দাঁড়ায়।
সেলিম উদ্দিন বলেন, রাড্ডার ঘটনাকে আড়াল করার চেষ্টা করে কোনো লাভ হবে না। এই ঘটনার নেপথ্যে যারা রয়েছে, তাদের নাম-পরিচয় জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে। সরকার তা করতে ব্যর্থ হলে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে।
হাসপাতালের ক্ষয়ক্ষতি ও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া একটি ওষুধও বাদ দেওয়া যাবে না, সব ফিরিয়ে দিতে হবে। হাসপাতালটিকে একটি অত্যাধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এর আইনগত কর্তৃত্ব নির্ধারণ করতে হবে। কোনো দালালচক্রের হাতে এই প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া যাবে না।
চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধ করতে হবে। জনগণ রাস্তায় নেমে এলে আবারও জুলাইয়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পুলিশি গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হাসপাতালটি ভাঙচুর করা হয়েছেÑআমরা সেই দৃশ্য দেখেছি। প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণও তদন্ত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মিরপুরে কোনো চাঁদাবাজ থাকতে পারবে না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ করবই। পুলিশের গুলীর ভয় দেখিয়ে আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না।
ঢাকার নাগরিক সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে সেলিম উদ্দিন বলেন, ঢাকার যানজট, জলাবদ্ধতাসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করব, ইনশাআল্লাহ। মেধা, সততা, দেশপ্রেম ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে নগরবাসীর সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা যদি সঠিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন এবং আইনগত পদক্ষেপ নেন, তাহলে আপনাদের প্রতি সন্দেহ করার কারণ থাকবে না। কিন্তু যদি কোনো তালবাহানা করেন, তাহলে আপনাদেরও দায়বদ্ধতার আওতায় আনা হবে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারার কারণ কী? আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
মানববন্ধনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এমপি বলেন, মিরপুরে সুলভ মূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অন্যতম প্রতিষ্ঠান এই রাড্ডা হাসপাতাল। শত শত মা ও শিশু এখান থেকে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। অথচ এই হাসপাতাল ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সাংবাদিকেরা নিয়মিত এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করছেন। তাঁদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই।
তিনি বলেন, আমাদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না। প্রশাসন যদি সাত দিনের মধ্যে এই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হয়, তাহলে এর চেয়েও বড় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের পরিষ্কার কথা, কোনো তালবাহানা চলবে না। গডফাদার পাবেল এবং লেলিন, শুভ্র, রাসেল ও সজীবসহ যারা জড়িত, তাদের সাত দিনের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।”
মানববন্ধনে বক্তারা রাড্ডা-এমসিএইচ-এফপি ক্লিনিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, লুট হওয়া ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী ফিরিয়ে দেওয়া, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের পাশাপাশি নেপথ্যের মদদদাতাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শাহ আলম তুহিন, জামায়াত নেতা ডা. মঈন উদ্দিন, মনিরুল ইসলাম মৃধা ও জি এম হাফিজুর রহমান প্রমুখ।
এমপি আরমানের সংবাদ সম্মেলন
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা-এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত ও মদদদাতাদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। তিনি বলেছেন, সাত দিনের মধ্যে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় মিরপুর জোন পুলিশের কাছ থেকে তদন্তের দায়িত্ব সরিয়ে কেন্দ্রীয় কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হবে।
শনিবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমি আগেও বলেছি, আবারও বলছি, রাড্ডার ঘটনা ঢাকা-১৪ আসনের শুধু মিরপুরের ঘটনা নয়; এটি সারা বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলার যে অবনতি হয়েছে, তারই অংশ মাত্র।”
তিনি বলেন, রাড্ডার ঘটনা সারা দেশে যে দখলবাজি ও চাঁদাবাজির সংস্কৃতি চলছে এবং তাতে যে রাজনৈতিক প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে, তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এই ঘটনার সঠিক বিচার এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হলে সারা দেশে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির যে নৈরাজ্য তৈরি হয়েছে, তা উল্টো দিকে নেওয়া সম্ভব হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার সমালোচনা করে আরমান বলেন, রাড্ডার ঘটনার পর সবচেয়ে বেশি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় তিনি সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান। সাংবাদিকেরা সুনির্দিষ্টভাবে অভিযুক্তদের নাম তুলে ধরলেও মিরপুর জোন পুলিশ তাদের খুঁজে পাচ্ছে না বলে জানাচ্ছে।
তিনি বলেন, সর্বশেষ গতকাল দৈনিক প্রথম আলোতে সুনির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ওই চক্র এখনো সক্রিয় এবং প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি চলছে। এরপরও পুলিশ কেন তাদের খুঁজে পাচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরমান বলেন, “এখানে আমি জনগণের পক্ষ থেকে আপনাদের মাধ্যমে সাত দিনের সময় দিতে চাই। এই সময়ের মধ্যে যদি চিহ্নিত সন্ত্রাসী পাভেল, লেলিন, হানিফ, রাসেল ও শুভ্রকে গ্রেপ্তার করতে না পারে, তাহলে এই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আমাদের আর আস্থা থাকবে না।”
তিনি আরও বলেন, সাত দিনের মধ্যে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা না হলে তদন্তের দায়িত্ব মিরপুর জোন পুলিশের কাছ থেকে সরিয়ে কেন্দ্রীয় কোনো বাহিনীর হাতে হস্তান্তরের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হবে।
আরমান বলেন, সাংবাদিকেরা চাঁদাবাজদের খুঁজে পাচ্ছেন, চাঁদাবাজির ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে, জনগণও সাক্ষ্য দিচ্ছে; সবকিছু নির্বিঘেœ চললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের খুঁজে পাচ্ছে না। এমন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাহফুজুর রহমান, মহানগরী মজলিসে শুরা সদস্য আলাউদ্দিন সোহেল, জি এম হাফিজুর রহমান প্রমুখ।
